নতুন প্রকাশিতঃ

কাজী আরেফ হাত্যা দিবসের পলাতক আসামীদের দন্ড কার্যকরের দাবি

কাজী আরেফ হাত্যা দিবসের পলাতক আসামীদের দন্ড কার্যকরের দাবি

শাহীন আলম লিটন,কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলার পতাকা রূপকার নিউক্লিয়াস সদস্য সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফসহ ৫জাসদ নেতাকে হত্যা দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামীদের গ্রেফতার ও রায় কার্যকরের দাবিতে নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ২২তম দিবস নানা আয়োজনে দিনব্যাপী পালিত হয়। 

নৃশংস এই হত্যা দিবস স্মরণে কাজী আরেফ স্মৃতি সংসদের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সংসদের সভাপতি গোলাম মহসিনের সভাপতিত্বে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বরে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা শেষে বিকেল ৩টায় শোক-স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগী সংগ্রাম, ৩০লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ, ২লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানীর মধ্যদিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ছিলো যেমন নিষ্ঠুর বাস্তবতার পথ পরিক্রমার মধ্যে, তেমনি এই বজ্রকঠিন সংগ্রামকে সংগঠিত করতে যে কয়জন অগ্রসেনার আবির্ভাব ঘটেছিলো তার মধ্যে কাজী আরেফ আহমেদ ছিলেন অন্যতম। ষাটের দশক থেকেই অসাধারণ সাংগঠনিক বিচক্ষনতা ও দক্ষতা নিয়েই রাজনীতিতের তিনি আবির্ভুত হন। টগবগে যৌবনের দিনগুলোতে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথেই যুক্ত ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় টিউশনি করে নিজের খরচসহ সাংগঠনিক কাজেও ব্যয় করতেন। দেশপ্রেমের ব্রত নিয়ে দৃপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা এই নেতাকে নির্মম নিষ্ঠুর সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে জীবন দিতে হলো তারই জন্মভুমিতে। মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক, জাতীয় বীর কাজী আরেফ আহমেদের ২২ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৯ সালের এদিনে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ চলাকালীন সময়ে উগ্রপন্থি সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন বাঙালি জাতিসত্তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফ আহমেদসহ কুষ্টিয়া জেলা জাসদের ততকালীন সভাপতি বীরমুক্তিযুদ্ধা লোকমান হোসেন, সাধারন সম্পাদক ও সাবেক দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযুদ্ধা এ্যাডঃ ইয়াকুব আলী, স্থানীয় ইসরাইল হোসেন তফসের ও শমসের মন্ডল। আজ তিনি নেই, রেখে গেছেন তার অসমাপ্ত সংগ্রামী জীবন। তার কাছ থেকে প্রেরণা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের দেখানো পথই হবে আগামী দিনের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম সংগঠিত করার প্রত্যয় ও প্রেরণা। তবেই কেবল কাজী আরেফ হত্যা দিবস স্মরন ও শ্রদ্ধার যথার্থ স্বার্থকতা বয়ে আনবে। 

স্মরণ সভায় নেতৃবৃন্দ চরম হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, কাজী আরেফ হত্যা বিচার পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিলো দীর্ঘ দেড় দশক। নানা ঘাত প্রতিঘাত, চড়াই উৎরায় মারিয়ে সকল স্তরের বিচারিক প্রক্রিয় সম্পন্নের মাধ্যমে সর্বশেশ যাদের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখেছেন আদালত তাদের আজও গ্রেফতার ও দন্ড কার্যকর হয়নি। এমনকি ওইসব দন্ডপ্রাপ্তরা বহাল তবিয়তে এখনও পর্যন্ত বীরদর্পে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তারা নানা ভাবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ পরিবার পরিজনের জীবনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি বিষয়টি আইন শৃংখলার শীর্ষ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে অবগত করেও তাদের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি বরং তাচ্ছিল্যের স্বিকার হতে হয়েছে বলেও শহীদ কাজী আরেফ আহমেদের পরিবারের অভিযোগ। এই খুনিচক্রের সাতে যারা জড়িত তারা প্রতিনিয়তই কাজী আরেফ হত্যা মামলার প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী কারশেদ আলমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ না হওয়াই একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় করা মামলাতে জড়িত দেখিয়ে এজাহারভুক্ত আসামী করায় কারশেদ আলম ও তার পরিবার এখন চরম বিপন্নের মুখে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন নেতৃবৃন্দ। সেকারণে অবিলুেম্ব কাজী আরেফ হত্যা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত ৫আসামী যথাক্রমে- মান্নান মোল্লা, জালাল উদ্দিন ওরফে বাসার, বাকের, রওশন এবং জীবনকে গ্রেফতার করে দন্ডকার্যকরই হবে কাজী আরেফ আহমেদ এর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। 

এসময় বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, কুষ্টিয়াতে স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী তৎকালীন ছাত্রলীগনেতা এ্যাড. আব্দুল জলির, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুবজোটের সাধারণ সম্প্দাক শরীফুল কবীর স্বপন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলুর রহমান বুলবুল, বাসদ জেলা আহ্বায়ক কমরেড শফিউর রহমান, সিপিবি নেতা কমরেড নীল কমল বিশ্বাস, জেলা জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, জাসদ নেতা এ্যাড. জয়দেব কুমার বিশ্বাস, এমদাদুল ইসলাম আতা, আহম্মেদ আলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কনক চৌধুরী প্রমুখ। সভাপরিচালনা করেন কাজী আরেফ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুমন আলী।

অপরদিকে মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১০ টায় কাজী আরেফ আহমেদ সহ ৫ জাসদ নেতার ২২ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর পিএম কলেজ মাঠে শহীদ ইয়াকুব আলী ট্রাষ্টের আয়োজনে স্বরণ স্বরণ সভায় বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ্।

No comments

-->