নতুন প্রকাশিতঃ

ধর্ম নিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ

ধর্ম নিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ

নিউজ ডেক্সঃ

ধর্মহীনতা নয়, বরং সকল ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নিশ্চিত করার জন্যেই ধর্ম নিরপেক্ষতাকে গুরুত্ত্ব দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৫ সালে তাঁর উদ্যোগেই আওয়ামী মুসলিম লীগ 'আওয়ামী লীগ' এ রুপান্তরিত হয়।১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন থেকে ১৯৭১ সালের বিজয় লাভ পর্যন্ত পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধু দেখেছেন বাঙালী চেতনায় ধর্মের রাজনীতি নয় বরং ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য ত্যাগ করতে প্রস্তুত।

১৯৭২ সালে সংবিধান রচনার সময় বাঙালীর এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখতে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে  রাষ্ট্রের অন্যতম মূল নীতি হিসেবে ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু ধর্ম নিরপেক্ষতাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু বলেন, 'ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, খ্রিস্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে। কেউ বাধা দিতে পারবে না। আমাদের আপত্তি শুধু এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও শান্তিপুর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা তিনি পেয়েছেন কৈশোরেই- সুভাষ বোস, শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অসাম্প্রদায়িক চেতনাই বঙ্গবন্ধুর মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামি ঠাই নিতে দেয় নি- পাকিস্তান আন্দোলনে শরীক হলেও ধর্মীয় উগ্রবাদ কখনো গ্রাস করেনি তাঁকে। ধর্মের নামে নিরীহ মানুষ হত্যায় তাঁর প্রাণে কেমন প্রভাব ফেলেছে তা তাঁর লেখাতেই দেখা যায়।

পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও নিপীড়নে জর্জরিত বাঙ্গালিরা যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চায় না, নিজের ভাষা-সংস্কৃতি-কৃষ্টি নিয়ে নিজের ভাগ্যের নিয়ন্তা হতে চায় সেটা বুঝতে সময় লাগেনি তাঁর - আর এই অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে দাঁড়িয়েই তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন ধর্মের মুখোশধারী হায়েনাদের বিরুদ্ধে। তাঁরই আহবানে আমরা ছিনিয়ে এনেছি স্বাধীনতা- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথেই একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে


No comments

-->