নতুন প্রকাশিতঃ

পৌষে চৈত্রের খরা নীলফামারীতে

পৌষে চৈত্রের খরা নীলফামারীতে

স্টাফ রিপোর্টারঃ পৌষের এই শীত কুয়াশার বদলে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী সহ আশেপাশে এলাকায় চৈত্রের কড়া রোদ্রে প্রকৃতি ঝলমল করছে। আজ মঙ্গলবার(৫ জানুয়ারী/২০২১) রোদ্রের তাপে এলাকায় গরম ভাব শুরু হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করছে শীত কি পৌষেই বিদায় নিচ্ছে। এখনও মাঘ মাস পড়েনি। দিন দিন তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে।

উত্তরবঙ্গের রংপুর ও দিনাজপুর এলাকার আট জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০/১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠে গেছে গড়ে ২৭ ডিগ্রিতে।

আজ মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলের ৬টি আবহাওয়া অফিসের সর্ব শেষ তাপমাত্রায় জানানো হয় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সর্বনিম্ন ১২.৩ ও সর্বোচ্চ ২৫.৮, সৈয়দপুর উপজেলায় সর্বনিম্ন ১২.৫ ও সর্বোচ্চ ২৭, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১১.৪ ও সর্বোচ্চ ২৭.৯, দিনাজপুরে সর্বনিম্ন ১১.৮ ও সর্বোচ্চ ২৭.২, রংপুরে সর্বনিম্ন ১২.৮ ও সর্বোচ্চ ২৬.২, ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন ১১.২ ও সর্বোচ্চ ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নীলফামারীর তিস্তা নদী সহ বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানান,এবার শীতের প্রকোপ না থাকায় কম্বল বিতরনের চাহিদাও কমে গেছে। পৌষ মাসে প্রকৃতিতে চলছে যেন চৈত্রের কড়া রোদ্র।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতকাল। বাংলা মাসের হিসেবে এটি হয় পৌষ-মাঘ দুই মাস। প্রতি বছর শীত মৌসুমে দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সুবিধাবঞ্চিত মানুষজনের পোহাতে হয় শীতজনিত নানা রোগ-বালায় ও জটিলতা। বিশেষ করে হাজার হাজার মানুষ তীব্র শীতের প্রকোপে কাবু হয়ে পড়ে। পত্র-পত্রিকায় উঠে আসা সংবাদে শীতজনিত রোগে মারা যায় অনেক শিশু-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ। শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দ্বগ্ধ হচ্ছে অনেকে। এবার শীতের শুরুতেই এমনটি দেখা যায়নি।

নদীর বুকে বা নদীর ধারে সরিষা ক্ষেত বা বোরো বীজতলাও প্রকৃতিকে সাজিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির স্বাভাবিকতা মানুষকে স্বর্গসুখে নিমজ্জিত করে। এটি যেমন সত্য, ঠিক সমান বিপরীত আরেকটি সত্য হচ্ছে এই প্রকৃতির স্বাভাবিকতাই আবার কখনো কখনো অস্বাভাবিক ভয়ংকর, কাল হয়ে দাঁড়ায় মানুষের জন্য! ওই মানুষগুলো তাঁরাই, যাঁরা পেরে ওঠে না প্রকৃতির চিরাচরিত স্বাভাবিকতার সাথে। যাঁরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে না প্রকৃতির পরিবর্তনজনিত আচরণের সাথে।

উত্তরবঙ্গে শীতের তীব্রতা সব সময় বেশী থাকে। হিমালয় থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে প্রতি বছর। শ্রমজীবী মানুষ কাজে যেতেও পারে না। হাঁড় কাঁপানো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে খড়খুটো জ্বালিয়ে শীত নির্বারণের চেষ্টা করে। শীতের তীব্রতায় বিশেষ করে তিস্তা, ব্রক্ষ্মপুত্র, ধরলা, করতোয়া, মহানন্দা, যমুনা সহ বিভিন্ন নদী বেষ্টিতি চর ও গ্রামের বসবাসরত পরিবারগুলো রাতে ঠিক মতো ঘুমাতে পারেনা। হু-হু করে উত্তুরী বাতাস তাদের কাঁপিয়ে তুলে। কিন্তু এবার সেই ধরনের হাড়কাঁপুনি শীত হানা দিতে পারেনি।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, এবার শীতের প্রকোপ কম হলেও সরকারী ভাবে ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় ৩০ হাজার কম্বল বিতরন করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারিভাবে অনেকে কম্বল বিতরন করেছেন ও করছে। শীতের প্রকোপ বাড়লে সরকারি ভাবে আরও কম্বল বিতরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

No comments

-->