শিরোনামঃ

পূর্বাচলে প্রস্তুত বিশাল এক্সিবিশন সেন্টার

পূর্বাচলে প্রস্তুত বিশাল এক্সিবিশন সেন্টার


অনলাইন ডেক্সঃএক ছাদের নিচে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮০ বর্গফুট আয়তনের দুটি প্রদর্শনী হল। সেখানে ৯ দশমিক ৬৭ বর্গমিটার আয়তনের ৮০০ স্টল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশাল এ স্থাপনায় আরও আছে সম্মেলন কক্ষ, বিস্তৃত ফুড কোর্ট ও শিশুদের খেলার জায়গা।ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নামের প্রদর্শনী কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জানুয়ারির শুরুর দিকেই রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কাছে আন্তর্জাতিক মানের এই প্রদর্শনী কেন্দ্রটি হস্তান্তর করবে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন।প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ। এখন কেবল হস্তান্তরের অপেক্ষা।’

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বাগরাইয়াটেক এলাকায় দৃষ্টিনন্দন, সুবিশাল এই স্থাপনাটি তৈরি করা হয়েছে ২০ একর জায়গার ওপর। সেখানে মার্চে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ইপিবিপ্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকায় স্থায়ীভাবে একটা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্র করার জন্য প্রাথমিকভাবে ২০০৯ সালে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের ৩৯ একর খালি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। পরে সেখানে জায়গা না পাওয়ায় প্রকল্পটি পূর্বাচল নতুন শহর এলাকায় সরিয়ে নেয়া হয়।

সেখানে ২০ একর জমির ওপর এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে। শুরুতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেয় চীন সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৫১৫ কোটি টাকার মতো। আর জমি বাবদ সরকার দিয়েছে ১৬৫ কোটি টাকা।প্রদর্শনী কেন্দ্রটির নকশা করেছে বেইজিং ইনস্টিটিউট অফ আর্কিটেকচারাল ডিজাইন কোম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি পূর্বাচলে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রদর্শনী কেন্দ্রের ফটকে বসানো নামফলকটি টিনের বেড়া দিয়ে ঢেকে রাখা। ভেতরে মূল স্থাপনার সামনে বিশাল খোলা জায়গাটি ঝকঝক করছে। প্রদর্শনী কেন্দ্রের পূর্ব প্রান্তে বানানো হয়েছে দোতলা গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। সেখানে একসঙ্গে ৫০০টি গাড়ি রাখা যাবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের এক সহকারী প্রকৌশলী জানান, এখানে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ৫৭৬ ঘনমিটারের দুটি ট্যাংক তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবহৃত পানি ফের ব্যবহারের জন্য বসানো হয়েছে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য আছে সাবস্টেশন ও শক্তিশালী জেনারেটরের ব্যবস্থা।প্রকল্প এলাকায় কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে। নতুন এই প্রদর্শনী কেন্দ্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উচ্ছ্বাস ঝরে পড়ে অটোরিকশাচালক রাজ্জাকের কণ্ঠে।

তিনি বলেন, ‘খালি আমি না, এই এলাকার সবাই বাণিজ্যমেলার এই জায়গাডি নিয়া খুব খুশি। যখন এইডার কাজ শুরু হইল, তখন কিছু বোঝার উপায় ছিল না। তয় চোখের সামনে জিনিসটা দাঁড়াইল। এত সুন্দর বিল্ডিং (প্রদর্শনী কেন্দ্র) মনে হয় ঢাকা শহরেও নাই।’প্রকল্পের সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। ধাপে ধাপে এর পুরোটা বাস্তবায়ন করা হবে। এখন ২০ একর জায়গার ওপর মূল প্রদর্শনী কেন্দ্রটি তৈরি হয়েছে। তবে এটাকে ঘিরে একটা পাঁচ তারকা হোটেলসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনার জন্য বাড়তি ছয় একর জমি কেনা হয়েছে।

শুরুর দিকে মূল শহর থেকে দূরত্বের বিষয়টি একটা প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠতে পারে মন্তব্য করে রেজাউল করিম বলেন, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেট্রোরেলের একটা রুট এদিকে এসেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটা তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে তখনই হয়তো এই প্রদর্শনী কেন্দ্রটি পূর্ণতা পাবে।এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার যে পরিসর, তাতে পূর্বাচলের প্রদর্শনী কেন্দ্রে সবাইকে জায়গা দেয়া কঠিন। এ জন্য প্রদর্শনী কেন্দ্র ঘিরে আরও কিছু জায়গা বরাদ্দ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

No comments

-->