শিরোনামঃ

ধর্মনিরপেক্ষতা মানে উগ্রতার মূল তুলে ফেলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠন

ধর্মনিরপেক্ষতা মানে উগ্রতার মূল তুলে ফেলে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠন

অনলাইন ডেক্সঃদেশভাগের আগে, লেখাপড়ার করার সময় একপর্যায়ে কলকাতায় ছিলেন তরুণ শেখ মুজিব। মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ১৯৪৬ সালে কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহতা কাছে থেকে দেখেছেন। এমনকি ধর্মের দোহাই দিয়ে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর প্রত্যক্ষ করেছেন পাকিস্তানিদের ভণ্ডামি, সামরিক একনায়কদের খামখেয়ালিপনা, শোষণের শিকার জনতার মুখে স্থায়ী দুঃখের ছাপ। একারণে ধর্মের অপব্যবহার রোধে রাজনীতি থেকে একে আলাদা করে রাখার ব্যাপারে সবসময় কথা বলতেন তিনি।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহারে এবং প্রতিটি জনসভায় ধর্ম-বর্ণ নির্বশেষে সম্প্রীতির রাষ্ট্র গড়ার কথা বলেছেন। পরবর্তীতে বাকশাল ঘোষণার সময়েও তিনি একে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে রেখেছেন। বাঙালির হাজার বছরের সম্প্রীতির বন্ধনকে ধর্মের অপব্যবহারের মাধ্যমে কেউ যেনো বিভক্ত করতে না পারে, সব ধর্মের লোক মিলে যেনো একটা শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলে, সেটিই ছিল বঙ্গবন্ধুর দর্শন।

১৯৭৫ সালে ধর্ম নিরপেক্ষতার স্বরূপ বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি সংসদে বলেছেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্ম-কর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না এবং করবো না। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, খৃষ্টানরা তাদের ধর্ম করবে, তাদের কেউ বাধা দিতে পারবে না। কিন্তু ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। ২৫ বছর আমরা দেখেছি- ধর্মের নামে জুয়াচুরি, শোষণ, অত্যাচার, খুন- এসব চলেছে। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা চলবে না।'

No comments

-->