শিরোনামঃ

আমার সরকার মানে মানুষের সেবক - মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আমার সরকার মানে মানুষের সেবক - মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেক্সঃ মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করার জন্য আবারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার সময় আমি বলেছিলাম দেশের সেবক হিসাবে কাজ করব। কাজ করার সুযোগ পাওয়া ছাড়া প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার কাছে আর কিছু না। বারবার ভোটে নির্বাচিত করায় দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করব, মানুষের সেবা করব। আমার সরকার মানে মানুষের সেবক।’

বৃহস্পতিবার সামাজিক নিরাপত্তাবলয় (এসএসএন)-এর বিভিন্ন ভাতা সরাসরি উপকারভোগীদের মোবাইল ফোনে প্রেরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। এখন থেকে দুটি শীর্ষ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ ও ‘বিকাশ’-এর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বয়স্ক ভাতা, বিধাবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা সরাসরি উপকারভোগীদের মোবাইল ফোনে পাঠানো হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার ক্লান্ত হওয়া চলবে না, ঘুমালে চলবে না, মাইলের পর মাইল পারি দিয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতেই হবে, আর সেই লক্ষ্যটা হচ্ছে এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছিলেন এ দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাসকল্পে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বিভিন্ন ভাতার টাকা সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইলে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ‘আমরা যে ভাতাটা যাকে দিচ্ছি, সেটা যেন সরাসরি সেই মানুষটার হাতে পৌঁছায়। মাঝে যেন আর কেউ না থাকে। অর্থাৎ যাদের প্রয়োজন, তারাই টাকা পাচ্ছেন এবং যেভাবে খুশি তারা ব্যবহার করতে পারবেন।’ এটা করার জন্য তার সরকার দীর্ঘদিন থেকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যবস্থা চালুর জন্য তিনি সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

জাতির পিতাই পল্লি অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান জানান, তিনি পল্লি সমাজসেবা কার্যক্রম, প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে হাসপাতাল করা থেকে শুরু করে সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ চালু এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা প্রত্যেকটি মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করে সারা দেশের জেলার সংখ্যা ২৯ থেকে বাড়িয়ে ৬০টি করেন। যেটি বর্তমানে ৬৪টি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যখন বয়স্ক ভাতা চালু করি, তখন চিন্তা করেছিলাম-কেউ যেন ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে। ভাতা পাবে; কিন্তু যাদের কর্মক্ষমতা আছে, তারা কিছু কাজও করবেন। একেবারে ঘরে বসে থাকবেন না। প্রাথমিকভাবে সেসময়ে অন্তত ১০ কেজি চাল ক্রয়ের সামর্থ্য অর্জনে ১০০ টাকা করে ভাতার প্রচলন করা হয়, যা বর্তমানে ৫০০ টাকা হয়েছে এবং ভাতাপ্রাপ্ত জনগণের সংখ্যাও অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্যটা হচ্ছে-দেশের কোনো মানুষ যেন নিজেকে অপাঙ্ক্তেয় মনে না করে। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যে কর্তব্য রয়েছে, সেটাই আমরা করতে চাই।

এদিনের অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমদ বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জয়নুল বারী স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচির ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। এসময় সমাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সব থেকে বেশি উপকারভোগী জেলার মধ্যে চাঁদপুর, পিরোজপুর, লালমনিরহাট ও নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল।

ইতোমধ্যে ভাতাভোগীদের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় মোট ৮৮ লাখ ৫০ হাজার বিভিন্ন ভাতাভোগী-শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৬৯ লাখ জনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যেই সব ভাতাভোগীকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভাতা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতে রবার্ট ফ্রস্টের বিখ্যাত কবিতা ‘স্টপিং বাই উডস অন এ স্নোয়ি ইভনিং’-এর- ‘দ্য উডস আর লাভলি ডার্ক অ্যান্ড ডিপ/ বাট আই হ্যাভ প্রমিজেস টু কিপ/ অ্যান্ড মাইলস টু গো বিফোর আই স্লিপ/’ কবিতাটির উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। তারপরও সেই কাজই জাতির পিতা করতে চেয়েছিলেন। বারবার আঘাত এসেছে, মৃত্যুকে কাছ থেকেও দেখেছেন; কিন্তু লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। ফাঁসির আদেশ, গুলি, বোমা-কিছুই তাকে টলাতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে এভাবে ভালোবাসার শিক্ষাটা তিনি পিতার কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। কারণ, তাদের পরিবার নয়, দেশের মানুষই জাতির পিতার কাছে সব থেকে বড় ছিল। ‘এই ঘুণে ধরা সমাজটাকে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে’-জাতির পিতার ভাষণের এই উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশকে তিনি ঢেলে সাজাতে চেয়েছিলেন, যা কেবল রাজধানী বা শহরকেন্দ্রিক ছিল না, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ভাগ্য তিনি পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন।’

No comments

-->