নতুন প্রকাশিতঃ

একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গৃহহীনদের স্বপ্ন পূরণের গল্প!

একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গৃহহীনদের স্বপ্ন পূরণের গল্প!

অনলাইন ডেক্সঃ 'একটি বাড়ি’ সব মানুষের স্বপ্ন থাকে। কিন্তু হয়তো অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে কারও কারও পক্ষে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দান করা সম্ভব হয় না। তবুও স্বপ্নগুলো থেকে যায় মনের কোনায়। হোকনা সমাজের সেই মানুষটির যার অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা এখনও সেই ভাবে সুদৃঢ় হয়নি। তাইতো আজ সবাই আবেগ তাড়িত। তাইতো আজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা তাদের খুশির ধারা জানাচ্ছে তাকে-যিনি তাদের স্বপ্ন পূরণের গল্পকে আজ বাস্তবতা দান করেছেন। তিনি আর কেউ নন! আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা-বাংলার মানুষের একমাত্র আশা ভরসার ঠিকানা। তার পক্ষেই বলা সম্ভব “আপনারা কাঁদবেন না। এটি আমার দায়িত্ব।“ বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে জনগণের স্বপ্নপূরণ আর ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।

এ যেন একটি নতুন দিন-নতুন সূচনা। যেখানে একাকার হয়ে মিলে মিশে আছে অগণিত অসহায় মানুষের আশা পূরণের গল্প। যেখানে লুকিয়ে রয়েছে তাদের চাওয়া পাওয়ার সীমাহীন আশা ভরসার প্রতিশ্রুতি। আবেগ আর ভালোবাসার অশ্রুসিক্ত নয়নে শুধুমাত্র প্রার্থনা আর মঙ্গল কামনা। যে গল্পের কোন শেষ নেই। শুধুমাত্র শুরু আছে, অবিরাম পথ চলা আছে। যেখানে পাড়ি দিতে হবে আরো দীর্ঘ পথ-প্রতিকূলতা। আর সেই দীর্ঘ পথের একমাত্র পথপ্রদর্শক, স্বপ্নপূরণের গল্পের মহানায়ক আমাদের পরম প্রিয় দেশনেত্রী, সোনার বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার চোখে শুধুমাত্র বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বহমান। যেখানে স্থান পেয়েছে মানবতা আর মমতার  একান্ত বহিঃপ্রকাশ। বট বৃক্ষের মত সুবিশাল ছায়া আর শীতের সকালে অদ্ভুত সুন্দর একটি প্রাপ্তির সংযোগ।

তেইশে জানুয়ারি ২০২১, শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই দিনটিতে বাংলাদেশের ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য ৭০ হাজার পরিবারকে পাকা ঘর প্রদান করলেন মানবতাবাদি- মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে দেশের ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবার পেল তাদের মাথা গোঁজার জায়গা-আশ্রয়। যেখানে বাংলাদেশের এই দৃষ্টান্ত সত্যিই একটি মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেন মুজিব বর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। আর সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চারণ-সংকল্প বিশ্বের নেতৃবৃন্দের কাছে বিরল – অনুকরণীয়-হয়ে উঠল ইতিহাস এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে পর্যায়ক্রমিকভাবে। এই প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে দেশের প্রায় ৯ লক্ষ অসহায় পরিবারের স্বপ্নপূরণ এর জন্য। যেখানে বর্তমানে তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ ৮৫ হাজারের মতো যা বিগত বছরগুলো থেকে ক্রমান্বয়ে কমতির দিকে। আর এই মানবদরদি সংকল্প শুধুমাত্র একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। যার দূরদর্শী ও মানবতাবাদের ধারণা এবং পরিকল্পনা আজ বিশ্বের সব জায়গায় অনুকরণীয়। তাঁর হাত ধরেই ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘আশ্রয়ন’ নামক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। যার মাধ্যমে আজ অবধি প্রায় ৩ লক্ষের উপর গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দারিদ্র দূরীকরণ যেখানে মূল লক্ষ্য সোনার বাংলাদেশ গঠনকল্পে।

যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব গৃহহীন অসহায় মানুষদের ঘর দিতে পারার আনন্দ থেকে আর বড় কিছু হতে পারে না, যার কাছে নিরাপদ আশ্রয় মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত, উন্নত জীবন যাপনের ভাবনা আর অসহায়দের ঠিকানা অনেক বড় বিষয় যার কাছে – আজ তিনি মহান থেকে মহিমান্বিত। বাংলার মানুষের ভালোবাসা আর একান্ত প্রাপ্তি এর থেকে আর বড় ভালোবাসার উপহার কি হতে পারে এই মুজিববর্ষে? সারি সারি পাকা ঘর, সবুজ টিনের ছাউনি আজ যেখানে গৃহহীনদের পরম আশ্রয়, কাল হয়তো এই জায়গাগুলো ভরে উঠবে অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্যে। প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর হবে এই বাংলার মাটিতে। শুধুমাত্র তাই নয় অসহায় প্রতিটি পরিবারকে ২ শতাংশ জমির মালিকানার কাগজপত্র তিনি তুলে দিয়েছেন। ভরসা দিয়েছেন সুন্দর জীবনযাপন এর। পৃথিবীর এমন কোন দেশে এমন নজির নেই বললেই চলে একসঙ্গে এত অসহায় মানুষকে ঘর দেওয়ার! সত্যই! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যে মানুষগুলোকে আপনি আজ পরম মমতায় মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দিলেন, আশ্রয় দিলেন তারা অবশ্যই আপনাকে সবসময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আপনার পরিবারের জন্য সব সময় মনে প্রানে দোয়া করবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে আপনাকে পাশে পেলে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশের কোন মানুষ কখনো আশ্রয়হীন থাকবে না। স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন একটি বাংলাদেশের যেখানে গ্রামীণ অর্থনীতি হবে সুদৃঢ়। স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রত্যেকটি মানুষ হবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল প্রখর, স্বতন্ত্র এবং বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কর্তৃক ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় ২০ মিলিয়ন মানুষকে পূনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বর্তমানে লক্ষীপুরের চরপোড়াগাছ গ্রাম পরিদর্শন করেন তিনি তখন সেখানকার ভূমিহীন গৃহহীন মানুষদের জন্য গৃহ নির্মাণের কথা বলেছিলেন  এবং তার নির্দেশেই পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রথম শুরু হয় গৃহ নির্মাণ এবং পুনর্বাসন এর কার্যক্রম। তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন তার দেশের প্রত্যেকটি মানুষ খাবার পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। তার ভাষায় “এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন”। তিনি দেখেছিলেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সঙ্ঘবদ্ধ করে দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন মোটেই সহজ সাধ্য ছিল না। তবুও প্রবল মনোবল আস্থা আর আত্মত্যাগে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পল্লী উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প তিনি গ্রহণ করেছিলেন তাৎক্ষণিকভাবে। পেরেছিলেন উন্নয়নের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে। যা আজ তারই সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রকল্পের হাত ধরে আরো বেশি বেগমান। বঙ্গবন্ধু তৎকালীন কৃষিতে সবুজ বিপ্লব আনয়নে ২৫ বিঘা জমির খাজনা মওকুফ করে ভূমিহীন প্রান্তিক কৃষকদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। দারিদ্র্য বিমোচনের সেই দৃষ্টান্ত আজও অনুসরণীয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা পিতার সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই পথ চলছেন বাংলার মানুষের জন্য সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি প্রান্তকে উন্নয়নের লক্ষে জাতির পিতার সেই স্বপ্নকে পূরণ করে চলছেন। আজকে তিনি সেখানে যুক্ত করলেন নতুন একটি মাত্রা। একসঙ্গে ৭০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে দিলেন আশ্রয়-বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক অধিকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাসস্থান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে বাংলার সাধারন মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। দারিদ্র্যমুক্ত বাংলা গঠন করার লক্ষ্যে। যা আজ বিশ্বের কাছে বহুল সমাদৃত। বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্য অর্জনের ধারাবাহিকতায় মুজিববর্ষের এই প্রহরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলার প্রতিটি স্তরে আশার বানী ছড়িয়ে দিচ্ছেন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে। আঞ্চলিক বৈষম্য গুলোকে কাটিয়ে উঠছেন বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে। যা অন্য আর কারোর পক্ষে এই বাংলার মাটিতে সম্ভব নয়। জয়তু বঙ্গবন্ধু-জয়তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লেখকঃ সজল চৌধুরী

শিক্ষক ও স্থপতি (বর্তমানে মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় এ স্থাপত্য-পরিবেশ বিষয়ক পিএইচডি গবেষক)

No comments

-->