নতুন প্রকাশিতঃ

‘শেখের বেটি শেখ হাসিনা আপা ঘর দিছে’

‘শেখের বেটি শেখ হাসিনা আপা ঘর দিছে’

অনলাইন ডেক্সঃ অভাব অনটনের সংসার। পাঁচ বছর ধরে অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন নওগাঁ সদর উপজলোর কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের শালেবাস গ্রামের আনোয়ারা বেওয়া। স্বামী মারা গেছেন। বিয়ে দিয়েছেন একমাত্র মেয়েকে।

জমি কিনে ঘর করার স্বপ্নও তিনি কখনও দেখেননি। তবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাওয়া আধাপাকা ঘরে কষ্ট দূর হলো আনোয়ারার। জীবনের বাকি সময়টুকু মাথা গোঁজার ঠাই হলো তার।

ঘর পেয়ে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘লিজের কোনো ঘর বাড়ি নাই বাপো। মানসের জাগাত ঝুপড়ি ঘর করা থাকি। আজ শেখের বেটি শেখ হাসিনা আপা ঘর দিছে। তাতে করা হ্যামার এ্যানা মাতা গোঁজার ঠাঁই হলো।’

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যান শেখ হাসিনা আপাক মঙ্গল দান করুক, মন থ্যাকা দোয়া করি। হাসিনা আপা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক। হ্যামাকে মতো গরিব মানুসের জন্নি ম্যালা উপকার করলো। একা মানুস হামি বাকি জীবন এনা লিজের ঘড়োত কাটাবার পারমু।’

শনিবার (২৩ জানুয়ারী) সকাল ১০টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সে সারা দেশের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মধ্যে ঘর প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ হল রুমে এক হাজার ৫৬ পরিবারের কাছে ঘরের কাগজপত্র তুলে দেন নওগাঁর সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন ও জেলা প্রশাসক হারুন অর রশীদ।

ঘর পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলার হাঁপানিয়া ইউনিয়নের আবাদপুর গ্রামের আব্দুর রহিম মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘লিজের ঘর নাই তাই এতদিন ধরা পাশের এক বড়লোক বাবুর পুকুর পাড়ের জাগাত খড়ের ছাউনি দিয়া ঝুপড়ি ঘরোত কোনো রকমে থাকিচ্ছিনু। আজ শেখ হাসিনা আপা ঘর দিছে। সেডার কাজগপত্র এমপি জন বাপো আর ডিসি স্যার হ্যামাক হাতোত তুলা দিলো। কি যে খুশি লাগিচ্ছে বাপো কইয়া তোমাকোক বুঝাবার পারমুনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানসের জমিত শ্রমিকের কাজ করা খাই। তয় বড় আনন্দের কথা সারাদিন কাজ করা যাইয়া লিজের বাড়িত রাতোত ঘুমাবার পারমু এডাই বড় শান্তি বাপো। হাসিনা আপা যান ম্যালা ম্যালা ভালো থাকে দোয়া করিচ্ছি।’

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় জেলার ১১টি উপজেলায় এক হাজার ৫৬টি পরিবার ঘর পেয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১০টি, বদলগাছীতে ৪৮টি, মহাদেবপুরে ৩৪টি, আত্রাইয়ে ১৭৫টি, রাণীনগরে ৯০টি, মান্দায় ৯০টি, সাপাহারে ১২০টি, নিয়ামতপুরে ৭১টি, পোরশায় ৫৪টি, ধামইরহাটে ১৫০টি এবং পত্মীতলায় ১১৪টি। এগুলোর মধ্যে ভিক্ষুক পরিবার ৩১টি, প্রতিবন্ধী ১৫টি, অন্যের বাড়িতে, রাস্তার পাশে ও খোলা জায়গায় ঝুপড়ি ঘরে থাকা ১১টি, স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা ৫৫টি, দিনমজুর ১২টি, ‘আদিবাসী’ ৯১টি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবার রয়েছে ৭৩টি।

আধাপাকা প্রতিটি বাড়ি বানাতে খরাচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। একই ধরনের বাড়িগুলোতে রয়েছে- দুটি শয়ন কক্ষ, একটি শৌচাগার, রান্নাঘর, কমনস্পেস ও একটি বারান্দা। এসব বাড়ি প্রত্যেক পরিবারের জন্য আলাদা করে নির্মাণ করা হয়েছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘জেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা আট হাজার ৪৯৩টি। প্রথম পর্যায়ে জেলার এক হাজার ৫৬টি পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্ত দিয়ে বাড়ি দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সকল উপজেলায় কবুলিয়ত ও নামজারি সম্পন্ন হয়েছে।’

No comments

-->