শিরোনামঃ

ঠাকুরগাঁও সদরের মৌসুমী সিনেমা হলের একাংশ এখন অটোরিকশার গ্যারেজে পরিণত।

ঠাকুরগাঁও সদরের মৌসুমী সিনেমা হলের একাংশ এখন অটোরিকশার গ্যারেজে পরিণত। 

মোঃসোহেল রানা,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃবাংলা সিনেমার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে কমেছে সিনেমা হলের সংখ্যা। বর্তমানে হল বিমুখ মানুষ টেলিভিশিন-কম্পিউটারসহ নানান মাধ্যমে খুঁজে নিচ্ছে নিজেদের পছন্দের সিনেমা।

একটা সময় ছিল সদ্য মুক্তি পাওয়া নতুন বাংলা ছবি দেখতে মানুষ ছুটে যেত সিনেমা হলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে দল বেঁধে বাংলা ছবি দেখা বিনোদনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।ঈদ-পূজা, পালা-পার্বণ উপলক্ষে  গ্রাম ও শহরের মানুষ সিনেমা হলের সামনে লাইন ধরে দাঁড়াতো পছন্দের সিনেমার টিকিট কাটতে। এমন প্রথাও চালু হয়েছিল যে, নতুন জামাই শ্বশুরবাড়ি গেলে নতুন বউ ও শ্যালক-শ্যালিকাদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যেতেন!ঠাকুরগাঁও সদর কয়েকজন মানুষকে জিজ্ঞেস করা হলে তাদের মধ্যে একজন বলেন, আমি যখন ১৯৯৫ সালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নে বিয়ে করি, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শালা-শালিদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যেতাম কর্ণফুলী, বলাকা, আলিয়া ও মৌসুমী সিনেমা হলে— এইসব হলে প্রায় ছবি দেখতে যেতাম।

তিনি আরও বলেন, বেদের মেয়ে জোসনা, খায়রুন সুন্দরী, কমলার বনবাস, কাসেম মালার প্রেম, ঝিনুক মালা, রাখাল বন্ধু, গরীবের সংসার, ভাত দে,মা আমার বেহেস্ত,মাটির ফুল— এইসব ছবি দেখতে ছুটে যেতাম সিনেমা হলে। এসব সিনেমা আগে সিনেমা হলে গিয়ে দেখতাম।পরে গ্রামগঞ্জে সিডি-ভিসিআর নিয়ে সবাই মিলে একসাথে  দেখতাম।বলাকা সিনেপ্লেক্সে সিনেমার পোস্টারের বদলে ঝুলছে কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার এক সময়ের রমরমা সিনেমা হলের অনেকগুলোই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে স্কুল ভবন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গোডাউন হিসেবে। আবার সেই সব সিনেমা হলের সামনে সিনেমার পোস্টারের বদলে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলতেও দেখা যায়।  

ঠাকুরগাঁও সদরের মৌসুমী সিনেমা হলের একাংশ এখন অটোরিকশার গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। বাকি অংশে ওয়ার্ল্ডপ্লাস রেসিডেন্সিয়াল স্কুল। অন্যদিকে জেলার সবচেয়ে বড় সিনেমা হল বলাকা সিনেপ্লেক্সের সামনের দেয়ালে সিনেমার পোস্টারের বদলে ঝুলছে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার। এই সিনেমা হলটিও গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।

শহরের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আবু তরাব মানিক ভাই  জানান, ’৮০ দশকে মানুষ সিনেমা হলসহ সিডি-ভিসিআরে সিনেমা দেখতো। শুক্রবার এলে বিকেল তিনটার সময় কাজকাম গুছিয়ে সাদাকালো টিভিতে বিটিভির প্রচারকৃত সিনেমা দেখতে বসে পড়তো। এখন আর এইসব দৃশ্য চোখে পড়ে না।

No comments

-->