শিরোনামঃ

'ভ্যালেন্টাইনস ডে' : আল-হেদায়েতুল্লাহ্

'ভ্যালেন্টাইনস ডে' : আল-হেদায়েতুল্লাহ্

বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১৪ই ফেব্রুয়ারী মহাসমারোহে পালিত হয়ে চলছে 'ভ্যালেন্টাইনস ডে' নামে। ফেব্রুয়ারী মাসকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'ভালোবাসার মাস' নামে। কিন্তু ঠিক কি কারনে এই দিনটিকে ভালোবাসার দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে? জানতে হলে ইতিহাসের পাতা উল্টে পিছিয়ে যেতে বেশ খানিকটা অতীতে। হারিয়ে যেতে হবে প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে। তবে সে অতীতের গল্প কোনো প্রেমীক-প্রেমীকার বিরহবেদনা বা প্রতিকূলতাকে জয় করে মিলনের আনন্দ ঘিরে নয়। এক্ষেত্রে গল্পটা একটু অন্যরকম।

ক্যাথেলিক এনসাইক্লোপিডিয়া অনুযায়ী তখন রোমে সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের রাজত্ব চলছে। যার আর এক পরিচয় ছিল ক্লডিয়াস দ্যা ক্রুয়েল নামে। সে সময় রোমে সৈরাতন্ত্রের ধ্বজা মাথা উচিয়ে আছে। অবাধে চলছে নিষ্ঠুরতার প্রদর্শনী। সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস তখন নিজের শক্তি ও ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাস্ত। এই হেতু তিনি তাঁর সামরিক শক্তিকে আরো সমৃদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করে তুলতে প্রয়োজন ছিল প্রচুর লোকবলের। কিন্তু সেখানেই সমস্যার সূত্রপাত, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহী লোকের অভাব দেখা দিল। এই সমস্যার কারন হিসেবে ক্লডিয়াস রাজ্যবাসীর স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি টানকে দায়ি করেন। এই সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস তাঁর রাজ্যে সমস্ত বিবাহ কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এ ঘোর সংকটকালে সম্রাটের সেচ্ছাচারীতার মৌন সমর্থন করার পরিবর্তে এহেন অন্যায় ডিক্রীর বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর সাহস দেখিয়েছিলেন রোমের এক যাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি ক্লডিয়াসের আদেশ অমান্য করে গোপনে প্রেমীদের বিবাহের ব্যাবস্থা চালিয়ে যান। এই ঘটনা সম্রাটের কানে পৌছলে তিনি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যু দন্ডের আদেশ দেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গ্রেপ্তার করা হয় ভ্যালেন্টাইন কে। চলে অকথ্য নির্যাতন। অবশেষে ১৪ই ফেব্রুয়ারী ভ্যালেন্টাইনের শীরচ্ছেদ করা হয়। শুধুমাত্র প্রেমের স্বার্থকতার স্বার্থে না ফেরার দেশে পাড়ি জমাতে হল ভ্যালেন্টাইনকে। ভ্যালেন্টাইনের এই আত্মত্যাগ কে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্য প্রতি বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারী দিনটিকে ভালোবাসার দিন হিসেবে পালন করা হয়।

তাঁরপর সময়ের স্রোতে ভ্যালেন্টাইন হারিয়ে গেছে অতীতের পাতায়, মানুষের মনের থেকে অতীতের এই নৃশংসতার ছাপ হালকা হয়েছে অনেকটা। ভ্যালেন্টাইনস ডে র মানেও বদলেছে, একদিনের মেয়াদ বেড়ে হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ। তাঁর ওপর চেপে বসেছে ভোগবাদের থাবা। সব মিলিয়ে ভ্যালেন্টাইনস ডে হয়ে দাড়িয়েছে বিনোদনের এক মাধ্যম। কিন্তু ভ্যালেন্টাইনস ডে'র আসল কারন, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগ কি আদৌ মনে রেখেছে মানুষ? নাকি বিদেশী সভ্যতাকে আপন করার,  মেতে থাকার উপলক্ষ হিসেবেই ব্যাবহার করা হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারী দিনটিকে? সে হিসেবের দিকে না এগিয়ে শুধু বলবো- ভালো থাকুক ভালবাসা। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল ভালোবাসার মানুষগুলো।

No comments

-->