নতুন প্রকাশিতঃ

ঝিনাইদহ শৈলকুপায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭টি সেতুই পারাপারের অযোগ্য-

ঝিনাইদহ শৈলকুপায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৭টি সেতুই পারাপারের অযোগ্য-

মোঃ আনোয়ার হোসেন, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃঝিনাইদহের শৈলকূপায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান সেচ খালের ১০ কিলোমিটারের সাতটি সেতুই ভাঙাচোরা। প্রতিটি সেতুর রেলিং ভেঙে ও মূল পাটাতন ধসে বছরের পর বছর পড়ে থাকলেও এসব সেতু সংস্কার না করায় ঘটছে প্রাণহানি।

জানা গেছে, ওই সাতটি সেতুই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়া প্রধান সেচ খালের শৈলকূপার ৬নং সারুটিয়া ইউনিয়ন, ৭নং হাকিমপুর ইউনিয়ন ও ৮নং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যায় সেচ খালে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গরুভর্তি একটি নছিমন কাতলাগাড়ী নতুন বাজার এলাকার সেচ খালের রেলিং ও মূল পাটাতন ভাঙা সেতুটি পারাপারের সময় নিচে পড়ে নিহত হন বড় মৌকুড়ী গ্রামের গরু ব্যবসায়ী রওশন নামের এক ব্যক্তি। তা ছাড়া ভাঙাচোরা এসব সেতুতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন এলাকাবাসী।

পুরাতন বাখরবার গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা তোবারক হোসেন জানান, কাতলাগাড়ী নতুন বাজারের সেচ খালের ওপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক বছর আগে সেতুর রেলিং ভেঙে ধসে পড়লে এলাকাবাসী পুনর্নির্মাণের জন্য মানববন্ধন করেন। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন শৈলকূপা শহরে এবং শৈলকূপা থেকে কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াত করে থাকেন কয়েক হাজার মানুষ। কাতলাগাড়ী বাজার থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার একমাত্র পথ এটি। এ সেতুটি পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায় শিক্ষার্থীরা। অথচ চার-পাঁচ বছর সেতুর রেলিং ভেঙে ধসে থাকলেও টনক নড়েনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। গত ১১ ফেব্রুয়ারি কাতলাগাড়ী নতুন বাজার এলাকার সেচ খালের ভাঙা সেতুটি পারাপারের সময় নছিমনের নিচে পড়ে নিহত হন এক গরু ব্যবসায়ী।

কাশিনাথপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেন জানান, তাদের গ্রামের সেচ খালের সেতুটি পার হয়ে তারা শৈলকূপা শহর ও লাঙ্গলবাধ বাজারে যাতায়াত করে থাকেন। অথচ ১৫ বছর আগে রেলিং ভেঙে গেলেও মেরামত করেনি পাউবো।

সার ব্যবসায়ী মজিবর রহমান জানান, তাদের এলাকার সেচ খালের সেতুটি চার বছর আগে সম্পূর্ণ রেলিং ভেঙে ও মাঝ থেকে ধসে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও মেরামতের উদ্যোগ নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের। অথচ এ সেতু দিয়ে এলাকাবাসী শৈলকূপা শহর ও রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় যাতায়াত করে থাকেন। এ সেতুতে অন্তত ৩০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়া উপসহকারী প্রকৌশলী বিকর্ণ দাস জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সাত সেতুই ১৯৬০ সালে নির্মিত। এসব সেতু নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য তারা একটি প্রকল্প পাঠিয়েছেন। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।

No comments

-->