নতুন প্রকাশিতঃ

অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস

অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

ইব্রাহিম সুজন, নিজস্ব প্রতিনিধি: অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষকদের। শিক্ষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন কিছু দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, উৎকোচ ছাড়া কোনো কাজ হয় না এ অফিসে। কোনভাবেই মিলছে না এর প্রতিকার। ধাপে ধাপে বাড়ছে তাদের উৎকোচ চাহিদা। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের,  স্লিপ,প্রাক-প্রাথমিক, রুটিনসহ সরকারি অর্থের পাঁচ কোটি টাকার বেশীর ভাগ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে  ডিমলা উপজেলার ২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।  

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়,মেরামত কাজের জন্য উপজেলার ৪৭টি বিদ্যালয়ে দুই লাখ এবং ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য ৬১টি স্কুলে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তা ছাড়া রুটিন মেইনটেন্যান্সে জন্য ১৪২টি স্কুলে ৪০ হাজার ,এবং ২১৫ টি স্কুলে প্রাক-প্রাথমিকে ১০ হাজার, ওয়াশ ব্লক সিঙ্গেল ১০ হাজার, ডাবল ২০ হাজার, স্লিপে সব স্কুলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।বিদ্যালয়গুলোর ক্ষুদ্র্র মেরামত, স্লিপ, প্রাক-প্রাথমিক ওয়াশব্লক, রুটিন মেইনটেন্যান্সের জন্য  বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পর্যায়ক্রমিক অনিয়মের কারণে ওই বরাদ্দের টাকা যথোপযুক্ত ব্যবহার হয়নি। সেরকম কিছু স্কুল রয়েছে খালিশ চাপানি ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর সোনাখুলি আশ্রয়ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোটখাতা ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিন গয়াবাড়ী আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খগাখড়িবাড়ী ঝাড়পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, খগাখড়িবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় । 

সংশ্নিষ্টসূত্রে জানা যায়, যেসব বিদ্যালয় নতুন বিল্ডিংয়ের বরাদ্দ পেয়েছে, সেসব বিদ্যালয় সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ পেতে পারে না। তবে শিক্ষা অফিস নিয়ম-বহির্ভূতভাবে উপজেলায়-উত্তর সোনাখুলি আশ্রয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আশ্রয়ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাতুনামা পশ্চিম চর শিশু কল্যান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পচারহাট আনন্দ নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এ রকম আরো প্রাথমিক  বিদ্যালয়কে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ মেরামত কাজের বরাদ্দের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উপজেলার  অনেক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়,

বিদ্যালয় ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য দেড় লক্ষ টাকা, প্রাক-প্রাথমিকে ১০ হাজার, স্লিপে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিল্ডিং না থাকার পরও মেরামতের টাকা কোথায় খরচ করা হয়েছে জিজ্ঞেস করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র রায় বলেন, নতুনবিল্ডিং পাওয়ায় ক্ষুদ্র মেরামতের দেড় লাখ টাকা থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট কর্তন করা হয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের টিনশেড তৈরি এবং মাটিভরাট বাবদ খরচ করা হয়েছে। ছোটখাতা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিট্টু ইসলাম সহ একাধিক সভাপতি বলেন, স্কুলের কাজ কতটুকু হয়েছে জানি না। তবে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের কথামতো ভাউচারে অগ্রিম স্বাক্ষর করেছি। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, রঙের প্রলেপ দিয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্ধের টাকা জায়েজ করা হয়েছে।

আসবাবপত্র ক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে এ নিয়ে বেশ কিছু পত্রিকা ও অনলাইনে অনেকবার প্রকাশিত হলেও স্কুলগুলোর কাজের পরিবর্তন হয়নি। প্রধান শিক্ষকরা আরো অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা অফিসারের পছন্দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আসবাবপত্র ক্রয় করতে বলা হয়েছে।  এসব ক্ষেত্রে নিম্নমানের আসবাব সামগ্রী ক্রয় করা হলেও চড়ামূল্যের বিল তৈরি করা হয়।বিদ্যালয় ঘুরে দেখাগত এক সপ্তাহ অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রধান শিক্ষিকা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'আমি গরিব মানুষ, অন্যরা ঘুষ দিয়ে বিলের টাকা তুলে নিলেও আমি ঘুষ দিতে না পারায় বিদ্যালয় মেরামতের কাজ সুন্দরভাবে শেষ করেও বিল পাচ্ছি না। শিক্ষা অফিস ও প্রকৌশলী অফিস বিদ্যালয়গুলো থেকে এভাবে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিলেও এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, অডিট খরচ বাবদ প্রাক-প্রাথমিকে ৫০০ থেকে এক হাজার, রুটিন মেইনটেন্যান্স চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা,স্লিপ ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, ওয়াশ ব্লক এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা এবং মেরামত কাজের জন্য ১০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।  কেউ এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কথা বলবে না। কারণ প্রকাশ্যে কথা বললে তাদের নানা হয়রানির শিকার হতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলার অনেক  শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, রংপুর বিভাগীয় তদন্ত কমিটি (ডিডি ও দুর্নীতি দমন কমিশন) ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন এবং তারা বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে লিখিত দেন যে,  শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার দাশ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো মিথ্যা। অবশেষে তারা গত ২৬/১২/২০২০ইং তারিখে প্রাথমিক গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করেন।  এসব ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার দাশ বলেন, আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গুলো মিথ্যা। এর জন্য ডিডি ও দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে তদন্ত হয়েছে। কোন প্রমাণ পাননি।

আসলে যেসব বিদ্যালয় নতুন বিল্ডিংয়ের বরাদ্দ পেয়েছে তাদের বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে। তাই তাদের সংস্কার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অফিস থেকে কাউকে পণ্য ক্রয় করতে বলা হয়নি। প্রকৌশলী অফিসে প্রত্যায়নের টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রকোশলী অফিস জানে। ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শফিউল ইসলাম তিনি জানান, প্রকৌশলী অফিস প্রত্যয়নের টাকা নেন এটা ঠিক না।যেসব স্কুল ঠিকভাবে কাজ করে না হয়তবা সহ-কারী প্রকৌশলীরা প্রত্যয়নে জন্য কিছু যাতায়াত খরচ নেন। ডিমলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার জয়শ্রী রাণী রায়কে

মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এটা শিক্ষা অফিসার ভালো জানেন। আমি এ বিষয়ে জানি না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নবেজউদ্দিন সরকার বলেন, অভিযোগে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments

-->