শিরোনামঃ

রংপুর মেডিকেল থেকে ছাত্রীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, থানায় মামলা-দেশবাংলা খবর২৪

রংপুর মেডিকেল থেকে ছাত্রীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর, থানায় মামলা-দেশবাংলা খবর২৪ 



সোহাগ ইসলাম নীলফামারীঃ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গতকাল সোমবার দুপুরে এক কলেজছাত্রীর লাশ রেখে তরুণের পালানোর ঘটনায় থানায় রাতেই মামলা হয়েছে। ওই ছাত্রীকে অপহরণ ও মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগে ওই তরুণসহ দুজনকে আসামি করে নীলফামারীর জলঢাকা থানায় মামলাটি হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর তরুণীর পরিবারের কাছে তাঁর লাশ হস্তান্তর করা হয়।মামলার আসামিরা হলেন সদরুল করিম ওরফে ফয়সাল (২৪) এবং রেজভি আহমেদ (১৯)। ফয়সাল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং রেজভি উচ্চমাধ্যমিক পাস।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কলেজছাত্রীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এসেছিলেন ফয়সাল। ১১টা ৫৫ মিনিটে ছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। এরপর লাশটি হাসপাতালেই ফেলে পালিয়ে যান ফয়সাল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রারে দুর্ঘটনায় মেয়েটি আহত হয়েছিল বলে লেখা হয়েছে।নিহত ছাত্রীর নাম রুবাইয়া ইয়াসমিন (২২)। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। তাঁর বাড়ি নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নে। বাবার নাম আবদুর রাজ্জাক। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেওয়ার আগে রুবাইয়াকে প্রথমে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়েছিলেন ফয়সাল।

স্বজন ও জলঢাকার স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, গতকাল সকাল নয়টার দিকে বাড়ির পাশের জলঢাকার টেংগনমারী বাজারের রজনীগন্ধা হোটেলের সামনে কচুকাটা ইউনিয়নের বর্ম্মতল গ্রামের মো. আবদুল্লাহর ছেলে ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী রেজভি জোর করে রুবাইয়াকে তাঁদের মোটরসাইকেলে তুলে নেন। চার কিলোমিটার দূরে রাজারহাট এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান রুবাইয়া। পরে ওই তরুণসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ফয়সাল তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানেই মেয়েটি মারা যান। রুবাইয়ার মৃত্যুর খবর শুনে লাশ ফেলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান ফয়সাল।

নিহত ছাত্রীর বাবা আবদুর রাজ্জাক আজ প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ থাকার কারণে তাঁর মেয়ে টিউশনি করতেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে বাড়ি থেকে হেঁটে টিউশনি করতে যাওয়ার পথে ফয়সাল ও রিজভী জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘ওই ছেলের (ফয়সালের) সঙ্গে আমার মেয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না। অপহরণের পর আমার মেয়ে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণে তাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

No comments

-->