শিরোনামঃ

বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ এর নির্বাচনী অঙ্গীকার

বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ এর নির্বাচনী অঙ্গীকার



শেখর চন্দ্র সরকার স্টাফ রিপোর্টার 



উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া উত্তরবঙ্গের রাজধানী নামেও খ্যাত বগুড়া জেলা। বগুড়াতে শোরগোল করে চলছে পৌরসভা নির্বাচন। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম ও 'ক' শ্রেণীর পৌরসভা, যার সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ২১ টি ও সংরক্ষিত আসন ৭ টি।আসছে আগামী ২৮ শে জানুয়ারি বগুড়া পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী চারজন, তার মধ্যে বিএনপি'র রেজাউল করিম বাদশা, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ওবায়দুল হাসান ববি, স্বতন্ত্র থেকে আব্দুল মান্নান আকন্দ। 

স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনী প্রচারণা করে যাচ্ছেন আব্দুল মান্নান আকন্দ প্রতীক পেয়েছেন জগ। তার যে নির্বাচনী ইশতেহার তা গ্রহণযোগ্য ও ঈর্ষান্বিত! আব্দুল মান্নান আকন্দ মানুষ হিসেবে একজন স্পষ্টভাষী ও সুন্দর মনের মানুষ। এই স্পষ্টভাষী জননেতা যেন বগুড়াকে নিজে হাতে সাজাতে চান! আব্দুল মান্নান আকন্দ তার নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছেন বগুড়াবাসীর উন্নয়নের স্বর্ণযুগ, তার ইস্তেহারে রয়েছে বগুড়া পৌরসভার মধ্যে সকল এনজিও'র ঋণগ্রস্ত  মা-বোনদের সকল ঋণ মওকুফ করে দেবেন যদি তিনি জয়লাভ করতে পারেন! এমনকি তিনি এও বলেছেন যে  যতক্ষণ পর্যন্ত মা-বোনদের ঋণের টাকা পরিশোধ না করতে পারবো ততোক্ষণ পর্যন্ত আমি শপথ গ্রহণ করব না।  তিনি আরো বলেন আমাদের দেশে যারা গরীব ঘড়ের সন্তান তারা সাধারনত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তাই কোন শিশুকে যেন খাদ্যের জন্য পড়াশোনার ব্যাঘাত না ঘটে বা না খেয়ে কষ্ট করে স্কুল করতে না হয় সেজন্য তিনি দুপুরের একবেলার মিল খাদ্য প্রতিটি স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।পৌরসভার মধ্যে যত গরিব বৃদ্ধ বাবা-মা আছেন যাদের সন্তান থেকেও নেই দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতে পারে না বা পোশাক তেল সাবান জোটে না এমন গরীব বাবা-মাকে খাদ্য সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

আব্দুল মান্নান আকন্দ বগুড়া পৌরসভা একটি  নাম বাকি সব শ্রেণীর সব পেশার মানুষ মন থেকে বগুড়া পৌর পিতা হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় তার জীবনের ইতিহাস তুলে বলেন আমি আব্দুল মান্নান আকন্দ একজন সাধারন পরিবারের সন্তান মায়ের সংসারে অনেক কষ্টের দুবেলা দু'মুঠো ভাত খেয়ে বড় হয়েছি। শুধু তাই নয় বড় হতে গিয়ে মানুষের দোকানের কাজ করেছি তারপর থেকে জীবনযুদ্ধে চলতে চলতে আজ এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি । 

আবদুল মান্নান আকন্দ আরো বলেন, আমার হয়তোবা পৌরপিতা হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই তবু একই কথা সত্যি যে আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। আমার জন্মভূমি আমার নারী বগুড়ার মাটিতে পোঁতা রয়েছে । কিন্তু অন্যান্য বড় বড় দলের যে নেতারা বগুড়া পৌর পিতা হওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছেন তাদের নারী কারোরই বগুড়ায় প্রদানেই তাদের দেশের বাড়ি বগুড়া বগুড়া পৌরসভার বাইরের তাদের জন্মস্থান।

তিনি বগুড়া পৌর বাসীকে ওয়াদামনে করে দিয়ে  বলেন,বগুড়া পৌর পিতা হতে পারলে আমি বগুড়াকে উন্নয়নশীল একটি পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। বগুড়া পৌরসভার অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে, বগুড়া বর্তমান পৌরসভার অনেক রাস্তায় চলার অযোগ্য হয়ে পড়েছে, কোথাও বা কালবার্ড নেই কোথাও পানির নামার ড্রেন,বগুড়া পৌরসভার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে করতোয়া নদী, নদী খননের কোন ব্যবস্থা নেই একটুখানি বৃষ্টি হলেই বগুড়াতে জমে উঠে পানি। আমার আপনার প্রাণের শহর  বগুড়া জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে এই কষ্টকে লাঘব করতে আমাকে একটিবার বগুড়া পৌর পিতা হিসেবে আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। 

বগুড়া পৌরসভার মধ্যে যতগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে তারা দেওয়া স্কুলব্যাগ রয়েছে। কতজন শিক্ষার্থী বগুড়া পৌরসভার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় লেখাপড়া করেন তার হিসাব তার কাছে আছে। শুধু তাই নয় তাদেরকে করোনাকালীন সময়ে খাবার তুলে দিয়েছেন তিনি। প্রতিটা গরিব পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ সবসময় আছেই।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তিত্ব বলে ফেললেন মান্নান ভাই শুধু মান্নান ভাইই নয় আমাদের কাছে তিনি দেবতা। মান্নান ভাইয়ের কীর্তি বলতে গেলে শেষ হবে না, হাতে গোনা দুই একজনই নয় প্রায় ১৪০ থেকে ২০০ জন ছাত্রছাত্রীকে মেডিকেল কলেজে তার নিজ অর্থায়নে তিনি ভর্তি করে দিয়েছেন। এমন লোক বগুড়াতে আরেকটি পাওয়া দুষ্কর।

