শিরোনামঃ

নীলফামারীতে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণে মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত।

নীলফামারীতে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণে মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ: নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত।

জিকে রউফ, স্টাফ রিপোর্টারঃ 

নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের নিত্যানন্দী পাটোয়ারীপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় কয়েকজন আবেদনকারীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়েই মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে গোপনে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ও সভাপতি মর্মে লিখিত অভিযোগ পেয়ে ওই মাদ্রাসার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার।

অভিযোগে বর্ণিত, গত ০২রা ফেব্রুয়ারী,২০২১ জেলা শিক্ষা অফিসের ৩য়তলার একটি কক্ষে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের নিত্যানন্দী পাটোয়ারী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণীর দুটি পদের প্রতিটি পদের জন্য দুজন করে প্রক্সি পরীক্ষার্থী দ্বারা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ পরীক্ষায় কয়েকজন আবেদনকারী বিধি মোতাবেক আবেদন করলেও, কোন কারণ ছাড়াই ওই সমস্ত আবেদনকারীদের বর্ণিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে সুপারিনটেনডেন্ট ও সভাপতির সম্মিলিত যোগসাজসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করলে, জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে প্রথমে মৌখিক ও পরে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারা ভুক্তভোগীরা। ফলে, উক্ত মাদ্রাসার আয়োজিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো: শফিকুল ইসলাম।

বিষয়টি নিয়ে নিত্যানন্দী পাটোয়ারী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ও টুপামারী ইউ,পি সদস্য মো: হাবিবুর রহমান সেবু’র সাথে যোগাযোগ করা হলে,তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবেন না বলে, সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দিয়ে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।পরে নিত্যানন্দী পাটোয়ারী পাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো: ময়নুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনিও ব্যস্ত রয়েছেন বলে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের নিত্যানন্দী পাটোয়ারীপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় যায় নিউজ ব্রডকাষ্টিং সার্ভিস (এন.বি.এস) এর নীলফামারী জেলার অনুসন্ধ্যানী রিপোর্টার। সাংবাদিককে দেখেই এগিয়ে এসে জড়ো হতে থাকে স্থানীয়রা।

মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির কথা বলতেই ক্রমান্বয়েই স্থানীয়দের একের পর এক বিভিন্ন ধরণের অভিযোগের তীর উঠে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতির দিকে। এসময় ওই এলাকার মৃত মোবশ্বের হোসের এর ছেলে আকবার আলী, মো: তফর উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান, মৃত মমতাজ আলীর ছেলে ময়নুল ইসলাম, মোশারফ হোসেনের ছেলে খাদেমুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “মাদ্রাসার সুপার ময়নুল ইসলাম ও সভাপতি হাবিবুর রহমান সেবু মিলে যোগসাজস করে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে মাদ্রাসায় কোন উন্নয়নমুলক কাজ না করেই সরকারী বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি কোন কারণ ছাড়াই আমাদেরকে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছেন”।এদিকে, “স্থানীয় বিভিন্ন দাতা কর্তৃক প্রদত্ত মাদ্রাসার নামীয় প্রায় ২০ বিঘা সম্পত্তি বর্গা দিয়ে বর্গার টাকা মাদ্রাসার কোন উন্নয়ন খাতে ব্যবহার না করে বাৎসরিকের পুরো টাকাই আত্মসাৎ করেন মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপার।

শুধু তাই নয়, মাদ্রাসার নামীয় ১.৫ একর জমিতে পুকুর খনন পূর্বক মৎস চাষের নিমিত্বে ১ লক্ষ ষাট হাজার টাকার হাতিয়ে নিয়ে ১০ বৎসরের চুক্তিবদ্ধ করে।চুক্তি অনুসারে ওই মাদ্রাসার নামীয় ১.৫ একর জমিতে পুকুর খনন ও খননকৃত জমির বালু অবাধে বিক্রয় করছে ওই এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন ঠিকাদার” সাংবাদিকদের কাছে চুক্তিনামার কপিসহ এমন তথ্য প্রদান করেন খোদ

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মশিউর রহমান।একদিনের অনুসন্ধ্যানেই বেড়িয়ে আসে সভাপতি ও সুপারের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারী বরাদ্দসহ মাদ্রাসার নামীয় বিভিন্ন অর্থ আত্মসাৎ এর বিস্তারিত আরো জানতে চোখ রাখুন ২য় পর্বের রিপোর্টে।

No comments

-->