নতুন প্রকাশিতঃ

কুড়িগ্রাম টানা ৮ম বারের মতো কাউন্সিলর পদে জয়ী হলেন রোস্তম আলী তোতা

কুড়িগ্রাম টানা ৮ম বারের মতো কাউন্সিলর পদে জয়ী হলেন রোস্তম আলী তোতা

রুহুল আমিন রুকু কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওর্য়াডের সবার প্রিয় কাউন্সিলর রোস্তম আলী তোতা । ১৯৮১ সাল থেকে এই ওর্য়াডের কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী এই জনপ্রতিনিধি  ।এবার নিয়ে টানা ৮ বার নির্বাচিত হলেন । স্থানীয় জনগনের তথ্যমতে জানা যায়,প্রথমবার ১৯৭৯ সালে কমিশনার পদে উপনির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। ওই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি পরবর্তীকালে সফল জনপ্রতিনিধি হয়েছেন বলে মনে করেন। রোস্তম আলী তোতা বলেন, “প্রথমবার পরাজয়ের পর মুকুল ফৌজ নামে একটি শিশু সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সামাজিক কাজ শুরু করি। সেই থেকে শিশু, নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ সবার সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে তুলি।প্রথম পরাজয়ের পর বুঝতে পারি মানুষের ভালোবাসা অর্জন ছাড়া জনপ্রতিনিধি হওয়া সম্ভব নয়। তাই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ শুরু করি।” 

তারপর ১৯৮১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এরপর নির্বাচিত হওয়ার জন্য তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি । স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। অন্য দুজন স্নাতকের শিক্ষার্থী। জেলা শহরের মিস্ত্রিপাড়ায় ১২ শতক জমিতে টিনশেড বাড়ি।

এখানকার নয়টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬০ জন  প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র তোতার পোস্টারে প্রার্থীর ছবি নেই। ছবি নয়, নামেই পরিচয় বলে মনে করেন তিনি।  

এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা কলি রায় বলেন, “তোতার বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ালে জয়লাভ তো দূরের কথা, জামানত বাঁচানো নিয়ে শঙ্কায় থাকেন প্রতিপক্ষরা। এর আগে ৬টি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে টানা জয় পেয়েছেন। কোনোবারই প্রতিপক্ষের কারও জামানত বাঁচেনি।” অতীতের মতো এবারও তোতার কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নেই। সৎভাবে মানুষের পাশে থাকার কারণে সবাই তাকে ভালোবাসে বলে তিনি মনে করেন। “যতদিন শরীর ভালো থাকবে, জ্ঞান থাকবে, ততদিন মানুষের পাশে থাকব,” বলেন রোস্তম আলী তোতা।

 এই ওয়ার্ডের অনেক বাসিন্দারা জানান, ভোটাররা তাদের যেকোনো সমস্যায় রোস্তম আলীকে কাছে পায়। ভোর, সকাল কিংবা গভীর রাতে ডাকলেও তাকে পাওয়া যায় । থানাপাড়ার গৃহবধূ সবিতা রানী জানান, শিশুদের টিকা দেওয়া, জন্মনিবন্ধন, পুষ্টিভাতাসহ সব কাজই সুষ্ঠুভাবে করে দেন রোস্তম আলী। এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কেউ কোনোদিন দুর্নীতির অভিযোগ আনেনি এবং প্রায় পাঁচ হাজার ভোটারের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সবার বাড়িতে রয়েছে তার অবাধ যাতায়াত। এবারের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী লাভ করেন।

No comments

-->