শিরোনামঃ

প্রধানমন্ত্রীর চরিত্র: ফারিয়ার আনন্দ-চিৎকার শুনেছিল সুন্দরবন

প্রধানমন্ত্রীর চরিত্র: ফারিয়ার আনন্দ-চিৎকার শুনেছিল সুন্দরবন


অনলাইন ডেক্সঃ বঙ্গবন্ধু বায়োপিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরুণ বয়সের চরিত্রে অভিনয় করবেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া।

এই ছবির দৃশ্য ধারণে অংশ নিতে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি দুই মাসের জন্য মুম্বাই যাবেন এই অভিনেত্রী।ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আগে কেমন প্রস্তুতি নিচ্ছেন? কেমন ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের সেই কয়েক ঘণ্টা? কী হয়েছিল অডিশনে? এসব গল্প তিনি রোববার শুনিয়েছেন।

অডিশন পর্ব

‘২০১৯ সালের কথা বলছি। সম্ভবত মার্চ বা এপ্রিল। সে সময় ঢাকা-কলকাতা করতে করতে আমার দম শেষ। মুম্বাইতে তখন আমার দ্বিতীয় গান আমি চাই থাকতে-এর শুটিং করছিলাম। প্রচণ্ড টাইট সিডিউল আমার। মেদিনীপুরসহ আরও কয়েকটি জায়গায় শো করছিলাম।

‘আমাকে যখন ফোন দেয়া হয়, তখন আমি কলকাতায়। ফোনে বলা হলো যে, আপনার অডিশন আছে। আমি তখন ভাবছিলাম, এমন একটি সিনেমায় যদি সবচেয়ে ছোট একটি চরিত্রও পাই, সেটিও আমি করব। কারণ এই সিনেমার প্রত্যেকটি চরিত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি চরিত্রই ইতিহাসের অংশ।

‘কোনো চাওয়া ছিল না। আমার অডিশন হয়েছে প্রথম লটের প্রথম দিন, সকাল ৮টায়। খুব ভালো মনে আছে, একটা হলুদ শাড়ি পরে গিয়েছিলাম, কোনো মেকআপ ছিল না। মানে ঘুম থেকে উঠে চলে যাওয়ার মতো চলে গিয়েছিলাম।

‘বিটিভিতে হয়েছিল অডিশন। আমাকে ডেকে অডিশন সংশ্লিষ্টরা বললেন মুখে কিছুই দেয়া যাবে না, পানি দিয়ে মুখটা শুধু ধুয়ে আসেন।

‘মুখ ধুয়ে যখন ঢুকেছি, তখনই শ্যাম বেনেগাল স্যারকে দেখতে পেলাম। আমি অনেক লাকি যে, প্রথম দিনেই তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। আমাকে সংলাপ দেয়া হলো, আমি অডিশন দিলাম এবং ধারণা করে রাখলাম যে আমাকে দিয়ে হবে না। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি চলে এলাম।

‘এরপর ছিল অপারেশন সুন্দরবন সিনেমার শুটিং। অডিশন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিলাম যে, আমি সুন্দরবন যাচ্ছি এবং ১৫ থেকে ২০ দিন কোনো নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকব না। তাই তাদের একটি স্যাটেলাইট নাম্বার দিয়ে এসেছিলাম।

‘র‍্যাবের সহযোগিতায় তখন আমরা অপারেশন সুন্দরবন সিনেমার শুটিং শুরু করেছি। আমরা কেউই নেটওয়ার্কের মধ্যে নেই। ঢাকা থেকে যারা যাচ্ছেন, তারা বলছেন যে, কাস্টিং চূড়ান্ত হচ্ছে। আমার সঙ্গে সিয়াম ছিল, তাকে বলছিলাম যে, আমার মনে হয় হলো না। রিয়াজ ভাইও ছিলেন, তিনি বললেন যে, একটা ফোন করে দেখ।

‘আমি ফোন করলাম প্রধানমন্ত্রীর অফিসে। যিনি ফোনটা ধরলেন, তিনি মনে হয় আমাকে ৩০ মিনিট অনেক কথা বললেন। কেন আমাকে পাওয়া যাচ্ছে না, এ নিয়ে একটা হুলস্থুল অবস্থা। আমি ক্রমাগত দুঃখিত বলে যাচ্ছিলাম। কথার এক পর্যায়ে তিনি বললেন যে, আপনি ঢাকায় আসেন, আপনাকে এই চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

‘তখন আমার চিৎকার কে শোনে। আমার মনে হয় সুন্দরবনের গাছপালা আর পশু-পাখির সেই আনন্দ-চিৎকারের কথা মনে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ

‘তিনি প্রচণ্ড অমায়িক একজন মানুষ। তিনি সবার সঙ্গে কথা বললেন। সবার চরিত্রের ছোট-ছোট অনেক কিছু বুঝিয়ে দিলেন। বিস্তারিত গল্প করলেন। কিন্তু যখনই আমি তার ব্যাপারে তাকেই জিজ্ঞেস করলাম, তিনি এত লজ্জা পেলেন! প্রধানমন্ত্রী একজন অসাধারণ মানুষ।’

নিজের প্রস্তুতি

‘আমি যতটুকু জানতে পেরেছি তার বেশিরভাগই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে। আমি খুব যে অন্য জায়গা থেকে পড়ে বা দেখে জানতে পারছি, তা কিন্তু না। তবে হ্যাঁ, গওহর রিজভী স্যার অনেক বিষয়ে সাহায্য করেছেন। উনার যে রিসার্চ টিম আছে, তারা অনেক সাহায্য করছে। এটা একটা টিম ওয়ার্ক।’

নুসরাত ফারিয়া জানান, তিনি দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো কি না, সেটা এই সিনেমায় খুব গুরুত্বপূর্ণ না। কারণ চরিত্রটি যতটুকু না চেহারার, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিত্বের। তাই তাকে কখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চেহারা মিলিয়ে দেখতে হয়নি।

নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘পরিচালক শ্যাম বেনেগাল স্যারের চোখে ঠিক লাগাটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি জানান, সিনেমার আরও অনেক বিষয় এখনই বলা বারণ। অনুমতি পেলে শোনাবেন সেই সব গল্প।

No comments

-->