শিরোনামঃ

নীলফামারীতে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

নীলফামারীতে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

মোঃ রাব্বি ইসলাম আব্দুল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টারঃ মাঠভরা সরিষা ফুলের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। দিগন্তজোড়া হলুদের বিস্তার। আজ ৮ ই জানুয়ারী  শুত্রবার সরেজমিনে গেলে দেখা যায় নীলফামারী সহ তার আশে পাশে এলাকায় গ্রামের পর গ্রামের ফসলি মাঠের চারপাশ ভরে উঠেছে হলুদের ঘ্রাণ আর সৌরভে। গাঢ় হলুদ বর্ণের এ ফুলে মৌ-মাছিরা গুন গুন করে মধু আহরণ করছে। দূর থেকে সরিষার ক্ষেতগুলো দেখে মনে হয়, কে যেন হলুদ চাদর বিছিয়ে রেখেছে। রোদে ঝলমল করছে সরিষা ফসলি জমি। হলুদের সমারোহে সজ্জিত সরিষার প্রতিটি ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন।

 সরিষার ব্যাপক ফলনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে।হলুদ সরিষা ফুলের অবারিত সৌন্দর্য এখন লুটোপুটি খাচ্ছে উত্তরবঙ্গের রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলার মাঠে মাঠে। শীতের কুয়াশাকে উপেক্ষা করে চাষিরা সরিষা ক্ষেতের যত্ন নিচ্ছেন।

আবহাওয়া অনুকূলে এবং সার বীজ সংকট না থাকায় সরিষা বীজ বুনে ভাল ফলনের আশা করছেন তারা। মাঠের পর মাঠ সরষেক্ষেত প্রকৃতিতে যেন অন্য এক মাত্রা এনে দিয়েছে। হলুদ সরিষা ফুলের মৃদু উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের এখানে-সেখানে। শহরের সীমা ছাড়িয়ে যেকোনো সড়কে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সোনাঝরা এ ফুলের সীমাহীন ফসলি জমির বাগান। আঁকাবাঁকা মেঠো পথ, দু'পাশে দিগন্ত হারানো হলুদের সমারোহ। ফসল ক্ষেতের সর্বত্রই এখন হলুদ রঙের গালিচা বিছিয়েছে প্রকৃতি।

নীলফামারীর তরনীবাড়ি গ্রামের কয়েকজন কৃষক জানান, এবার সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ায় সম্ভাবনা দেখছে তারা। ফসলের মাঠগুলোতে এখন সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে।মাঠের পর মাঠজুড়ে বিরাজ করছে থোকা থোকা হলুদ ফুলের দৃষ্টিনন্দন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সরিষার ফুল আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ প্রকৃতিপ্রেমীদের।

কয়েক দিন পরই সরিষা উঠবে তাদের ঘরে। তারা আরও জানান, সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় আবাদে মনোযোগ দিয়েছে এলাকার কৃষকরা।সরিষা চাষি  বলেন, দুই বিঘা জমিতে তিন ধরনের সরিষার আবাদ করেছি। মাঠে বেশ ফুল ফুটেছে। আসা করছি ফলন ভাল হবে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সরিষা ফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।তিনি জানান, আগাম জাতের সরিষা এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তোলা হবে।মাঠের পর মাঠের সরিষার ফুল আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ প্রকৃতিপ্রেমীদের। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সরিষার ক্ষেত। অনেক ক্ষেতে মৌ চাষিরা মৌচাক বসিয়েছেন।তিনি জানান, আড়াই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন।

ইটাখলার সরিষা চাষি নুরুলদীন  জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় তার ব্যয় হয়েছে এক হাজার টাকা করে। ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি ৪ মণ সরিষা আসবে। গত বছর প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করেছেন ২ হাজার ৪শ টাকা দরে।বাজার দর ভালো পেলে এবারও তিনি সরিষা বিক্রি করে লাভবান হবেন। একই এলাকার আরেক চাষি আবেদ আলী জানান, দেড় বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে ১ হাজার টাকা করে ব্যয় হয়েছে। সরিষার ফুলে খেত ভরে গেছে। ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি ৪ মণ সরিষা পাওয়া যেতে পারে।বিক্রি করে লাভবান হতে পারবো। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৮-১০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। সরিষা খেতকে জাত পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।এদিকে সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্নবাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখে আনন্দের রেখা ফুটেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা সদরে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে অপরূপ শোভা ধারণ করেছে মাঠঘাট। মাঠে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। সরিষার ফুলের চারপাশে মৌমাছির আনাগোনা বেড়ে গেছে। কৃষি বিভাগের মতে উত্তরাঞ্চলে এবার সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করা হচেছ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নীলফামারী সুত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে এই জেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে সরিষা তুলে ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করবেন চাষিরা। 

সুত্র মতে এবছর রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলায় ৩৯ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে নীলফামারী জেলায় ৫ হাজার৬০০ হেক্টর, লালমনিরহাটে দুই হাজার ১৫০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ১৩ হাজার ৬০০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর ও রংপুর জেলায় ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ২২৯ মেট্রিক টন সরিষা। উন্নত জাতের বীজ, সারের সরবরাহ এবং সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে ছিলো।

No comments

-->