শিরোনামঃ

শেখ হাসিনা: জীবন নিবেদিত মানুষের কল্যাণে

শেখ হাসিনা: জীবন নিবেদিত মানুষের কল্যাণে

অনলাইন ডেক্সঃ

২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিন তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাধা-বিপত্তি এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই তাকে চলতে হয়েছে, চলতে হচ্ছে। অদম্য মনোবল, সাহস এবং বিচক্ষণতার সঙ্গে তিনি দেশ এবং আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। জাতির পিতার কন্যা এখন জাতির অভিভাবকে পরিণত হয়েছেন। একদিন বা কয়েকদিন কিংবা এক বছর বা কয়েক বছরে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছাননি। তিলে তিলে তিনি এ বর্তমান অবস্থান তৈরি করেছেন।

১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট ভারত ভাগ হলো। জন্ম হলো পাকিস্তান ও ভারত দুইটি পৃথক রাষ্ট্রের। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতেই হয়েছিল ওই ভাগাভাগি। হিন্দুর জন্য একটি দেশ, মুসলিমদের জন্য আরেকটি। ভাবা হয়েছিল এভাবেই মানুষ ভালো থাকবে, সুখে থাকবে, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ হবে। বাস্তবে তা হয়নি। ধর্ম বিশ্বাসের ভিত্তিতে দেশ ভাগের পরিণাম যে ভালো হয়নি, তা নিয়ে  নতুন করে বিতর্ক তোলা এখন অর্থহীন। মুসলিমদের রাষ্ট্র পাকিস্তানে যেমন অন্য ধর্মাবলম্বীরা থেকে গেছেন, তেমনি হিন্দুদের জন্য নির্ধারিত ভারতও হয়নি মুসলিমমুক্ত। আমার আজকের আলোচনা সে বিষয়ে নয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র দেড় মাসের মাথায় ২৮ সেপ্টেম্বর  গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ মুজিবুর রহমান এবং ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এক কন্যা সন্তান। তিনি শেখ হাসিনা, বাবা-মায়ের আদরের ‘হাছুমণি’। তিনি এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের সর্ববৃহৎ এবং পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি।

শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপাদমস্তক রাজনীতির মানুষ। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, জাতির জনক। তার আগেই দেশের মানুষ তাকে ভালোবেসে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়েছিল। শেখ মুজিবের রাজনীতি শুরু হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আবার কালক্রমে তিনিই পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিলেন। একজন মানুষ একটি দেশের জন্ম এবং মৃত্যুর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

শেখ মুজিব ছিলেন সাহসী মানুষ। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তার জীবনের ব্রত। মানুষের সুখের জন্য তিনি নিজের জীবনের সুখস্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছিলেন। জেলজুলুম, ফাঁসির মঞ্চ কোনও কিছুই তাকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তার এ সাহস তার রক্তের উত্তরাধিকারের মধ্যে প্রবাহিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।

শেখ হাসিনার জন্ম রাজনীতির পরিবারে। তার রক্তে মিশে আছে রাজনীতি। পিতা তাকে রাজনীতির অনিরাপদ, অনিশ্চিত, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথে না জড়ানোর জন্য বিয়ে দিয়েছিলেন একজন পরমাণু বিজ্ঞানীর সঙ্গে। অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পিতৃবাসনা পূরণ হলো না। বরং সেই মেয়েকেই রাজনীতিতে জড়াতে হলো, পিতার স্বপ্ন ‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো’র কঠিন দায়িত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিজের কাঁধে তুলে নিতে হলো।

দুই

শেখ হাসিনার জন্ম বাংলাদেশের এক নিভৃত গ্রামে। নিজের জন্ম এবং জন্মস্থানের পরিবেশের বর্ণনা তিনি নিজে দিয়েছেন এভাবে-

আশ্বিনের সোনালি রোদ্দুর ছড়ানো দুপুরে-টুঙ্গিপাড়া গ্রামে আমার জন্ম।… আমার শৈশবের স্বপ্ন-রঙিন দিনগুলো কেটেছে গ্রাম-বাংলার নরম পলিমাটিতে, বর্ষার কাদা-পানিতে, শীতের মিষ্টি রোদ্দুরে, ঘাসফুল আর পাতায় পাতায় শিশিরের ঘ্রাণ নিয়ে, জোনাকজ্বলা অন্ধকারে ঝিঁঝির ডাক শুনে, তাল-তমালের ঝোপে বৈচি, দীঘির শাপলা আর শিউলি-বকুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে, ধুলামাটি মেখে, বর্ষায় ভিজে খেলা করে।

এ কয়েকটি আবেগঘন লাইনই শেখ হাসিনার মানস গঠনের পটভূমি বোঝার জন্য যথেষ্ট। তার মনের যে উদারতা, বিশালতা তা তিনি পেয়েছেন বাংলার প্রকৃতির উদারতা থেকেই। বাংলা ও বাঙালির জন্য তার পরানের গহীনে যে ভালোবাসা, যে মমত্ব তা তিনি বাংলার জল-হাওয়া থেকেই পেয়েছেন। তার যে অকৃত্রিমতা তা-ও বাংলার প্রকৃতিজাত।

