শিরোনামঃ

মাদকের বিরুদ্ধে কুমিল্লার পুলিশ সুপার

মাদকের বিরুদ্ধে কুমিল্লার পুলিশ সুপার  

মোঃ সাইফুল ইসলাম কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি--


চলতি বছরের  জানুয়ারি কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে যোগদান করেন ফারুক আহমেদ। আগে তিনি মৌলভীবাজার জেলায় কর্মরত ছিলেন। কুমিল্লায় যোগদান করে বিকেলেই মুখোমুখি হন জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে। তখন কুমিল্লার প্রধান সমস্যার কথা জানতে চাইলে গণমাধ্যমকর্মীরা এসপি ফারুককে জানান- করোনাকালে কুমিল্লায় মাদকের বিস্তার বেড়েছে ব্যাপক হারে। এরপর এসপি মাদকের সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশ্যে বলেন- ‘হয় মাদক ছাড়, না হয় কুমিল্লা ছাড়’। এ সময় তিনি একটি স্লোগান বলেন-‘ একটি গ্রাম থেকে একটি দেশ, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ’।

ইতোমধ্যে কুমিল্লায় দায়িত্ব পালনের এক মাস পূর্ণ হয়েছে এসপি ফারুকের। এরই মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হয়ে উঠেছেন তিনি। তার যোগদানের পরে জেলার প্রতিটি থানা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে। প্রায় প্রতিদিনই প্রতিটি থানাতে কোন না কোন মাদকে জড়িতরা ধরা পড়ছেন। গত ২ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাদকে জড়িত থাকায় ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২২৭ জনকে।  উদ্ধার করা হয়েছে ৪২৪ কেজি ৬৮০ গ্রাম গাঁজা, বেশ কিছু গাঁজা গাছও। এছাড়া ইয়াবা ১১ হাজার ১৩ পিস, ফ্রেন্সিডিল ২ হাজার ৭২৮ বোতল, দেশীয় মদ ৩১৭ লিটার, বিদেশী মদ, বিয়ার ও নেশাজাতীয় সিরাফ প্রায় ৫০০ বোতল। মাদকদ্রব ছাড়াও অন্যান্য অপরাধ দমনেও ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন অভিযান, মাদক উদ্ধার, অপরাধীদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন তথ্য জেলা পুলিশের নিজস্ব ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে নিয়মিত জানিয়ে দিচ্ছেন জেলার মানুষকে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এরই মধ্যে এসপি ফারুক প্রশংসাও কুড়িয়ে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষের  কাছ থেকে।

পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের ঠাঁই কুমিল্লায় হতে পারে না। আমাদের প্রতিটি ইউনিটকে মাদকের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা জুড়ে মাদক-বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আমরা মানুষের শান্তি ও সেবার জন্য কাজ করি। এজন্য সব কাজেই জবাবদিহিতা থাকা জরুরি। তাই এক্ষেত্রেও একটি স্লোগান ঠিক করেছি, ‘মাদক উদ্ধারে জবাবদিহিতা, আনবে নতুন দিনের বার্তা’।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লাবাসীর জন্য আমাদের প্রতিদিনের নিরন্তর প্রচেষ্টা ও অর্জনগুলো প্রতিদিনই তাদের কাছে প্রকাশ করা হচ্ছে। এছাড়া কোন পুলিশ সদস্য যদি অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করে বা মাদকসহ অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে, তাহলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে শতভাগ মানবিক হতে হবে। পুলিশের কোন সদস্য অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত গত ৪৮ ঘন্টায় বিভিন্ন মামলায় ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের সদস্যরা। এদের মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৪২ জন। অনেকে রয়েছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া অন্যান্য নিয়মিত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

No comments

-->