শিরোনামঃ

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করলেই পুত্রবধূর হাতে উপহার

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করলেই পুত্রবধূর হাতে উপহার

নিউজ ডেক্সঃ

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করলেই পুত্রবধূর কাছে উপহার পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা। এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন। তিনি নিজে গিয়ে উপহার পৌঁছে দিচ্ছেন। উপহারের মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, পোড়াবাড়ির চমচম ও ক্রেস্ট। সেই সঙ্গে পরিবারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

স্থানীয় সংবাদকর্মী নওশাদ রানা সানভী জানান, ‌আমি কয়েক দিন আগে খবরের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইল সদর থানায় যাই। ভেতরে প্রবেশ করেই একটি ফেস্টুন আমার নজরে আসে। সেটিতে লেখা ছিল ‘বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক বাবা-মায়ের নিরাপদ আবাস।’

সেখানে আরও লেখা ছিল, ‘শ্বশুর-শাশুড়িকে যে যত সেবাযত্ন করবেন এবং তাদের সঙ্গে বসবাস করবেন, সেই ভাগ্যবতীকে পুরস্কৃত করা হবে’। ফেস্টুনে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর উল্লেখ করা ছিল।

‘উদ্যোগটি ভালো লাগায় আমি ফেস্টুনের ছবি তুলে ফেসবুক গ্রুপ টাঙ্গাইল জেলা সংবাদে পোস্ট করি। বিষয়টি মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে এবং মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।’

ইতিমধ্যে উপহার পেয়েছেন কলেজ পাড়ার গৃহবধূ শিউলি আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি টাঙ্গাইল জেলা সংবাদে একটি পোস্ট দেখতে পাই। সেটি দেখে আমার খুব ভালো লাগে। আমিও আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের বাবা-মায়ের মতো ভালোবাসি এবং তাদের সেবাযত্ন করি। তাদের সেবা করে আমি আত্মতৃপ্তি পাই। বিষয়টি জানানোর জন্য আমি পোস্টে উল্লেখিত নম্বরে ফোন করি। পরে ওসি স্যার নিজে এসে আমার হাতে উপহারগুলো তুলে দেন।’

একই এলাকার গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘আমি পুরস্কার পেয়েছি। পুরস্কার পেয়ে নিজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। আমি আমার শ্বশুর-শাশুড়িকে এমনিতেই দেখাশোনা করি। ভবিষ্যতেও একই রকমভাবে তাদের সেবা করে যাব।’

শিউলি আক্তারের শ্বশুর কাজী মুজিবুর রহমান জানান, আমার মেয়ে আমাকে যেমন ভালোবাসে, আমার ছেলের বউও ঠিক তেমনি ভালোবাসে। আমাদের দেখভাল ও সেবাযত্নে কোনো ত্রুটি করে না। এমন ছেলেবউ পেয়ে আমরা সত্যিই ভাগ্যবান।’

মাহমুদা আক্তারের শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে ও ছেলেবউ তাদের সাধ্য অনুযায়ী আমাদের সেবা করে। একজন পুলিশ অফিসার আমার বউমাকে পুরস্কৃত করেছেন। পুরস্কার পেয়ে সে তো আত্মহারা।’

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি বৃদ্ধ বয়সে অনেক বাবা-মা সন্তানের অবহেলার শিকার হন। অনেকে ঠিকমতো খাবারও পান না। অবস্থাপন্ন সন্তানেরা বাবা-মাকে ছেড়ে বউ-বাচ্চা নিয়ে আলাদা বসবাস করেন।

‘অনেক সন্তান ভুলে যান যে এই বাবা-মা দিনরাত পরিশ্রম করে মুখে আহার তুলে দিয়েছেন, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তারা এও ভুলে যান যে তাদেরও একদিন বৃদ্ধ হতে হবে। এমনও দেখা গেছে, অনেক সন্তান কাজের প্রয়োজনে বাইরে ব্যস্ত থাকেন। তাদের বাবা-মা পুত্রবধূর কাছে বেশি সময় কাটান। আমার উদ্দেশ্য ওই পুত্রবধূদের উৎসাহিত করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাবা-মা ছেড়ে দূরে চলে যান এবং একাধিক ভাইবোন থাকার কারণে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিয়ে ঠেলাঠেলি করেন, সেই সব সন্তান ও পুত্রবধূদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদস্বরূপ এই আয়োজন করেছি।’

No comments

-->