শিরোনামঃ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ‘রাজনীতি’ বনাম ‘গণতন্ত্র’-দেশবাংলা খবর২৪

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: ‘রাজনীতি’ বনাম ‘গণতন্ত্র’-দেশবাংলা খবর২৪ 











নিউজ ডেক্সঃ বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক নেতৃত্বই শুধু নয়, তাদের কর্মী এবং অন্ধ সমর্থকরাও একইরকম কু-তার্কিক এবং মিথ্যাবাদী। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাকে ঘিরেও এরা মিথ্যার একটি বাতাবরণ তৈরি করে এবং কুতর্কের মাধ্যমে নিজেদের পক্ষে বিভিন্ন অপব্যাখ্যা দাঁড় করায়। গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমানসহ বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাদের সম্পৃক্ততার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্ন অপব্যাখ্যা দিয়েই যায়।

একটি বড় কুতর্ক যেটা তারা হাজির করে তা হলো, বিএনপির আমলে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে যদি তা বিএনপির দোষ হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ আমলে ঘটা পিলখানার হত্যাযজ্ঞের জন্যও আওয়ামী লীগই দায়ী। এই নির্মম ঘটনার সুবিধাভোগী বা বেনিফিশিয়ারি যদি আওয়ামী লীগ হতো, তাহলেও এসব কুতার্কিকের পক্ষে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যেতো।

এই মূর্খদের কে বুঝাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার ৫০ দিনের মাথায় পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটে। ৫০ দিন বয়সের একটি সরকারের মন্ত্রিপরিষদ ছাড়া আর কোথাও তার অস্তিত্ব থাকে না। দুই মাস বয়সের একটি সরকার থাকে প্রচণ্ড অসংগঠিত ও দুর্বল। পিলখানার ঘটনাটি বরং ঘটেছিল দুই মাস বয়সের একটি নতুন সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্যই। আওয়ামী লীগের শত্রুপক্ষই পিলখানার ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে।সবচেয়ে বড় কথা, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচার স্বচ্ছতার সঙ্গে করেছে। পিলখানা হত্যা মামলায় ৮৫০ জনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়, তাদের বেশিরভাগই বিলুপ্ত ঘোষিত বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআরের সদস্য ছিল। বিএনপি এবং এমনকি আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও এই মামলার আসামি ছিল।

৫ নভেম্বর ২০১৩ সালের ঘটনায় আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় আরও ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আওয়ামী লীগ কোনও ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজায়নি। অন্যদিকে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা বিএনপি’র আমলে ২০০৪ সালে সংঘটিত হয়, যা বিএনপি ক্ষমতায় আসার ৩ বছরের মাথায়। বিএনপির আমলে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেই বিএনপিকে দায়ী করা হয় না। এছাড়া যে কারণগুলো অকাট্যভাবে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে সেগুলো হলো—

(১) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর, হামলাকারীদের না ধরে উল্টো আহত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা করেছিল। হামলায় আহত মানুষগুলোর ওপর বিএনপি-জামায়াত জুলুমবাজ সরকারের পেটোয়া বাহিনী নিক্ষেপ করেছিল কাঁদানে গ্যাস। আহতদের সাহায্য না করে অমানুষের মতো নির্মমভাবে করেছিল লাঠি চার্জ।

(২) ঘটনা ঘটার পরপরই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ঘটনার দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়েই চাপিয়েছিল। এমনকি সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন শেখ হাসিনা তার ব্যাগে করে বিস্ফোরক/গ্রেনেড নিয়ে এসেছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।

(৩) রাতের অন্ধকারে ফায়ার ব্রিগেড দিয়ে সব আলামত ধুয়ে-মুছে ধ্বংস করা হয়েছিল।

(৪) অবিস্ফোরিত গ্রেনেড ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করে পরবর্তী ৯ ঘণ্টার মধ্যে সেগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল।

(৫) হামলার পর আওয়ামী লীগ নেতারা মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ।

