নতুন প্রকাশিতঃ

নীলফামারী সদরের ৫ নং টুপামারী ইউনিয়নে ৯৮ জনের বয়স্কভাতা বাতিল

নীলফামারী সদরের ৫ নং টুপামারী ইউনিয়নে ৯৮ জনের বয়স্কভাতা বাতিল

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে জন্ম তারিখ পরিবর্তনের অভিযোগে নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের ৯৮ জনের বয়স্কভাতা বাতিল করা হয়েছে। এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) কার্যক্রমে বয়সের অসংগতি ধরা পড়ায় তাদের ভাতা বাতিল করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা বয়স্কভাতা পেলেও এখন বাদ পড়ার খবরে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারিভাবে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে বয়স্ক লোকদের জন্য এই ভাতা চালু করা হয়। বয়স্কভাতার ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত বয়স ৬৫ এবং নারীদের জন্য ৬২ বছর।

চলতি বছর সমাজসেবা অধিদফতরের নির্দেশে এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে উপজেলা সমাজসেবা অফিস। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৭২টি উপজেলায় প্রথম এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছর থেকে সারা দেশে একযোগে এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতা করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মীরা।

ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত উদ্যোক্তরা জানান, অনলাইনে সমাজসেবার সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভাতাভোগীর বই নম্বর, জন্ম তারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে সব তথ্য বের হয়ে আসে। যদি কোনো ভাতাভোগীর বয়স ৬৫ বা ৬২ এর কম হয় তাহলে সফটওয়্যার তা ইনভ্যালিড লেখা দেখায়। এভাবে এমআইএস কার্যক্রমে বয়সের অনুপযোগী শনাক্ত হওয়ায় ৯৮ জনের ভাতা বাতিল করা হয়েছে।

ডিজিটাল নিয়মে ডাটাবেজ করতে গিয়ে মূল জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে মিলছে না ভাতাভোগীদের জন্ম তারিখ। এসব ভাতাভোগীদের বয়সের সবচেয়ে বেশি অসঙ্গতি উপজেলার বাকি ইউনিয়ন গুলোতেও এমনটি হয়েছে বলে যানা যায়।

বাতিলকৃত ভাতাভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বয়স্কভাতার জন্য তারা জনপ্রতিনিধিদের কাছে ৫-৬ হাজার করে টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জমা দিয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা অর্থের লোভে এনআইডি জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মতারিখ পরিবর্তন করে বয়স বাড়িয়ে বয়স্কভাতা করে দিয়েছেন। কিন্ত এখন সেই কার্ডগুলো বালিত করা হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা একজন বলেন, এখন অনলাইনে ভাতার তথ্য পূরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সের কম উল্লেখ করলে অনলাইন সেটা গ্রহণ করবে না।

No comments

-->