শিরোনামঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ শিবগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সরিষা চাষে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ শিবগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে সরিষা চাষে।

প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে অতিরিক্ত ৭শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। সরিষা ফুলের হলদে রঙে রাঙিয়ে উঠেছে কৃষকের মাঠ। বিস্তৃৃর্ণ মাঠ জুড়ে নজর কাড়ছে সরিষা ক্ষেত। এসব ক্ষেতে মুখরিত মৌমাছির গুনগুন শব্দ। যেদিকে চোখ যায় শুধু সরিষা ফুলের সমারোহ।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে- উপজেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ সরিষা আবাদ হয়েছে। আবহাওয়াসহ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ফলনও বাম্পার হবে। জানা যায়, চলতি বছরে ভাঙনের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে কয়েক দফা বন্যা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। এসব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সম্প্রতি নিচু এলাকাগুলোতে চাষ করা হয়েছে নানা জাতের সরিষা। স্বল্প খরচে অধিক লাভের আশায় সরিষা বপন করছে কৃষকরা। এ বীজ থেকে গজিয়ে উঠে সবুজ পাতার গাছ। সেই পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলদে রঙের ফুল। এসব ফুলের মাঝে লুকিয়ে রয়েছে কৃষকের স্বপ্ন। 

এ বছরে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের চোখেমুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক। কৃষকরা জানিয়েছেন- সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম হয়। তাই সরিষা আবাদ করতে তেমন বেগ পেতে হয় না। এবার বন্যা দেরিতে হওয়ায় পানি নেমে যাওয়ার পর অন্য ফসল চাষের আর সময় ছিলো না। ফলে চাষীরা ঝুঁকেছেন সরিষা চাষের দিকে। সরজমিনে গিয়ে এক কৃষক জানায়, ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা। কিন্তু ফলন পাওয়া যায় সাড়ে ৬ থেকে ৭ মণ, যার বর্তমান বাজার মূল্য সাড়ে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। স্থানীয় চাষীরা জানায়, মাঝে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে সামান্য কিছু ক্ষতি হলেও এখন সরিষা ক্ষেত ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে। আর অল্প কিছুদিন পরেই ফুল থেকে সরিষা দানা হবে। তবে আবহাওয়াসহ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার বাম্পার ফলনের আশা চাষীদের।

 এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় সরিষার আবাদ এবার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গেল বছর সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ১২০ হেক্টর।এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২শ’ হেক্টর। অর্জন হয়েছে ৩ হাজার ৭শ’ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫শ’ হেক্টর বেশি। কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে রয়েছে জানিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছে। উপজেলায় সরিষা আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

No comments

-->