শিরোনামঃ

রায়পুর -ভোলারচরে আলতু ডাতাতের তান্ডব

 রায়পুর -ভোলারচরে আলতু ডাতাতের তান্ডব

আহসান হাবীব বিশেষ প্রতিনিধিঃ ভোলার কুখ্যাত দস্যু আলতু বাহিনী ও লক্ষীপুরের হারিস শাহজালাল বাহিনীর সম্মিলিত সন্ত্রাসী হামলায় ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব ভোলার চরের অসংখ্য পরিবার। সন্ত্রাসীদের এমন নারকীয় তান্ডব লীলা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। কোটি টাকার অধিক মূল্যের গবাদিপশু লুটপাটের পর আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রটি শত শত একর জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে ক্ষান্ত হয়নি বরং অসংখ্য নীরিহ পরিবারকে উৎখাত করার চূড়ান্ত নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে। তারই ফলশ্রুতিতে চরবাসীর শেষ আশ্রয়স্থল মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতবাড়ি ঘর সবকিছু ভেঙ্গেচুরে লুটে নিয়ে বিরাণ ভূমিতে পরিণত করেছে। 

২৩ নভেম্বর ২০২০ ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মোঃ এনায়েত হোসেন রহস্যময় কারণে ভোলার চরে যাওয়ার পর থেকেই এরকম নারকীয় তান্ডব লীলা হয়েছে দাবী করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা। আলতু বাহিনীর প্রধান আলতু ডাকাতের সাথে থানা পুলিশের অনেক সখ্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ। এমনকি মামলার প্রধান আসামী আলতু ডাকাতসহ একাধিক আসামীরা থানায় অবাধ বিচরণ ও তাদের কে গ্রেফতার না করার কারণ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ ফরিদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন ১ থেকে ২০ নং আসামিগণ আগাম জামিনে আছেন কিন্তু এর স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রকার প্রমাণ দেখাতে পারেননি।আন্তঃজেলা সন্ত্রাসী চক্রের সম্মিলিত নৃশংস হামলার শিকার হয়ে নিগৃহীত ভোলার চরের অসহায় পরিবার গুলোর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে তারা কেউ কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

আবার কেউ কেউ বেড়ীবাঁধের উপরে টংঘর পেতে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের উপরে এমন ন্যাক্কারজনক হামলার কারণ জানতে চাইলে সন্ত্রাসীদের নির্মম নির্যাতনের রোমহর্ষক বিবরণী দিতে গিয়ে অনেকে আর্ত-বিলাপ দেন! তারা বলেন,আলতু ডাকাত একজন দুর্ধর্ষ জলদস্যু ও ভূমিদস্যু। একসময় বংগচরে চোরাই তেলের ব্যাবসা করা আলতু বর্তমানে একাধিক ডাকাত দলের নেতৃত্বে দেয়।

মেঘনা নদীতে মাছ আরোহণকারী জেলে ও ভোলা, লক্ষীপুর,রায়পুর, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ইত্যাদি এলাকার চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, লুটপাট করাই তাদের নেশা ও পেশা। আলতু ডাকাতের নির্যাতনের কবল থেকে মুক্তি পেতে চরবাসী দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন পর্যায়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরে প্রতিকার চেয়েও কোন লাভ হয়নি। এমনকি ২০১৫ সালে অসংখ্য জেলে ও চরবাসী মিলিত হয়ে আলতু ডাকাত কে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ভোলা জেলা প্রশাসক এর কার্যালয়ের সম্মুখে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন যাহা স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দস্যু চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি । ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি ভুক্তভোগী অসহায় চরবাসী ও নিরীহ জেলেদের। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে মেঘনার বুকে ভাসমান এসব চরাঞ্চল গুলোকে। আর এসব জনপদে কেউ আলতু বাহিনীর  বিরুদ্ধে গেলেই তার উপর নেমে আসে অত্যাচারের স্টীম রোলার।নিজস্ব টর্চার সেলে অসংখ্য নিরীহ জেলে ও সাধারণ কৃষকদের কে আটক করে নির্যাতনের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে । এক সময়ের আলতু মাঝি এখন ডাকাত সম্রাট ।মেঘনার নিরীহ জেলেদের নিকট এক আতংকিত নাম।বনে গেছেন কোটি টাকার মালিক। 

তার নিকট থেকে নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণকারী শহরের কর্তাবাবুদের কেউ কেউ তাকে মাদবর সাহেব বলেও ডাকেন। এসব সন্ত্রাসীদের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে তাদেরকে অস্ত্র সরবরাহ ও তাদের নিকট থেকে নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণ করে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করার কাজটি খুবই চতুরতার সাথে করে থাকেন রাজাপুর ইউপি র ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ওহাব আলী চৌকিদার।

এমনকি তার পুত্র সাদ্দাম সাম্প্রতিক আলতু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও অবলা নারীদের সম্ভ্রোম লুণ্ঠনসহ নানাবিধ অপকর্মের খলনায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এদিকে খান এগ্রো ফার্ম লিমিটেডের স্বত্বাধীকারী মাহমুদুল হক রাসেল খান বলেন, গত ১৭ই জুলাই ২০২০ ভোলার আলতু বাহিনী এবং লক্ষীপুরের হারিস ও শাহজালাল বাহিনী পরিকল্পিতভাবে ভোলার চরে আমাদের গরুর খামার, মাছের আড়ৎ ও মুদি দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি করে আমার ভাই শাহিন খান, মিন্টু খান ও আমাদের কর্মচারী করিম কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ টাকা মালামাল ও ১৫ টি গরু লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। 

এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মোঃ এনায়েত হোসেন রহস্যময় কারণে মামলা রুজু না করায় বাধ্য হয়ে আমার ভাই শাহিন খান বাদী হয়ে ভোলার বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওসি কে এফ আই আর গ্রহণ করার নির্দেশ দেন যাহার নং জিআর ৪৬৩/২০ ।একই সাথে এমন লোমহর্ষক চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় মামলা রুজু না করায় ওসি ভোলা কে সতর্ক করেন বিজ্ঞ আদালত।এরপরেও থানা পুলিশ দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। উল্টোদিকে আলতু বাহিনীর অপর এক সদস্য আলতু ফরাজির দায়ের করা  একটি মিথ্যা ডাকতি মামলায় পুলিশ আমাদের কে হয়রানি করে আসছে।যাহার নং জিআর ৪৫০/২০। জনৈক আলতু ফরাজীর দায়ের করা মিথ্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মিন্টু খানকে অথচ মামলায় দেখানো ঘটনার তারিখ ২১ জুলাই২০২০,যেদিন মিন্টু খান বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এমনকি মামলার অপর আসামি শাহিন খান বাদী হয়ে ঐদিন ভোলা কোর্টে ১৭ জুলাইয়ের ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন অথচ আশ্চার্যের বিষয় হলো থানা পুলিশ এর পরে এমন ভিত্তিহীন মামলাটি চলমান রেখে একের পর এক গ্রেফতার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের এমন খামখেয়ালীপনার কারণেই মূলত দস্যুরা আরো বেপরোয়া হয়ে চরে বসবাসকারী রাসেল খানের আত্মীয় স্বজন ও নিরীহ চর বাসীর উপরে ধারাবাহিক হামলা ও লুটপাট করে।

No comments

-->