শিরোনামঃ

নীলফামারীতে নতুন করে হাড় কাঁপানো শীত।

নীলফামারীতে নতুন করে হাড় কাঁপানো শীত। 


স্টাফ রিপোর্টারঃ নীলফামারীতে গতকাল থেকে শীতের তান্ডব শুরু হয়েছে। গতকাল তাপমাত্রা ছিলো সর্বনিম্ন ৬.৫ সেলসিয়াস। আর কুয়াশায় ছেয়ে যাচ্ছে গ্রামের রাস্তাঘাট। দীর্ঘ গরম শেষে একটু স্বস্তি দিলেও, বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শীতে কাহিল হয়ে গেছে নীলফামারীর জনজীবন। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেলে এক ফালি সূর্যের আলো দেখা দিলেও, নিমিষেই বিলীন।তিস্তা নদীর পারে রাতে কনকনে ঠান্ডা, কুয়াসা সকাল থেকে গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত থাকছে।এদিকে প্রচন্ড হাড়কাপানো শীতে কষ্টে দিন কাটছে চরাঞ্চলের মানুষের। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।

তিস্তা নদীর বিভিন্ন চর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনের কুণ্ডলি জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে অসহায় পরিবারগুলো। শীতের গরম কাপড়ের অভাবে বিপাকে পড়েছে অসহায় জনগোষ্ঠী। বেশি বিপাকে পড়েছে সহায়সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলো। তারা পুরোনো গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় করছে।তিস্তা পাড়ের পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি অধক্ষ আব্দুল লতিফ খান জানান,সকাল থেকে তিস্তা এলাকায় কনকনে শীত পড়েছে, এবং শীতের তান্ডবে জন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ৫ শত কম্বল বিতরণ করেছি, আরও দরকার ৩ হাজার, চেষ্টা করছি খুব শীঘ্র কম্বল বিতরণ করবো।

জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ার নাসিরুদ্দিন ও সুটিপাড়া গ্রামের কৃষক নয়ন মিয়া বলেন, শীতের কারণে এখন কৃষি জমিতে কাজে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এ কারণে স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।অপরদিকে একই গ্রামের কৃষি শ্রমিক সবুর শাহ বলেন, শীতের কারণে কাজ কমে গেছে। আর যেটুকু মিলছে তাতে মজুরি কম। পাশাপাশি শীতবস্ত্র ক্রয়ের টাকাও নেই, পরিবারের দুই শিশু সন্তানসহ দুর্ভোগে আছি।শীতের কারণে আগের তুলনায় লোক সমাগম কমেছে জেলা শহরে। ফলে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে ব্যবসা বাণিজ্যে।

নীলফামারীর জেলা সদরের শাখামাছা বড়োবাজারের ব্যবসায়ী আকতার হোসেন স্বপন বলেন, লোক সমাগম না হওয়ার কারণে দোকানে বিক্রি কমেছে। এমনিতেই করোনা ব্যাবসায়ীদের ক্ষতি করেছে, তার ওপর শুরু হয়েছে হাড়কাঁপানো শীত, রাতে জনসমাগম নেই বললে চলে।নীলফামারী সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এলিনা আকতার বলেন, শীতের তীব্রতা বেড়েছে এই এলাকায়, প্রতিটি ইউনিয়নে ৪শত ৬০ টা করে কম্বল এবং ৬ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এখনো সাহায্য সহযোগিতা করছি, দরিদ্রের মাঝে।

নীলফামারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দীপক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ইতোমধ্যে সরকারিভাবে গরম কাপড়ের ব্যাবস্থা করেছে উপজেলা পরিষদ । তিনি সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

No comments

-->