শিরোনামঃ

স্বামীর হাতে স্ত্রীর খুন

 স্বামীর হাতে স্ত্রীর খুন


নরসিংদীর জেলা, মনোহরদী উপজেলা, চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


মনোহরদী থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘাতক স্বামীর নাম মো. আসিফ (২৫)। আসিফ এই গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। গৃহবধূর নাম পারভীন আক্তার (২০)। তার পৈত্রিক নিবাস একিই উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের খালিয়াবাইদ গ্রামে। পারভীনের বাবার নাম আব্দুল মান্নান।


গৃহবধূর ভাই স্বপন মিয়া জানান, ১০ মাস আগে আসিফের সঙ্গে পারভীনের পারিবারিক ভাবে বিয়ে আবদ্ধ হয়। আসিফ নরসিংদীর একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিকের চাকরী করতো। বিয়ের পর করোনাকালীন সময়ে তার চাকরী চলে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়ে।


পরবর্তীতে তারা আমাদের বাড়ীতেই থাকতে থাকে। গত ২২ দিন আগে পারভীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামীর বাড়ীতে তুলে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার কয়েকদিন পরই পারভীনের সকল স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেয় আসিফ। গয়না বিক্রির টাকা দিয়ে সে নিয়মিত মাদক সেবন করত। এসব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়।


পারভীন বিষয়গুলো আমাদেরকে জানিয়েছিল।

তিনদিন আগে বোনের সাথে সর্বশেষ কথা বলেন তার মা। তখন কথাবার্তা ছিল স্বাভাবিক আর দশটা দিনের মতো। শনিবার সকাল থেকে পারভিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাছাড়া আসিফও ফোন রিসিভ না করায় সন্দেহ হয়। বিকেলে ওই বাড়ীতে গিয়ে তাকে না পেয়ে আশপাশের বাড়ীতেও খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। রবিবার সকালে পাশের বাড়ী থেকে একজন ফোনে জানান পারভীনের লাশ পাওয়া গেছে। পরে আমরা সেখানে গিয়ে শ্বশুরের খাটের নিচে তার লাশ দেখতে পাই। পরবর্তীতে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।


রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাষরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শ্বশুর খোরশেদ আলমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

No comments

-->