আব্দুল মান্নান আকন্দ তার প্রতিটি নির্বাচনী অঙ্গীকারে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বারবার উচ্চারণ করে বলেন, যে আমি সোনার বাংলার গড়ার আদর্শে সোনার বগুড়া গড়তে চাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আদর্শে বা বাঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে যে ভালো কাজগুলো করা যায় আমি তার সবগুলো ভাল কাজ করার চেষ্টা করে যাব।

তিনি আরো বলেন আমি বগুড়া পৌরবাসীকে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তাতে মাসে খরচ হবে হিসাব করে দেখেছি ৬ কোটি টাকার মতো কিন্তু তাতে কি বগুড়াতে অনিয়ম-দুর্নীতি করে রাজনৈতিক দলগুলো এবং সন্ত্রাসী কায়েম করে অনেকেই এর চাইতেও বেশি অর্থ উপার্জন করে ঘরে তুলছেন। আমাকে পৌর পিতা বানালে আমি সেটা হতে দেবো না আমি জনগণের টাকা জনগণের উদ্দেশ্যে খরচ করব। শুধু দুর্নীতির খাতগুলো বন্ধ করে দিলেই বগুড়া পৌর উন্নয়নের দীপশিখা জ্বালিয়ে দেশের সেরা পৌরসভার একটি পৌরসভা বানানো যাবে।অন্য যে প্রার্থীরা দাঁড়িয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন তারা তো বগুড়া পৌরসভার জন্মগত না তারাও নিয়ে আসা অতিথি পাখির মতো শুধু ভোটের সময় তাদেরকে পাশে পাওয়া যায়।তারপর তাদের আর কোন খোঁজ খবর থাকে না। 

আব্দুল মান্নান আকন্দ করোনাকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী সেই জনদরদি ভাষণ যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যার যা আছে তাই নিয়ে করোনা মোকাবেলায় নেমে পড়ুন। আমার দেশের জনগনের পাশে দাঁড়ান।দেশে যারা ধনাঢ্য ব্যক্তি যাদের আছে দেওয়ার মতো সামর্থ্য তারা আমার জনগণের পাশে এসে দাঁড়ান। সে সময় কিন্তু বগুড়ার অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা বগুড়াবাসীর পাশে কেমন ভাবে দাঁড়াননি পাড়ার অলিতে-গলিতে দেখা যায়নি কোনো বড় রাজনীতিবিদদের। সেসময় কিন্তু ও বগুড়া পৌরসভার কান্ডারী আব্দুল মান্নান আকন্দ প্রতিটি ঘরে ঘরে খাবার তুলে দিয়েছেন। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই ভাষণের মর্যাদা রেখেছিলেন।সবশেষে আবদুল মান্নান আকন্দ নির্বাচনী প্রচারণায় বলেন, তার বাবার নামে খোলা ইউটিউব চ্যানেল শুক্রাটিভি নামের একটি চ্যানেল আছে যেখানে তার সকল নির্বাচনী অঙ্গীকার রয়েছে তাছাড়াও রয়েছে ফেসবুকে প্রচার প্রচারণা।

নির্বাচনে যখন নেমেছি তবে ভোট চাইতে তো হবেই ভোট চাওয়ার আগে আমার দুটি কথা আছে বগুড়া পৌরবাসীর কাছে, আমাকে জানুন আপনার আমাকে দেখুন, আপনারা দেখুন বগুড়াবাসীর জন্য কি করতে চাই। আমি তো আপনাদের পাশে ছিলাম আছি এবং থাকব। আবদুল মান্নান আকন্দ আরো বলেন বগুড়া পৌরবাসীর জন্য যদি প্রয়োজন হয় আমি আমার বিলাসবহুল বাড়িতে গিয়ে ঘুমোবো না প্রয়োজন হলে আমার স্ত্রীকে বলেছি পৌরসভার পৌর ভবনে থাকার জায়গা কোরে নেবো। কারণ একটাই যেন সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে পারি। আপনাদের জন্য পৌর পিতা কে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হতে না হয়।

হে বগুড়া পৌরবাসী আপনার মূল্যবান ভোটটি দেওয়ার আগে ভেবে চিন্তে দেখুন, শুধু মার্কা আর  লেবাসধারী মানুষ দেখেই ভোট দিবেন না। দেখবেন বগুড়ার পৌর পিতা হওয়ার যোগ্যতা কার কতটুকু আছে। কারন আপনার এই মূল্যবান ভোটে জয়লাভ করে তিনি হবেন বগুড়ার গর্বিত পৌর পিতা। আরে পৌর পিতার একটা দায়িত্ব আছে। পিতা কথাটির একটি মনে আছে। পিতা হলে হবে না সন্তানের প্রতি পিতার অনেক দায়িত্ব থাকে। আর এই দায়িত্ব কিছুটা হলেও আমি আমার ভোটের অঙ্গীকারে লিপিবদ্ধ করেছি। এবং সেই সাথে আমি কথা দিচ্ছি আমি যদি আপনাদের মূল্যবান ভোটে বগুড়ার পৌর পিতা হতে পারি তবে আমার দেওয়া সকল অঙ্গীকার আমি পূরণ করব ইনশাআল্লাহ। ২৮ তারিখ সারাদিন জগ মার্কায় ভোট দিন "জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু"  জয় হোক বগুড়ার মেহনতী মানুষের।

No comments

-->