শিরোনামঃ

গুণীজনদের সম্মান করা আমাদের কর্তব্য: প্রধানমন্ত্রী

গুণীজনদের সম্মান করা আমাদের কর্তব্য: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেক্সঃ স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশেষ সেবায় আপনাদের অবদান রয়েছে। এজন্য আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গুণীজনদের সম্মান করা আমাদের কর্তব্য।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০ ও মুজিব বর্ষে গৃহহীন মানুষকে সচিবদের গৃহ উপহার কার্যক্রম এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস-২০২০ এর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর ২৫ মার্চ এ পুরস্কার দিয়ে থাকি। এবার করোনা প্রাদুর্ভাবে বাধ্য হয়ে আমরা সব ধরনের অনুষ্ঠান স্থগিত করি। তাই লোকসমাগম না হয়ে ভার্চুয়ালি ব্যবস্থা করি। অবশেষে আমরা এই পুরস্কার দিতে পারলাম, এটা অত্যন্ত আনন্দের।

 শেখ হাসিনা বলেন, আমি নিজে উপস্থিত থেকে আপনাদের পুরস্কার দিতে পারলে খুশি হতাম। করোনা পরিস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানে থাকতে পারলাম না বলে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করায় আজ ভার্চুয়ালি আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি।

তিনি বলেন, মুজিব বর্ষে আমরা যেন দারিদ্রের হার ২০ ভাগে নামিয়ে আনতে পারি, কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য করোনাভাইরাস বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা স্থবির করে দিয়েছে। তাই আমাদের দেশের মানুষ যাতে সুরক্ষা পায় এবং অর্থনৈতিক বিপদে না পড়তে হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নিয়েছি। খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিশ্চিত করে যাচ্ছি। চাহিদার প্রতিটা ধাপে উন্নতির জন্য পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

যারা পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কারঃ

স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০ ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক), প্রয়াত কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ, প্রয়াত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা ও আজিজুর রহমান, চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুক্তাদির, সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার, শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমসকে এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুক্তাদির বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার গ্রহণ আমাদের একটি অন্যতম প্রাপ্তি। প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসাসেবা এখন গ্রামেও বিস্তৃত। সাধারণ মানুষ এই সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। গত মার্চ মাস থেকে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আমরা এ মহামারি পরিস্থিতি সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করছি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল ছিল মাত্র ৬৭টি। বঙ্গবন্ধু প্রতিটি থানায় একটি করে হাসপাতাল নির্মাণে উদ্যোগ নেন। চিকিৎসকদের বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে পথম শ্রেণিতে উন্নীত করেন।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পুরস্কার। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ১৩ জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে অনুরোধ করব স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবার করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আমাদের এখানেও দেখা দিতে পারে। তাই হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার প্রস্তুতি নিয়েছি। করোনা থেকে আমাদের দেশটা যেন মুক্তি পায় সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের রাস্তাঘাট, পুল, ব্রিজ সবকিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল। মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মধ্যেই বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর কোনো দেশ এত দ্রুত ধ্বংসস্তূপ একটি দেশকে গড়ে তুলতে পারেনি। সব মানুষকে নিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য যা যা প্রয়োজন সবই তিনি করে গিয়েছিলেন। শিক্ষাকে সব থেকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তার লক্ষ্য ছিল। সে লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে আমার বাবা-মা ভাইসহ সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে আবার গড়ে তুলতে আমরা নিরলস ভাবে কাজ করছি। দেশকে ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্রমুক্ত গড়ে তুলতে চাচ্ছি। শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা, ভূমিহীনদের ঘর করে দেয়ার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যাতে করে কারো কাছে ভিক্ষা করতে না হয়, হাত পাততে না হয়। দেশের মানুষ যেন বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।’

No comments

-->