শিশুকালটা গোপালগঞ্জে কাটলেও শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন মূলত ঢাকা শহরেই কেটেছে। গত শতকের ষাটের দশক বাঙালির জাতির জন্য একটি অমূল্য সময়কাল। ষাটের দশক বাঙালির আত্মোপলব্ধি ও আত্মপরিচয় সন্ধানের  এক উজ্জ্বল সময়। কেবল আইয়ুবের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জনজাগরণ সৃষ্টি নয়, আরো নানা ঘটনাক্রমের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোও তখন ধীরে ধীরে অঙ্কুরিত হচ্ছিল। অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী ধারণা শক্তি অর্জন করে ওই সময়েই। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আইয়ুব-মোনায়েমের চণ্ডনীতি কার্যত তার জনপ্রিয়তাই বাড়িয়ে তুলছিল এবং তিনি হয়ে উঠছিলেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা। 

ছাত্র আন্দোলনেরও গৌরবোজ্জ্বল সময় হলো ষাটের দশক। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাও ছিলেন ওই সময়ের গৌরবের সমাচার রচনায় সক্রিয় যোদ্ধা। তিনি মিছিলে-স্লোগানে সোচ্চার ছিলেন। কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে নিজের নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়েছিলেন। ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবেই তিনি কেবল রাজনীতির পাঠ গ্রহণ করেননি, তার পরিবারই ছিল রাজনীতির বৃহত্তর পাঠশালা। বাবা শেখ মুজিব ছিলেন চিরউন্নত শির। তিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে জানতেন না। ‘জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়’! 

এই উন্নত শির, দুর্দমনীয় সাহসই শেখ মুজিবের গলায় একক জাতীয়  নেতার বরমাল্য পরিয়েছিল। শেখ মুজিবের সাহস সংক্রমিত হয়েছিল স্ত্রী ফজিলাতুন নেছার মধ্যেও। তাই স্বামীর কারাবাসকালে তিনি শুধু সংসারের হাল ধরেননি, বৃহত্তর আওয়ামী লীগ পরিবারেরও অভিভাবকের মতো ছিলেন তিনি। বাবা-মায়ের এই যুগলযাত্রা কন্যা শেখ হাসিনা কাছে থেকে দেখেছেন। পিতার শূন্যস্থান পূরণের চিন্তা তখন হয়তো ছিল না কিন্তু শেখ হাসিনা কখনো রাজনীতির দূরের মানুষ ছিলেন না। তিনি ছিলেন রাজনীতির কাছের মানুষ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের যে পথযাত্রা তা তিনি ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন এবং কিছুমাত্রায় সামিলও থেকেছেন।

তিন

পিতা যখন কারাগারে, তখনই শেখ হাসিনার বিয়ে হয় এম ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চিন্তা তখন তার ছিল বলে মনে হয় না। বঙ্গবন্ধুও হয়তো চাননি তার আদরের বড় মেয়ে তার মতো অনিশ্চিত জীবনপথের পথিক হোক। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট একদল ঘাতক সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশের রাজনীতির সব হিসাবনিকাশ ওলটপালট করে দিল। বঙ্গবন্ধু এবং পরে জেলের ভেতর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া, আওয়ামী লীগ যাতে আর কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা। ১৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা এবং ছোট বোন শেখ রেহানা দেশে ছিলেন না। থাকলে হয়তো তাদেরও আর জীবিত রাখতো না ঘাতকদল। ইতিহাসের বোধহয় এটা এক অসামান্য বিধান। ঘাতক পাতকদের বিচারের জন্য বেঁচে থাকলেন পিতার যোগ্য কন্যারা।

১৫ অগাস্টের হত্যাকাণ্ড আওয়ামী লীগকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করেছিল। তারপর আওয়ামী লীগ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছিল না, ভেতরের-বাইরের নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে না পারায় ১৯৮১ সালে দলের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে দিল্লিতে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয় । 

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তিনি এক বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন। এক কথায় বলা যায়, তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করেন। ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে– সেটা অনেক রাজনৈতিক পণ্ডিতের কাছেও ছিল অকল্পনীয়। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে রাখার অপচেষ্টা অনেকেই করেছে। এমন কি দলের মধ্যেও ছিল ‘ঘর শত্রু বিভীষণ’। শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি বানিয়ে যারা তার মাথায় কাঁঠাল ভাঙার ফন্দি এঁটেছিলেন তাদেরও তিনি হতাশ করেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সবাইকে এটা বোঝাতে সক্ষম হন যে, তিনি শেখ মুজিবের কন্যা, তিনি কারো হাতের পুতুল হতে পারেন না।

