শিরোনামঃ

লোহাগড়ার পল্লীতে গ্রাম্য কোন্দল নিয়ে গ্রাম ছাড়া ৫০টির অধিক পরিবার।

লোহাগড়ার পল্লীতে গ্রাম্য কোন্দল নিয়ে গ্রাম ছাড়া ৫০টির অধিক  পরিবার।

মো: আজিজুর বিশ্বাস,স্টাফ  রিপোর্টার নড়াইলঃ নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের তেলকাড়া গ্রাম্য কোন্দল নিয়ে গ্রামছাড়া ৫০ টির অধিক পরিবার।ভুক্তভোগীদের সাথে কথা হলে এমনটি অভিযোগ পাওয়া যায়।অভিযোগকারীরা লোহাগড়া উপজেলার তেলকাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী ১/মো: টুটুল শেখ, পিং মৃত ফায়েক শেখ,২/রানী বেগম, স্বামী রিজাল মোল্ল্যা,৩/ রিবা বেগম,স্বামী কুটি শেখ,৪/ লিয়াকত শেখ, পিং মৃত বাচ্চু মিয়া,৫/ কুটি মিয়া শেখ,পিং মৃত ফায়েক শেখের পরিবার সহ আরো অনেক পরিবারের লোক অসহায় ভাবে বিভিন্ন এলাকায় ছেলে মেয়ে নিয়ে জীবন যাপন করছে। কিছু বাড়িতে আছে পুরুষ, কিছু বাড়িতে নেই, ফিরে যেতে পারছে না তাদের নিজ গ্রামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর জন্য। এই সন্ত্রাসী বাহিনীরদের নামে বিভিন্ন মামলা আছে বলে জানায় অভিযোগকারীরা সরেজমিনে গিয়ে গ্রাম ছাড়া মো: লিয়াকত শেখ এর সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,তেলকাড়া    গ্রামে দলাদলি নিয়ে বিরোধ ছিল। এটাকে কেন্দ্র করে, কিছু মাদক সেবনকারী,মাদক বিক্রেতা, চাঁদাবাজ,জুলুমবাজ, ডাকাত,দলের একটি চক্র তেলকাড়া গ্রামে আছে।

এরা হলো ১/মো:নান্টু শিকদার,পিং মৃত আকু শিকদার,২/মো:ইমরুল মল্লিক, পিং মৃত গোলাম রসুল মল্লিক, ৩/মো: জিহাদ শেখ,পিং মৃত মহন শেখ,৪/মো: রিয়াজ শেখ পিং মৃত মুজিবর শেখ,৫/ সোহেল শেখ, পিং বায়েজিত শেখ,৬/ গিয়াস উদ্দিন খাঁ পিং মৃত আমজাদ হোসেন খাঁ,৭/শামিম ওরফে রাঙ্গা, পিং আবি আহমেদ শেখ, ৮/ শামিম মোল্ল্যা, ৯/ নুর আলম মোল্ল্যা,উভয় পিং মৃত ইয়ার আলী মোল্লা,১০/ ওসি মোল্ল্যা পিং নাছির উদ্দিন মোল্ল্যা, সর্বসাং তেলকাড়া, থানা লোহাগড়া:জেলা নড়াইল। এরা একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর টিম, এদের অত্যাচারের আমারা  গ্রামে যেতে পারছিনা, এরা বিভিন্ন সময়ে গ্রামে যেতে হলে চাঁদা দাবি করছে, চাঁদার টাকা না দিলে খেতে হচ্ছে মারধোর, এবং মহিলাদের ইজ্জত কেড়ে নেবে বলেও হুমকি ধামকী দিচ্ছে।লিয়াকত শেখ আরো জানান, এই সন্ত্রাসী গ্রুপের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা কিছু পরিবার সম্মিলিত হয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা, এবং মাননীয় পুলিশ সুপার নড়াইল কে লিখিতভাবে  অভিযোগ পত্র দিয়েছি, আমাদের আবেদন এমপি মহাদয়,ও পুলিশ সুপার সাহেব এর কাছে আমাদের আকুল প্রার্থনা আমাদের বাড়ি উঠার প্রতি সদয় মর্জি হবেন।

এ সময় একজন মহিলা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন,উক্ত সন্ত্রাসী বাহিনীরা কিছুদিন আগে রাতের অন্ধকারে আমার ঘরের দরোজা ধাক্কাতে থাকে এবং বলে চাঁদার টাকা দিতে পারলে গ্রামে থাকবি না হয় তোকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হবে।এখন আমার ইজ্জত রক্ষা করার জন্য, বাড়িঘর ছেড়ে, ছেলে,মেয়ে, গরু,ছাগল, মালামাল নিয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে ঠাই নিয়েছি।এসময় ওই মহিলা কান্নায় জড়িত হয়ে আরো বলেন, আমরা কি কোনদিন আর বাড়িঘরে যেতে পারবো না,আমরা গরীব মানুষ, কোথায় যাবো, আল্লাহর দুনিয়ায় এমন কেউ কি নেই,আমাদের এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচাবে। 

অভিযোগকারী কুটি শেখ বলেন কিছু দিন আগে ওই সন্ত্রাসী বাহিনীরা  আমার কাছে চাঁদার টাকা দাবি করে, তখন আমি তাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ৫০,হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছি, এখন ওই সন্ত্রাসী বাহিনী আবার আমার কাছে টাকা দাবি করছে, এবং বলে গেছে গ্রামে থাকতে হলে মাসে মাসে চাঁদা দিতে হবে, এখন আমিও বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে আত্মীয়র বাড়ি থেকে নিয়েছি, কুটি শেখ আরো বলেন, আমরা কোন গ্যাঞ্জাম চাইনা ছেলেমেয়েদের নিয়ে গ্রামে থেকে তাদের মানুষ করতে চাই। 

এ বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত কারি অনেকের সাথে যোগাযোগ না করতে পেরে ইমরুল মল্লিক এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ঘটনা অস্বীকার করে বলেন অভিযোগকারীদের সাথে পূর্ব শত্রুতার জেরে এখন তারা আমাদের হয়রানি করছে।

No comments

-->