(৬) হামলার সময় যেসব পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা দায়িত্বে অবহেলা করেছিল পরবর্তী সময়ে তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল।

(৭) বিএনপি-জামায়াত জোট ২১ আগস্ট ঘটনা তদন্তে ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে চেয়ারম্যান করে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে। মাত্র এক মাস ১০ দিনের মাথায় ওই বছরের ২ অক্টোবর তদন্ত কমিশন সরকারের কাছে ১৬২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করে বিচারপতি জয়নুল আবেদীন মূলত জাতির সঙ্গে তামাশা করেন। এই ফরমায়েশি তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে পুরস্কার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

(৮) বিএনপি-জামায়াত সরকার আসল অপরাধীদের বাঁচাতে জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।

(৯) পরবর্তী সময়ে, ২১ আগস্টের হামলা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাস ছিল বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন ডিজিএফআই-এর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাদিক।

(১০) মুফতি হান্নানের একটি সাক্ষাৎকারে পরবর্তী সময়ে জানা যায়, তারেক রহমান এবং হাওয়া ভবনের প্রত্যক্ষ মদতে এই হামলা সংঘটিত হয়। 

(১১) তারেক রহমানের সঙ্গে এই হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছিল জামায়াতের নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের আমির আব্দুস সালাম এবং বঙ্গবন্ধুর ঘাতক মেজর নূর। 

(১২) সর্বশেষ,২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের আগে বিএনপি নেতা তারেক রহমান লন্ডন থেকে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় দাবি করেছিলেন কোনও আগাম ঘোষণা ছাড়াই ২১ আগস্ট মুক্তাঙ্গন থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সমাবেশ সরিয়ে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ।অথচ, ২০০৪-এর আগস্ট মাসের প্রথম সারির প্রায় সবক’টি জাতীয় দৈনিকে সমাবেশের ২ দিন আগে, ১৯ আগস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, যাতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল ২১ আগস্ট ৩টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সমাবেশের কথা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা।ঘুরেফিরে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যেই তারেক রহমান আবারও মিথ্যাচার করেন।

উল্লিখিত ঘটনাগুলো কোনও সৎ ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারবে না। যাদের ন্যূনতম বিবেক বোধ এবং সততা আছে এবং যারা বিএনপি-জামায়াতের দলীয় রাজনীতি দ্বারা পুরোপুরি অন্ধ নন, তারা সকলেই বুঝতে পারবেন কী ভয়াবহ অপরাজনৈতিক দল বিএনপি-জামায়াত এবং কী ভয়াবহ তাদের মিথ্যাচার!এতকিছুর পরেও বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ মনে করেন—‘২১ আগস্টের ঘটনা আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে কোনও ‘ক্ষত’ই না, একটি দুর্ঘটনা মাত্র। এটা নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করার কিছুই নেই।’

আপনার মধ্যে ন্যূনতম মনুষ্যত্ববোধ বেঁচে থাকলে বুকে হাত দিয়ে বলুনতো, এদের অপরাজনীতির বিপক্ষে শুধু রাজনীতিই করা যায়, কিন্তু এদের সঙ্গে কি ‘গণতন্ত্র’ সম্ভব? এরা কি গণতন্ত্রের উপযোগী?একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার জন্য বিএনপি এবং অন্য জড়িতরা ক্ষমা প্রার্থনা না করলে,পেট্রোল বোমায় এদেশের নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মারার জন্য দুঃখ প্রকাশ না করলে, এদের সঙ্গে রাজনীতি করা তো সম্ভব, কিন্তু গণতন্ত্রের চর্চা করা সম্ভব কিনা; বিবেকবান মানুষের কাছে আমি এই প্রশ্নটা করতে চাই।

লেখক: 

মোহাম্মদ এ. আরাফাত,চেয়ারম্যান, সুচিন্তা ফাউন্ডেশন

No comments

-->