শিরোনামঃ

দুর্নীতি দমনে সরকার জিরো টলারেন্সেঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দুর্নীতি দমনে সরকার জিরো টলারেন্সেঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেক্সঃ বিদ্যমান আইনকানুন, নিয়মনীতির সাথে দুর্নীতি দমনকে একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সকল স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ আহ্বান জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ। প্রশ্নের লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সকল স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থেকে বহুমাত্রিক কাজ করছে। ফলে এক দশক আগের তুলনায় দুর্নীতি অনেকাংশে কমে এসেছে। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যক্তি-পর্যায়ে কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা খুব দরকার।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বঙ্গবন্ধুর একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘নেশন মাস্ট বি ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট করাপশন। পাবলিক ওপিনিয়ন মবিলাইজ না করলে শুধু আইন দিয়ে করাপশন বন্ধ কর যাবে না।’ তাই কেবল আইন প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি আন্দোলন গড়ে তোলা। সংসদ নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নেমে আসে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও শুদ্ধাচারের অভাব। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা এই অব্যবস্থা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। এই যুদ্ধকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তার শাসনামলে একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। ১৯৭৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে তিনি বলেছিলেনÑ ‘সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে হলে দেশবাসীকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে হবে। একটি কথা ভুলে গেলে চলবে নাÑ চরিত্রের পরিবর্তন না হলে এই অভাগা দেশের ভাগ্য ফেরানো যাবে কি না সন্দেহ। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও আত্মপ্রবঞ্চনার ঊর্ধ্বে থেকে আমাদের সকলকে আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রভাবমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ১০ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশন ১৩ হাজার অভিযোগ অনুসন্ধান, তিন হাজার ৫০৯টি মামলা রুজু এবং চার হাজার ৪০৭টি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের উৎসমুখগুলোর বন্ধ করতে অনলাইনে টেন্ডারসহ বিভিন্ন সেবা খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা : জাতীয় পার্টির সদস্য মো: ফখরুল ইমামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাসের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর কিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে তার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্ব থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রাপ্তি : বিরোধী দলের প্রধান হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে কোভিড-১৯-এর কারণে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশ, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি) ও জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা থেকে যথেষ্ট সাড়া পাওয়া গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থা থেকে এক হাজার ৮১৭ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ঋণ সহায়তার পরিমাণ এক হাজার ৬৪০ মিলিয়ন ডলার ও অনুদান সহায়তার পরিমাণ ১৭৭ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন ডলার। প্রাপ্ত প্রতিশ্রুতির মধ্যে এক হাজার ৫২০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড় হয়েছে। আগামীতে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও ফ্রান্সের কাছ থেকে এক হাজার ৯১৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও করোনার টিকার অর্থায়নসহ আরো বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে কাজ চলছে।

তিন কোটির বেশি ভ্যাকসিন ক্রয়ের ব্যবস্থা সম্পন্ন : সরকারদলীয় সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, যথাসময়ে করোনা টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে আক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রেজেনকা উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের তিন কোটি বা তার অধিক ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয় করার ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিন চলতি জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহেই পৌঁছাবে। তিনি জানান, বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু), কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি থেকে বিশ্বের ৯২টি দেশের মতোই দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ জনগোষ্ঠী তথা তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাবে। ভ্যাকসিন বিভাগের প্রথম পর্যায়ে দেশের জনসংখ্যার দেড় কোটি লোককে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মোট দুই ডোজ করে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। দেশের ৬৪ জেলা ইপিআই স্টোর এবং ৪৮৩টি উপজেলা ইপিআই স্টোরে এই ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্যানুযায়ী, যারা করোনা টিকা পাবেন তারা হচ্ছেনÑ কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চার লাখ ৫২ হাজার ২৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী, অনুমোদিত ছয় লাখ বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্যকর্মী, দুই লাখ ১০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ জন সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্য তিন লাখ ৬০ হাজার ৯১৩ জন, রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য ৫০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৫০ হাজার গণমাধ্যম কর্মী, এক লাখ ৭৮ হাজার ২৯৮ জন জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দেড় লাখ কর্মচারী, পাঁচ লাখ ৪১ হাজার ধর্মীয় প্রতিনিধি, লাশ সৎকারে নিয়োজিত ৭৫ হাজার ব্যক্তি, জরুরি সেবার (পানি, গ্যাস, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবহন কর্মী) চার লাখ কর্মী, স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরের দেড় লাখ কর্মী, এক লাখ ২০ হাজার প্রবাসী অদক্ষ শ্রমিক, জেলা-উপজেলায় কর্মরত চার লাখ জরুরি সেবায় নিয়োজিত সরকারি কর্মচারী, এক লাখ ৯৭ হাজার ৬২১ জন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার (যক্ষ্মা, এইডস, ক্যান্সার) ছয় লাখ ২৫ হাজার জনগোষ্ঠী, ৬৪ থেকে ৭৯ বছর বয়সী এক কোটি তিন লাখ ২৬ হাজার ৬৫৮ জন, ৮০ বছর ও তদূর্ধ্ব ১৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৩ জন, জাতীয় দলের খেলোয়াড় ২১ হাজার এবং বাফার, ইমারজেন্সি, আউটব্রেক এক লাখ সাত হাজার জন।

No comments

-->