শিরোনামঃ

ইউপি নির্বাচনী হাওয়া সাধুহাটি ইউনিয়নে নাজির বহুমুখি সংকটে

ইউপি নির্বাচনী হাওয়া সাধুহাটি ইউনিয়নে নাজির বহুমুখি সংকটে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

নির্বাচনী হালচালঃ ১নং সাধাহাটি ইউনিয়নে আলোচনায় কাজী মোঃ নাজির উদ্দিন, মে রেজাউল হোসেন মন্ডল, শফিউদ্দিন মিন্টু। ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১নং সাধাহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সবখানে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ কাজী নাজির উদ্দিন। গত নির্বাচনে পরাজিত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ রেজাউল মন্ডল, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মোঃ শফি উদ্দিন মিন্টু, ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুর রহমান এবং সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমানের নাম জোরে-শোরে শোনা যাচ্ছে। 

আলোচানায় থাকা বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দিন পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকায় তার পক্ষে বিপক্ষে জনমত তৈরী হয়েছে। র্অপ শিক্ষিত এবং এক সময়ের দাপুটে বিএনপির নেতা নাজির ২০১১ সালে সাধুহাটি ইউপি নির্বাচনে মেম্বার নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কারনে তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং জামাত নেতা মাওলানা আতিয়ার রহমান এলাকা ছাড়া হলে ২০১৪ সালে সুযোগ সন্ধানি নাজির উদ্দিন ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল মন্ডলের হাত ধরে আওয়ামীলীগে যোগদান করে ইউপি চেয়ারম্যানের ভারপ্রাপ্ত পদ দখল করেন। এর ২ বছর পর ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল মন্ডলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী  হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের প্রভাব একচ্ছত্র করার লক্ষে রেজাউল মন্ডলকে কোনঠাসা করে ফেলে এবং আওয়ামীলীগের অনেক নেতা-কর্মীর উপর নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামীলীগ কর্মী জানান, সাধাহাটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আজকের যে গ্রæপিং, লবিং ও দ্বন্দ সংঘাত তার মূলেই রয়েছে এবং অভিযোগ ও গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করাই নাজিরের পক্ষে এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হওয়া এক রকম অসম্ভব বলে অনেকে মনে করছে। 

অন্যদিকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ রেজাউল হোসেন মন্ডল নৌকা প্রতীকের হয়েও পরপর দুইবার পরাজিত হওয়া। ২০১৪ সালে অনেকের বিরোধিতা করও নাজিরকে সলে নেওয়া। পরে ২০১৮ সালে বিদ্রোহী সেই নাজিরের কাছে পরাজিত হওয়া। পরাজিত হওয়ার অল্প কিছু দিন পর নাজিরের সাথে মিলে মিশে যাওয়া ¦য়ে বিজয়ী নাজির যখন ত্যাগী আওয়ামীলীগ কর্মীদের উপর নির্যাতন করে তখন চুপ থাকা এসব কিছু রেজউল মন্ডলকে একজন অদূরদর্শী, দূর্বল এবং ব্যক্তিত্বহীন নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে সেই সাথে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহন অনেকের কাছে হাস্যকর। এসব বিবেচনায় তিনি যে এবারও নৌকা প্রতীক পাবেন তা তার অত্র সমর্থকরাও বিশ্বাস করতে পারছে না। 

এবারের নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুর কামাল ও ¯^তন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। আলোচনায় থাকা কৃষক লীগের সভাপতি মোঃ শফি উদ্দিন মিন্টু তার দাদা সাবেক চেয়ারম্যান মুনসুর আলী বিশ্বাস ওরপে হারান বিশ্বাসের নিজের ইমেজকে হাতে লাগিয়ে তৈরনী পার হওয়ার চেষ্টা করছে। 

বিএনপি প্রার্থী মোঃ আব্দুর রহমান কালাম দলীয় মনোয়ন পাবেন বলে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনিও দলীয় নেতা কর্মীকে সবিনয়ে সাধারন জনগনের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। 

অন্যদিকে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান মিজান ¯^তন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সদ আজাদী মিজান অনুভুত পরিবেশে একজন শক্ত প্রার্থী বলে অনেকে মনে করেছেন। তাছাড়া তার সাবেক দল বিএনপির অনেক ভোট তার পক্ষে যাবে এবং জামাত প্রার্থী দিলে জামায়াত ভোট ব্যাংকের একটা বড় অংশ তার পক্ষে যাবে বলে তার সমর্থকদের বিশ্বাস।

No comments

-->