শিরোনামঃ

দুই-টাকা বেতনে পড়ান শ্রী আনন্দ কুমার

দুই-টাকা বেতনে পড়ান শ্রী আনন্দ কুমার

নুরুজ্জামান সরকার, জেলা প্রতিনিধি (নীলফামারী):

দৈনিক না, মাসিক মাত্র দুই টাকা বেতনে টিউশন পড়ান এক যুবক! অনেকেই হয়ত দেখেছেন-শুনেছেন;বর্তমান যুগে 'ফ্রি টিউশন' কিংবা সেবার সমপরিমাণ মূল্য দিয়ে পড়াশুনা করার কথা।তবে,এ ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম।শিক্ষার্থীদের কারো বাবা দিনমজুর,কারো বাবা কৃষক-শ্রমিক।কোনমত খাতা-কলম ক্রয় করে স্কুলে যায় ঐসকল পরিবারের শিশুরা।কিন্তু পড়াশুনায় মনোযোগ বৃদ্ধি,বিদ্যালয়ে সেরা শিক্ষার্থী এবং পরিক্ষায় ভাল নম্বর পেতে চাইলে, স্কুলের বাহিরে বিশেষ ক্লাশ বা টিউশন পড়ার দরকার হলেও সেই অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই তাদের। তবে ঐসকল ছাত্র-ছাত্রীদদের জন্য রয়েছে মাত্র ২ টাকায় পড়াশুনার সুযোগ।জনপ্রতি শিক্ষার্থীদের থেকে মাসিক দুই টাকা বেতন নিয়ে পড়ান শ্রী আনন্দ কুমার।সদ্য ডিগ্রি(পাশ কোর্স)শেষ করা যুবক আনন্দ কুমারের বাড়ী নীলফামারী জেলার তিস্তানদী বিধিত এলাকা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিনখড়িবাড়ী গ্রামে।তিনি দেড় বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রী এভাবে পড়াচ্ছেন।

এছাড়াও করোনাকালিন স্কুল বন্ধ থাকায় (অনলাইন ক্লাশ থেকেও বিচ্ছিন্ন)স্বীয় গ্রামে ঝড়ে পড়ার মত আশঙ্কা জনক শিশুদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে তাদের একত্র করে নিজ বাড়ীর আঙ্গিনায় পড়ান তিনি।পড়ান গনিত, ইংরেজি এবং সাধারন জ্ঞান সহ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়।বর্তমানে তার শিক্ষার্থীর সংখ্যা সতের জন।আনন্দ কুমার নিজ খরচে পড়াশুনার জন্য কখনো ঢাকায় পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে,কখনো খন্ডকালিন চাকুরি এমনকি নরসুন্দর এর কাজও করেছেন, এসকল অায়ের উৎস থেকে গ্রামের অন্যান্য হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই ক্রয়,পরিক্ষার সময় ফরম পুরণ খরচ দিয়েছেন তিনি।

বর্তমান বাজারে নানা কারনে চাকুরি যেন অাসমানের চাঁদ,চাকুরি যেন ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।তাই তিনি সংকটময় সংসারে সচ্ছলতার জন্য পিতার কাজের পাশাপাশি তিনিও একবেলা নরসুন্দরের কাজ করেন থাকেন।অন্যবেলা নিজে বই পড়েন এবং বই পড়ান।তিনি সত্যি একজন সমাজ সংস্কারক এবং মানবহৈতষী যুবক।গত দুর্গোৎসবে,এবারের শীত মৌসুমে সাধ্যমত পুজারবস্ত্র এবং শীতবস্ত্র বিতরন করেছেন এলাকায়।

ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে নেওয়া প্রতিমাসের দুই টাকা বেতন কি করেন? জানতে চাইলে অানন্দ কুমার জানায়,টাকাগুলো তিনি জমিয়ে রাখানে, ঈদ-পুজা সহ বিভিন্ন উৎসবের  দিনগুলোতে শিশুদের উপহার দেন অথবা খাতা-কলম কিনে দেন।তিনি আরোও বলেন,'শিশুরা আমাদের ভবিষৎ,তাই আমি ঝড়েপড়ার মত ঝুঁকি আছে  এমন শিক্ষার্থীদের পড়াই এবং সাধ্যমত সহযোগিতা করি। আপনারও সমাজ পরিবর্তনে প্রত্যেকের অবস্হান থেকে এগিয়ে আসুন।'

শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র রাব্বী হাসান জানায়,'আনন্দ ভাইয়ের কাছে পরে স্কুলে আমার ক্লাশ রোল (১) এক।ভাই না থাকলে আমার কি যে হত!'

No comments

-->