নতুন প্রকাশিতঃ

কোভিড-১৯ ও গুজবের বিরুদ্ধে যুগপৎ সংগ্রাম।

 কোভিড-১৯ ও গুজবের বিরুদ্ধে যুগপৎ সংগ্রাম। 

খন্দকার হাবীব আহসান: কোভিড-১৯ যে বৈশ্বিক অর্থনীতি সহ রাজনৈতিক বহু হিসাব বদলের ট্রাম্পকার্ড হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে এ বিষয়ে কারো দ্বিমত হওয়ার কথা নয়। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র গুলোতেও চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি করোনা মোকাবেলায় ধরাশয়ী হওয়ার চিত্রও স্পষ্ট প্রমানিত। করোনা সংক্রমন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে কতটা দ্রুততম সময়ে সংক্রমন কমাতে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা যেতে পারে তা নিয়ে সমগ্র বিশ্বব্যাপী শুরু হওয়া গবেষণা এখন অবধি চলমান । এবং ঠিক কতটা সময় পর শতভাগ কার্যকর ভ্যাকসিন সল্পমূল্যে সকলের জন্য সহজলভ্য করা যাবে সেটিও অনেকটাই অনিশ্চিত।

তবে করোনা মোকাবেলা করতে অনান্য দেশগুলোতে যেখানে রাষ্ট্রের জনগণ ও সরকারের পারষ্পরিক সহযোগীতার মিথষ্ক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে সেখানে আমাদের দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমন শুরুর পর থেকে সরকার বিশ্বের অনান্য দেশের ন্যায় বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও জনগণ ও রাষ্ট্রের নিয়ম কানুনের মধ্যে টম এন্ড জেরির চরিত্র চিত্রায়িত হয়েছে সে সময়। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে যাওয়া এবং সংক্রমনের সকল উপসর্গ দেখা দেওয়া সত্বেও অনেকেই করোনা পরীক্ষা করানোকে লজ্জার বিষয় মনে করে স্বাভাবিক চলাফেরা করে সংক্রমন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

সংক্রমনের হার কমাতে প্রথম দিক থেকেই যখন সরকার লকডাউন ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল তখন জনগণ লকডাউন অমান্য করে ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা করতে মরিয়া হয়ে উঠল। জনগণকে নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর টহল চালু করতে হলো। কোথাও কোথাও স্বাস্হ্যবিধি না মেনে চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়া সহ সামাজিক দুরত্ব অমান্য করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ানোর কারনে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা লাঠিপেটা করতে বাধ্য হলো। এমন স্থবির পরিস্থিতিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোও অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা দেখে লকডাউন শিথিল করলো। আমাদের সরকারও বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার নিয়মে স্বাস্হ্য বিধি মেনেই গুরুত্বপূর্ণ সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। একটি মহল অপপ্রচার শুরু করলো সরকার জনগণের জীবনের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

বিদেশ থেকে আগতদের থেকে করোনা যাতে সারাদেশে সংক্রমিত হতে না পারে সেজন্য এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করলো সরকার। সেই কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা অমান্য করে বের হয়ে যেতে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্খাপনায় থাকা দায়িত্বরত কর্মচারী ও পুলিশের সাথে লঙ্কাকান্ড বাধাতে শুরু করলো অনেকে। পরবর্তীতে সরকার হোম কোয়ারেনটাইন ব্যবস্থা চালু করলে সেসব পরোয়া না করে অধিকাংশই সামাজিকভাবে সর্বত্র বিচরণ করে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি করেই চললো। এমনকি করোনা পজিটিভ হয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া, বিয়েতে অংশগ্রহণ সহ সরকারকে অসহযোগীতার চুড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করল অনেকেই। এবং এই পুরোটা সময় জুড়েই বিশেষ একটি মহল গুজব ছড়ানোর চক্রান্তেই ব্যস্ত থাকলো।

