শিরোনামঃ

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং দীর্ঘ চার মাস পরে কুষ্টিয়ার নিখোঁজ যুবকের সন্ধান

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং দীর্ঘ চার মাস পরে কুষ্টিয়ার নিখোঁজ যুবকের সন্ধান 

শেখ মো.সোহেল রানা,মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে চার মাস পরে কুষ্টিয়ার নিখোঁজ রাসেল (২১) নামে এক যুবকের সন্ধান মিলেছে। যুবকটি পরিবারের কাছে ফিরেও গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সামান্য ভারসাম্যহীন যুবক রাসেল চার মাসে আগে উপজেলার মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের মাওয়ায় দেখতে পান সুপার মার্কেটের কাছে চয়ন হাওলাদার নামে এক মোবাইল ফোন দোকানি। এবং তার সাথে পরিচয় হয়। তখন রাসেলকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ায় চয়ন। পরের দিন চয়নের দোকানে এসে পরিধানের জন্য জামাকাপড় কিনে দিতে বললে চয়ন রাসেলকে তা কিনে দেয়। এভাবে মাঝেমধ্যে হঠাৎ চয়নের কাছে বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য আসে। ছেলেটিকে তার কিছুটা ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়। তার ঠিকানা জানতে চাইলে সে তার গ্রামের নাম মদনপুর বলে জানায়। এ ছাড়া সে বাবামায়ের নামও বলতে পারেনি। চয়ন গুগলে সার্চ দিয়ে মদনপুর গ্রামটির অবস্থান কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় অন্তর্গত জানতে পারে। এরপরে চয়ন কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ইউএনওর সাথে যোগাযোগ করে রাসেলের সম্পর্কে জানান। একপর্যায়ে চয়ন রাসেলের পরিবারের সন্ধান পান। রাসেলের মা-বাবার সাথে চয়ন যোগাযোগ করেন। এবং গতকাল রোববার রাসেলকে নেওয়ার কথা জানান রাসলের পরিবার। অবশেষে চয়ন লৌহজং থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে। লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. আলমগীর হোসাইন রাসেলের পরিবারকে লৌহজং থানায় আসতে বলে। এবং গতকাল ভারসাম্যহীন রাসেলকে লৌহজং থানা পুলিশের সহযোগিতায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

রাসেলের মা নারগিস বেগম জানান, তার সন্তান জন্মের পর থেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী। গত চার মাস আগে তাকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। হঠাৎ করে মাওয়া থেকে চয়ন নাকের একটি ছেলে তাকে ফোন দিয়ে রাসেলের কথা বলে। তাই আমার সন্তানকে নেওয়ার জন্য ছুটে আসি। এসময় তিনি আরও বলেন চয়ন ছেলেটি যা করেছে তার ঋণ কখনও শোষ করতে পারবো না।

এ বিষয়ে লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসাইন জানান, চয়ন নামের ছেলেটি বিষয়টি জানানোরম পরে তাকে বলি রাসলের পরিবারকে লৌহজং থানায় আসার জন্য এবং গতকাল সন্ধ্যায় রাসেলের মা নারগিস ও মামা ডাবলু মোল্লা আসলে ছেলেটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ওসি আরও বলেন, চয়ন ছেলেটি অনেক বড় মনের মানুষ। নিঃস্বার্থভাবে রাসেলের জন্য কাজ করেছে। চার মাস যাবত ছেলেটি খোঁজ খবর নিয়ে তারপর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

No comments

-->