শিরোনামঃ

লোহাগড়া সেই প্রতিবন্ধী মাসুদ কে ভ্যান উপহার দিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভদ্রলোক ।

লোহাগড়া সেই প্রতিবন্ধী মাসুদ কে ভ্যান উপহার দিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভদ্রলোক । 

মো: আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার নড়াইলঃ কয়েকদিন আগে চাচই গ্রামের প্রতিবন্ধী মাসুদেক নিয়ে কয়েকটি পত্র-পত্রিকা ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় লেখা লেখি হয়েছিল। সেই সুত্রপাতে শুক্রবার (১৫ জানুয়ারী) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভদ্রলোক  একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে মাসুদকে একটি নতুন ভ্যান উপহার দিয়েছেন।এবিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ বলেন, যে ভাই ভ্যানটি দিল তাকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাই, এবং তার পরিবারের সকলের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করি। 

এর আগে! সকালের শুরুতে ভ্যানের চাকা না ঘুরলে পেটে ভাত জোটে না প্রতিবিন্ধ মাসুদের পরিবারের। নড়াইলের লোহাগড়া থানার চাচই গ্রামে ৪ শতক জমির ওপর পাটখড়ি ও পলিথিনে মোড়ানো একটি ছোট নসিমন ঘরে বসবাস করেন প্রতিবন্ধি মাসুদের পরিবার।

অতি প্রত্যুষে না খেয়ে তিন চাকার একটি ভাড়ার ভ্যান নিয়ে যাত্রীর খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন প্রতিবন্ধি মাসুদ। অনেক সময় যাত্রীরা তাকে দেখে তাহার ভ্যানে যাত্রী হতে চায়না। কারন, মাসুদের দুটি পা ই বিকলাঙ্গ। যখন যাত্রীরা চলে যেতে চায় সে বিনীতভাবে বলে ‘আমি ভালো ভ্যান চালাতে পারি আপনাদের কোন সমস্যা হবেনা। আপনাদেরকে সুন্দরভাবে আপনাদের গন্তব্যে পৌছে দেব। আপনাদের ইচ্ছামত আমাকে ভাড়া দিয়েন। জানেন স্যার আপনাদের টাকা দিয়েই আমার সংসার চলবে এবং ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হবে। এভাবে সারাদিন ভ্যান চালিয়ে প্রতিবন্ধি মাসুদ তিন থেকে চারশ টাকা  উপার্জন করে তার তিন সদস্যের সংসারের খরচ ও একমাত্র ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালান।দিন শেষে ভ্যান মালিককে ভাড়া বাবদ দিতে হয় ১৬০ টাকা। প্রতিবন্ধি মাসুদ শত প্রতিবন্ধকতার ভেতরেও একমাত্র ছেলে রাজু আহম্মেদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ছেলে বর্তমানে লোহাগড়া সরকারি কলেজে এইচএসসি-তে অধ্যয়নরত। প্রতিবন্ধি মাসুদের স্বপ্ন তার ছেলে লেখাপড়া শিখে একদিন অনেক বড় হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাসুদের ঘরটি জসিমউদ্দিনের আসমানি কবিতার সেই আসমানিদের ঘরের মত। কালের বিবর্তনে বেন্না পাতা হাঁরিয়ে যাওয়ায় পাটখড়ি ও পলিথিন দিয়ে একটি নসিমন ঘর তৈরি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। 

প্রতিবন্ধি মাসুদের সাথে কথা বললে, মাসুদ আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে যখন আমার কাছে লেখাপড়ার খরচের টাকা চায় তখন নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। মনে হয় আমি যেন জগতের একমাত্র ব্যর্থ পিতা। প্রতিবেদক ভিক্ষাবৃত্তির কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, যতদিন আমার দেহে প্রাণ আছে ততদিন আমি যেকোন কর্ম করেই হোক সংসারের খরচ জোগাড় করব কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি করব না।

No comments

-->