করোনা সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পেলে সরকার কোভিড -১৯ স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মান সহ বিভিন্ন হাসপাতালে কোডিভ -১৯ চিকিৎসার জন্য বিশেষ বিভাগ চালুর ব্যবস্থা করলো। করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে ডাক্তার পুলিশ ব্যাংকার সহ সম্মুখযোদ্ধাদের অনেকেই জীবন দিলেন। কর্মহীন মানুষদের ত্রাণের ব্যবস্থা সহ টেলিমেডিসিন সেবার আধুনিকায়ণ করল সরকার। করোনায় মৃতরোগীদের দাফন বা সৎকার করতে তাদের পরিবার অস্মীকৃতি জানালেও সরকারিভাবে মৃতদেহ দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থা করা হলো। অন্যদিকে বিশেষ একটি মহল করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অপপ্রচার চালাতেই থাকলো।

করোনা মোকাবেলায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মানবিক কাজ মহামারীর নানা সংকটকে অনেকটাই প্রশমিত করেছে।এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ প্রকাশিত, কোভিড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা দেশগুলোর তালিকায় 'কোভিড রেজিলিয়েন্স র‍্যাংকিং', এ বিশ্বে বাংলাদেশ ২০ তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে। করোনা মহামারীর মধ্যে মাত্র ২২টি দেশে পজিটিভ জিডিপি গ্রোথ হয়েছে, এর মধ্যে বাংলাদেশ একটি এবং বাংলাদেশের অবস্থান জিডিপি গ্রোথ রেটের হার অনুযায়ী তৃতীয়। বৈশ্বিক মন্দার এই সময়ে শেখ হাসিনার ক্যারিশমাটিক লিডারশীপ বাংলাদেশকে টেকসই অর্থনীতির দেশে পরিনত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। করোনা মোকাবেলায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্থার মহাপরিচালক।

সবশেষ করোনা ভ্যাকসিন আমদানি করা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের নানাবিধ অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে চায় একটি মহল। অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সর্বাধিক কার্যকারিতা বিবেচনায় ভ্যাকসিন নির্বাচনেও শেখ হাসিনা বাস্তবিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মডার্না, ফাইজার ও অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদনের পর প্রয়োগ হচ্ছে। তিনটি ভ্যাকসিনই তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ পর্বে ৯০ শতাংশ কার্যকর বলে উঠে এসেছে। ফাইজার আর মডার্না ভ্যাকসিন বন্ঠন নিয়ে অব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণে অতি নিন্ম তাপমাত্রা, মাইনাস ৭০ এবং মাইনাস ২০ নিশ্চিতকরণ যথেষ্ট ঝামেলা ও উচ্চমূল্যের কারনে আমাদের দেশের জন্য অক্সফোর্ডের কোভিশিল্ড নির্ধারণ করেছেন শেখ হাসিনা। যে ভ্যাকসিনের ২০ লাখ ডোজ ভারত সরকার বিনামূল্যে উপহার হিসাবে ইতিমধ্যে পাঠিয়েছেন গত ২১ জানুয়ারি।

ভ্যাকসিন আমদানি নিয়েও অপপ্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতেও ঐ বিশেষ একটি মহল এখনো সোচ্চার।সর্বক্ষেত্রে বিশেষ একটি মহল হিসাবে কার্যকর এই গোষ্ঠী যে এই রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রগতির সপক্ষের শক্তি নয় এটি স্পষ্টতই প্রমাণিত।করোনা মোকাবেলায় শেখ হাসিনার ইফেকটিভ লিডারশীপ বিশ্ববাসী প্রশংসা করলেও আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করি।বরং দেশের বিরোধী অপপ্রচারকারী গুজব ছড়ানো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ভুলে যায়। বাঙালির মুক্তির জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করা জাতির পিতার শুদ্ধতম রক্তের যোগ্যতম উত্তরসূরি শেখ হাসিনা পরিবারের সকলকে হারিয়ে বাংলার গণমানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাওয়া সত্বেও কাজ শেষে একটি ধন্যবাদ প্রাপ্তির পরিবর্তে মোকাবেলা করেন রাষ্ট্র বিরোধী অপপ্রচার সংগ্রাম করেন চক্রান্তের বিরুদ্ধে।শেখ হাসিনার এই সংগ্রাম আনুষ্ঠানিকতার দৃশ্যায়ন নয় বরং বাঙালি জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের কার্যকর ও বাস্তবিক বিপ্লবের চলামান ইতিহাস

লেখক: উপ বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ

No comments

-->