শিরোনামঃ

বাংলাদেশের কাছে টিকা চেয়ে চিঠি লিখেছে হাঙ্গেরি-বলিভিয়া

বাংলাদেশের কাছে টিকা চেয়ে চিঠি লিখেছে হাঙ্গেরি-বলিভিয়া

অনলাইন ডেক্সঃ 

নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশের স্টকে থাকা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা থেকে কিছু ডোজ পেতে ঢাকাকে চিঠি পাঠিয়েছে ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি ও লাতিন আমেরিকার বলিভিয়া।

রোববার জাতীয় সংসদের একাদশতম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সময় এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।তিনি জানান, বাংলাদেশের কাছে জরুরি ভিত্তিতে করোনা টিকার পাঁচ হাজার ডোজ চেয়েছে হাঙ্গেরি। পূর্ব ইউরোপীয় দেশটিকে এই পরিমাণ টিকা দিতে সম্মতও হয়েছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেবল হাঙ্গেরি নয়. লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়াও বাংলাদেশের কাছে করোনার টিকা চেয়ে চিঠি লিখেছে। তবে তাদের টিকা দেয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।’

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে ‘কোভিশিল্ড’ নামে উৎপাদিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কিনেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এই টিকার প্রয়োগ কার্যক্রম।চুক্তি অনুযায়ী, সিরাম থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে বাংলাদেশ সরকার। এর মধ্যে গত সোমবার দেশে পৌঁছায় ৫০ লাখ ডোজের প্রথম চালান। ধাপে ধাপে পৌঁছাবে বাকি ডোজগুলো।

কেনা টিকা ছাড়াও বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। সব মিলিয়ে স্টকে আছে ৭০ লাখ ডোজের মতো টিকা।

বাংলাদেশ অনেকটা আগেভাগে করোনা প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করতে পারলেও টিকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে অনেক দেশ। এর মধ্যে কিছু দেশে করোনার প্রকোপও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।

টিকা নিশ্চিতে বাংলাদেশ অনেকটা নিশ্চিন্ত অবস্থানে থাকলেও বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় কিছু নেতা এ বিষয়ে সরকারের নানা সমালোচনা করছেন।

প্রমাণাদি না দিয়েই কেউ বলছেন, ভারত থেকে আনা টিকা কোনো কাজে দেবে না, এই টিকার যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। আবার কেউ বলছেন, বেশি মূল্যে টিকা আনছে বাংলাদেশ।

কিন্তু এখন ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালসহ যারা কোভিশিল্ড টিকা নিয়েছেন তাদের কেউই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলেনি। আবার একই টিকা বাংলাদেশে থেকে বেশি দামে কিনছে সৌদি আরব, ব্রাজিলসহ বিশ্বের অনেক দেশ।

সমালোচকদের একহাত নিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘হাঙ্গেরি ও বলিভিয়ার মতো উন্নত দেশগুলো যখন বাংলাদেশের কাছে করোনার টিকা চেয়ে আবেদন করছে, তখন বাংলাদেশের একটি অপরাজনীতির দল এই টিকা নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বৃহস্পতিবারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ২২টি দেশ এখন পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে। আর চুক্তি করতে পেরেছে মাত্র ৩১টি দেশ।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক উন্নত ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রই যখন এই প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে, তখন কেবল শেখ হাসিনার নেতৃত্বই জনগণের জন্য টিকার ব্যবস্থা করতে পেরেছে।

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমি আবেদন জানাব, একসময় গুজব রটানো ও গুজব সৃষ্টিকারীদের দমনে একটি আইন হয়েছিল। এখন সময় হয়েছে বিএনপির বিরুদ্ধে সেই আইন প্রয়োগের। কারণ তারা এই ভ্যাকসিন নিয়ে অনবরত গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে।’

No comments

-->