শিরোনামঃ

সাতক্ষীরায় আমের গাছে বসন্তের দোলা

সাতক্ষীরায় আমের গাছে বসন্তের দোলা

নাঈমুর রহমান সজীব,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ বসস্তের আগমনে নতুন সাজে সেজেছে আম গাছ। সাতক্ষীরায় আমগাছে আগাম জাতের মুকুল আসতে শুরু করেছে। সবুজ পাতার আড়াল থেকে বের হওয়া মুকুলে এখন মৌমাছির গুঞ্জন। রঙ্গিন ফুলের সমারোহে বর্ণিল সাজে সেজেছে উপজেলার বিভিন্ন আমের বাগান। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম চারপাশের প্রায় প্রতিটা আমগাছ। আর শোভা ছড়াচ্ছে স্বমহিমায়। 

মুকুলের ম-ম ঘ্রাণে আমোদিত আশপাশের এলাকা। মৌসুমে আগাম আসা আমের মুকুলে মুগ্ধ পথচারী। একই সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়েছে জেলার আম চাষীদের। কুয়াশায় মুকুল ঝরে যাওয়া ঠেকাতে আম চাসী ও আম ব্যবসায়ীরা শুরু করেছে বাগানে পরিচর্যার কাজ। সাতক্ষীরা জেলার আমের স্বাদের সুনাম বিশ্বজুড়ে। জেলার বাগান মালিক ও আমচাষিরা ব্যস্থ সময় পার করছেন পরিচর্ষা নিয়ে। অবশ্য গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই তারা গাছের পরিচর্ষা করে থাকে, যাতে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যা না হয়। আম চাষিরা নিজ উদ্যোগে নিজেরাই চারা উৎপাদন করছেন এবং বাজারজাত করে অর্থ উপার্জনও করছেন উপজেলার আম চাষিরা বা বাগান মালিকেরা। 

শহরের আম বাগানের মালিক আব্দুল গফুর জানান, চার একর জমিতে আমের বাগান করেছি। তবে এখনো সব গাছে মুকুল আসেনি, কিছু দিনের মধ্যে হয়তো চলে আসবে বলে আশা করছি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আমের ফলন ভালো হবে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, আবহাওয়াগত ও জাতের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবং বড় ধরণের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এ জেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে এবং আম চাষিরা লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, গতবারের চেয়ে উৎপাদন বাড়াতে বাগান মালিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা উপজেলার আমের বাগানগুলোতে এবার প্রতিটি আম গাছে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। এখানকার হিমসাগর, ন্যাংড়া, গোপালভোগ ও আম্রপালি আম দেশের বাইরেও খ্যাতি অর্জন করেছে। 

তাই এবারো এবারও বিষমুক্ত আম রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছেন বাগান মালিকরা। তাই গাছে আসা পর্যাপ্ত আমের মুকুল ধরে রাখতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বাগানের শ্রমিকরা। আম বাগান মালিকরা বলেন, বিষ মুক্ত আম উৎপাদন হবে। গত বছর করোনার কারণে বিদেশে আম রপ্তানি করা যায়নি। আশা করছি এবার আমরা রপ্তানি করব। তবে পোকার আক্রমণ ও প্রতিকূল আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় তারা। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ ও বাগান মালিকদের প্রশিক্ষণসহ বাগান তদারকি করছেন কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা। গত বছরে সাতক্ষীরায় আগাম জাতের আমের ফলন কম হওয়ায় এবছর আগের ভাগে আম গাছ পরিচর্যায় মাঠে নেমেছে আম চাষিরা। সাতক্ষীরার আমের সুনাম রয়েছে দেশ-বিদেশে।

 ইউরোপ, ডেনমার্ক, ইতালি, সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশে সাতক্ষীরার আম রপ্তানি হয়। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছর বছর বিদেশে আম রপ্তানির করতে পারিনি কৃষি বিভাগ। এ বছর আম রপ্তানির আশা করছেন তারা। সাতক্ষীরা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলায় আমচাষীর সংখ্যা ১৩ হাজার ১০০ জন। জেলায় চলতি মৌসুমে পাঁচ হাজার ২৯৯টি বাগানে চার হাজারের কিছু ৩শ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হবে। জেলায় গত মৌসুমে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদিত হয়ে ছিল। সাতক্ষীরা আমের বর্তমান রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য মাঠ পর্যায়ে আমাদের কৃষি অফিসাররা সবসময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। যাতে আমের ক্ষতি না হয়।

No comments

-->