শিরোনামঃ

বরগুনার পাথরঘাটায় আ’লীগের নেতৃত্বে রাজাকারের সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের প্রতিবাদ-দেশবাংলা খবর২৪

বরগুনার পাথরঘাটায় আ’লীগের নেতৃত্বে রাজাকারের সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের প্রতিবাদ-দেশবাংলা খবর২৪ 



স্টাফ রিপোর্টারঃ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা আ’লীগের সম্মেলনের ৫ মাস পর গত মঙ্গলবার পৌরসভাসহ সাত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়। এ কমিটিতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাজাকার পরিবারের সন্তানদের পদ পদবী দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে।বুধবার (৩ মার্চ) বেলা ১১ টায় পাথরঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবে আওয়ামলীগ ও যুবলীগের একাংশের সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সন্তান‌ সাকিল আহমেদ শিবু। শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ও বীরঙ্গনা লাইলী বেগমের ছেলে মিজানুর রহমান আবু, মুক্তিযোদ্ধা মনমথ রঞ্জন মিস্ত্রি, পাথরঘাটা উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম মিরাজ।সাকিল আহমেদ শিবু বলেন, পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী-যুবলীগ কমিটিতে আছি ১৮ বছর ধরে। সব সময় আ’লীগের পক্ষে কাজ করেছি, বিএনপি, জামায়াতের আমলে নির্যাতিত হয়েছি। এখন আ’লীগের স্থানীয় নেতারা মোটা অংকের টাকার বিনিময় রাজাকার পরিবারে সন্তানদের আ’লীগ কমিটিতে বড় পদ পদবি দিয়ে তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করছে। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে রাজাকার পরিবারের আঃ রহিম ফকিরের ছেলে ইব্রাহীম মোক্তারকে সাধারন সম্পাদকের পদ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, পাচ মাস আগে সম্মেলন কালে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন থেকে পাচঁ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। যার মধ্যে আমি সহ ২ জন ছিলাম মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে সদস্য। অথচ আমরা বঞ্চিত হলাম। একই অভিযোগ করেন কাঠালতলী ইউনিয়নের শহীদ ও বীরঙ্গনা পরিবারের সন্তান মিজানুর রহমান আবু।এসময় তারা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি আলহাজ আবদুর রশিদ স্বাক্ষরিত ১৯৭১ সালে সরাসরি স্বাধিনতার বিরোধিতাকারীদের একটি তালিকা প্রদর্শণ করা হয়। যাতে  ৮(আট) নম্বর ক্রমিকে মো. ইব্রাহিম খলিলের বাবা আবদুর রহিম ফকিরের নাম রয়েছে। একই তালিকায় কাঠালতলী ইউনিয়ন কমিটির  নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি মো, শহিদুল ইসলাম পিতা মোজ্জামেল হোসেন ( তালিকায় ক্রমিক ৩৭) এবং সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াসউদ্দিন নিরু পিতা আবদুল খালেক শিকদারের ( তালিকায় ক্রমিক ৩১) নাম রয়েছে।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সূত্রে জানা যায়,গতবছরের অক্টোবর মাসে পাথরঘাটা উপজেলার পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার কমিটি হঠাৎ করেই চলতি মাসের ২ তারিখ ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে তিনজন তালিকা ভুক্ত রাজাকারের সন্তানের নাম রয়েছে। এতে করে আ’লীগের আনেক ত্যাগী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ক্ষোভ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রভাব পরবে বলেও জানান যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম মিরাজ।

এব্যপারে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাবির হোসেন জানান, সম্পূর্ন গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ও সঠিক ভাবে উপজেলা কমিটি সমুহ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ২ জন গত ১০ বছর ধরে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছিল। হঠাৎ এমন অভিযোগ অনভিপ্রেত। যদি স্বাধীনতা বিরোধি হয় সে ব্যপারে আওয়ামী লীগ বরদাস্ত করবে না।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন দাদু জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগ ইউনিয়ন পর্যায়ে যাকে নেতা বলে মনে করেছেন তাকেই আমরা পদ মর্যাদায় রেখেছি। এই কমিটি গঠনে কোন কালো টাকার প্রভাব পরেনি। কমিটি ঘোষণা কালে স্থানীয় দুই সাংসদ উপন্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।

No comments

-->