শেখ হাসিনা মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আজ তার বয়স ৭৩ বছর হলো । এখন তিনি সব দিক দিয়েই একজন পরিণত মানুষ। তিনি কেবল দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগেরই সভাপতি নন, তিনি সরকার প্রধান হিসেবেও বেশি সময়ের রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। এবার তিনি টানা তিনবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এই মেয়াদ শেষ হলে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের ২০ বছর পূর্ণ হবে। কয়েকটি দেশে স্বৈরশাসকদের টানা দীর্ঘ সময়কাল জুড়ে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড থাকলেও নির্বাচিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শেখ হাসিনাই হতে চলেছেন এক্ষেত্রে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ চলার পথ ফুল বিছানো ছিল না। পদে পদে বিপদ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তাকে তাড়া করেছে। তাকে অনেক দফায় হত্যার অপচেষ্টা চলেছে। জীবনমৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে তিনি এগিয়ে চলেছেন। একজন সফল সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি আজ আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত। তিনি ভূষিত হয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ অসংখ্য পদক ও পুরস্কারে। তিনি যে তার জীবনকে মানুষের কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করেছেন তার স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন, পাচ্ছেন। 

তিনি এখন একদিকে যেমন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, একই সঙ্গে তিনি একজন বিশ্বনেতাও বটে। তার প্রশংসায় অকুণ্ঠ অনেক দেশের সরকার প্রধান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে চলেছে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ এক ভিন্নতর মর্যাদার আসন লাভ করেছে।

শেখ হাসিনা জাতির বিভিন্ন সংকটকালে সাহসী, দূরদর্শী ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা দেখিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মতো চিরবৈরি বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও রায় কার্যকর করা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ এগিয়ে নেওয়া একমাত্র শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। সবাই যখন সংকট উত্তরণের কোনো ভালো সম্ভাবনা দেখেন না, তখনও তিনি একটা না একটা উপায় বের করে ফেলেন। কেউ কেউ মনে করেন, শেখ হাসিনার ওপর অতিনির্ভরতা ভালো লক্ষণ নয়। শেখ হাসিনা চাপিয়ে দেওয়া নেতা নন। তিনি দেশের মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তার নিখাঁদ দেশপ্রেম তাকে মানুষের কাছে গভীরতর ভালোবাসার ঋণে আবদ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন তাকেই পূর্ণতা দিতে চলেছেন শেখ হাসিনা। আজ এ কথা বলা যায় যে, শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের যোগ্য কাণ্ডারি। তার মধ্যেই মূর্ত হয়ে উঠছে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।

দেশে এবং দেশের বাইরে থেকেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে । তবে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ধৈর্য ও সাহস শেখ হাসিনার আছে। যেখানেই মানুষের দুর্গতি, সেখানেই শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টি প্রসারিত। মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠির নির্যাতনে দেশত্যাগী ১২ লাখ মানুষকে নিজের পাতের অন্নের ভাগ দেওয়ার অঙ্গীকার করে তিনি যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বিশ্ববাসীর বিবেককে নাড়া দিয়েছে। শেখ হাসিনা এমন একজন মানুষ যিনি অন্যের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতে পারেন নির্দ্বিধায়। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার নেতৃত্বগুণ তার ভেতর আছে। শেখ হাসিনা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এটা প্রমাণে সক্ষম হয়েছেন যে, তিনি যা পারেন, অন্য কেউ সেটা পারে না। তিনি নিরলসভাবে কাজ করেন। আর কাজ যিনি করেন তিনি কিছু ভুলভ্রান্তিও করতে পারেন। ভুল মানুষই করে। তবে শেখ হাসিনা এমন কোনো রাজনৈতিক ভুল করেননি, যা তাকে তার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

টানা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগের ভেতরে কিছু সমস্যা তৈরি হয়নি তা নয়। তবে দল এবং সরকারের খুঁটিনাটি বিষয়ও শেখ হাসিনার নজরের বাইরে নয়। তাই দলের মধ্যে যারা অন্যায়-অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান কঠোরভাবে চললে, এটা সফল পরিণতি পেলে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা এক নতুন মাত্রা পাবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশকে এক নতুন সম্ভাবনার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। উন্নতি ও সমৃদ্ধির এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে- এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

ভোরে নামাজ পড়ে তার দিন শুরু হয়। তিনি বিশ্বাসী এবং ধর্মপ্রাণ। কিন্তু ধর্মান্ধতাকে প্রশ্রয় দেন না। তিনি সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে একটি উদার এবং কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবিরাম কাজ করে চলেছেন। তিনি কর্মঠ এবং সাহসী। তিনি প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। ক্লান্তি তাকে অবসন্ন করে না। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রাম তাকে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করে।  মানুষের কল্যাণে যিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন, যিনি বারবার অকপটে বলেছেন যে, তার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, জন্মদিনে সেই নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাই, তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

বিভুরঞ্জন সরকার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

No comments

-->