শিরোনামঃ

নীলগাইটিকে ধরার পরেই জবাইয়ের চেষ্টা, গলায় পড়েছে ১৭টি সেলাই-দেশবাংলা খবর২৪

নীলগাইটিকে ধরার পরেই জবাইয়ের চেষ্টা, গলায় পড়েছে ১৭টি সেলাই-দেশবাংলা খবর২৪ 



মোঃসোহেল রানা,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

নীলগাইটিকে ধরার পরপরেই জবাইয়ের চেষ্টা, গলায় পড়েছে ১৭টি সেলাই।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তে বিরল প্রজাতির নীল গাইটিকে আটক করার পর এটিকে রক্ষার বদলে জবাই করে মাংস বাঁটোয়ারা করে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল স্থানীয় ব্যাক্তিরা । এজন্য তারা প্রাণীটির গলায় ছুরিও চালায়।তবে স্থানীয় ক্যাম্পের বিজিবি ও ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে প্রাণীটি রক্ষা পায়। ১৭টি সেলাই দিয়ে নীল গাইটিকে সারিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে উপজেলা প্রাণীবিভাগ। এদিকে, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত নীলগাইটি বিজিবির কাছেই থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিজিবির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয় বলে জানা যায়।গত মঙ্গলবার দুপুরে সীমান্তে ছুটোছুটি করার সময় ধাওয়া করে নাগর নদীর তীর এলাকায় বিরল প্রজাতির এই নীল গাইটিকে আটক করেন স্থানীয়রা।

ওই এলাকার সাংবাদিক  জানিয়েছেন, আটক করার পরে দুর্লভ প্রাণীটিকে রক্ষার চেষ্টা না করে এর মাংস খাওয়ার জন্য জবাই করার প্রস্তুতি নেন স্থানীয়রা।প্রাণীটিকে চেপে ধরে এর গলায় ছুরি চালানোও হয়। ঠিক সেসময়ে খবর পেয়ে পাশের কান্তিভিটা ক্যাম্পের বিজিবি এরং পাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের সময়মতো হস্তক্ষেপে বেঁচে যায় বিরল প্রজাতির প্রাণীটি। তারা গ্রামবাসীকে প্রাণীটির গুরুত্ব বুঝিয়ে সেটিকে রক্ষা করে কান্তিভিটা বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাণীটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. নিয়ামুল শাহাদাৎ জানিয়েছেন, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে আসা নীলগাইটি স্থানীয়রা নাগর নদীর তীরে আটক করে। তাদের হাত থেকে নীলগাইটি উদ্ধার করলেও এটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিজিবি আমাদের খবর দেয়। পরে নীলগাইটির গলায় ১৭টি সেলাই দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহান শাহ আকন্দ জানান, নীলগাইটি নিয়ে যাওয়ার জন্য ক্যাম্পে গিয়েছিলাম। বিজিবি তাদের হেফাজতে রেখে নীলগাইটিকে সুস্থ করতে চায়, আমরাও সে ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছি।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাসিরুল ইসলাম জানান, গাইটিকে রংপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। তারা সম্মতি দিয়েছে। বন বিভাগ না নিলে নীলগাইটিকে রংপুর চিড়িয়াখানায় রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

বিজিবি ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহিদুল ইসলাম জানান, নীলগাইটি আমাদের কাছে থাকবে। আমরা সুস্থ করতে জোর চেষ্টা করছি। সুস্থ হলেই বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


No comments

-->