শিরোনামঃ

জাতীয়তাবাদের চেতনায় একসূত্রে সাত কোটি বাঙালি-দেশবাংলা খবর২৪

জাতীয়তাবাদের চেতনায় একসূত্রে সাত কোটি বাঙালি-দেশবাংলা খবর২৪ 


নিউজ ডেক্সঃ

১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনার মাধ্যমে ক্রমেই একটা জাতিকে তীব্র জাতীয়তাবাদে দীক্ষিত করেছেন বঙ্গবন্ধু। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের চূড়ান্ত ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে এই জাতীয়তাবাদ ছড়িয়ে পড়ে। বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতিকেই তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম স্তম্ভ মনে করতেন। ভাষার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতিকে এবং বাংলার মানুষের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল মুজিববাদের অন্যতম লক্ষ্য। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু তার বক্তৃতায় সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর ব্যাপারে তাগিদ দেন। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনি বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিককরণে ভূমিকা রাখেন। এমনকি, ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ অফিসের কাজে বাংলা ভাষা প্রচলনে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

এদিকে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু যখন ছয় দফা ঘোষণা করেন, তিনি একে অভিহিত করেন 'বাঙালির বাঁচার দাবি' বলে। দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এর প্রচারণা করেন। এসব কারণে তীব্রভাবে জাতীয়তাবোধ জেগে ওঠে আপামর বাঙালির মনে। ছয় দফার কারণেই পাকিস্তানিদের অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে প্রতিজ্ঞ হয় প্রতিটি মানুষ, স্বতন্ত্র ভূখন্ডের দাবি ওঠে। এরমধ্যেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে আন্দোলন দমাতে চাইলো সামরিক জান্তরা। কিন্তু গণআন্দোলনের কারণে তাকে ছাড়তে বাধ্য হয় এবং পাকিস্তানি জান্তাদের প্রধান আইয়ুব খানকেও পদত্যাগ করতে হয়। কিন্তু মুক্তির নেশায় মগ্ন, তীব্র জাতীয়তাবোধে জাগ্রত, সাত কোটি বাঙালির মুক্তির দাবি আর থামেনি। যার ফলাফল, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে সরাসরি ২৬২ আসনের মধ্যে ২৬০টি এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে জয়লাভ করে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পরও ১৯৩ সালে সেই নৌকা প্রতীক নিয়েই ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে জয়লাভ করে তার দল।

বঙ্গবন্ধুর জাতীয়তাবাদ একদিনের নয়, ছোট থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের দেখে জাতীয়তাবাদের বীজ রচিত হয়েছিল তার মনে। তিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানিদের শোষণ থেকে বাঙালিকে মুক্ত করতে সেই বীজ বপন করেন পুরো জাতির মনে। যার চূড়ান্ত ফলাফল ৭০ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং পরবর্তীতে ৭ মার্চের ভাষণে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আদেশ দেওয়ার পর, প্রকৃত অর্থেই বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর দুর্গে পরিণত হওয়া।

বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির দীর্ঘ পদযাত্রার সূচনা আসলে সেই বাল্যকালেই, যা পরিণত বয়সে তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তিনি প্রভাবিত হয়েছেন নিজ এলাকার স্বদেশী আন্দোলনের নেতা অধ্যক্ষ পূর্ণচন্দ্র দাসের জীবন দেখে, এই নেতাকে নিয়ে লেখা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা প্রভাবিত করেছিল কিশোর শেখ মুজিবকে। পরবর্তীতে সেই কবিতা থেকেই 'জয় বাংলা' শব্দটি স্বাধীনতার বীজমন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। এছাড়াও বাল্যকালে তার একজন গৃহশিক্ষক (হামিদ মাস্টার) ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা। এখান থেকেই সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছেন কিশোর শেখ মুজিব। পরবর্তীতে নিজে মিশেছেন মাঠে-ঘাটে সবশ্রেণির মানুষের সাথে। সময়েই পরিক্রমায় নিজেই হয়ে উঠেছেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের একচ্ছত্র নেতা। বঙ্গভঙ্গর সময় যা করতে পারেনি ভারতবর্ষের নেতারা, ১৯৭১ সালে তাই করে দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। একটা জাতিকে জাতীয়তাবাদে দীক্ষিত করে এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা। তাই তিনি জানতেন, এই জাতীয়তাবাদই পারে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়া করাতে।

No comments

-->