শিরোনামঃ

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, অতঃপর...

 বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, অতঃপর...


স্টাফ রিপোর্টারঃ দু’জনের বাড়ি একই পাড়ায়।বাড়িতে যাওয়া-আসার সুবাধেই প্রেমিকার সাথে পরিচয় হয় প্রেমিকের। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিক কথা দিয়েছিলেন প্রেমিকাকে বিয়ে করে ঘরে তুলবেন।প্রেমিকের আশ্বাস পেয়ে প্রেমিকা তার সাথে শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ-মেষ কথা রাখেননি প্রেমিক। উল্টো এখন শারীরিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে  তার বাবা ও মাকে হুমকি দিচ্ছেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাই বাধ্য হয়ে প্রেমিকা বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন।

 বুধবার রাত থেকে নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগড় ইউনিয়নের বিশমুঁড়ি,চাঁদেরহাট,নাদিরার মোড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়,একই এলাকার (ছদ্মনাম) রুবিনা আক্তারের সাথে একই পাড়ার মোঃ নুরন্নবী প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে বুধবার সকালে এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রেমিক নূরন্নবীর বাড়িতে ভিড় জমান এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত থেকে আসাদুল ইসলামের ছেলে (প্রেমিক) নূরন্ননবীর বাড়িতে একই  ইউনিয়নের (ছদ্ধনাম) রুবিনা আক্তার নামে এক তরুণী বিয়ের দাবিতে অনশন করছে। 

আজ কয়েকদিন থেকে  ছেলের অভিভাবকরা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মেয়েটিকে তার বাড়িতে রাখলেও। বর্তমানে ছেলের পরিবারে তার ভাগিনী ছাড়া আর কেউ নেই বলে প্রতিবেশীরা জানান। প্রেমিকা (ছদ্ধনাম) রুবিনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আমার প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে। সে আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। আমি বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় সে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। গ্রাম সালিস বৈঠকে  সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও পরে বিয়েতে রাজি হয়নি। শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টিও এখন অস্বীকার করছে। তাই আমি বাধ্য হয়ে তার (প্রেমিক) বাড়িতে অবস্থার করেছি। এখন তার আত্মীয়-স্বজনরা আমাকে মারধর করছেন। তার বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইছেন। মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। এখন যদি সে (প্রেমিক) আমাকে বিয়ে না করে তবে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন পথ নাই। 


প্রেমিকা (ছদ্ধনাম) রুবিনা আক্তার আরো বলেন, গত দেড় বছর আগে থেকেই  নূরনবীর সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবং আমার গর্ভে তার ঔরর্সজাত সন্তান ছিলো তাদের পরিবারে পরামর্শে তিন মাস আগে আমার পেটে সন্তানকে নস্ট করে। এর আগে অনেকবার পারিবারিকভাবে আমার বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হলেও নূরনবী আমাকে বিয়ে না করার হুমকি দেয়। গত কয়েক মাস আগে আমার সঙ্গে নূরনবী যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, নূরনবী অন্য কোথাও অবস্থান করছে। নূরনবীর পরিবার সেখানেই তার বিয়ের দেওয়ার জন্য আলোচনা করেছে। আমার দাবি, নূরনবীসহ তার পরিবারের লোকজন বিয়ের বিষয়টির সুরাহা দিতে হবে। তা না করা পর্যন্ত আমার অনশন চলবে বলে জানান প্রেমিকা।

গত ১৬ ডিসেম্বর দুই পরিবারের অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার লোকজন সালিস বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হয়, প্রেমিক নুরনবী তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে তুলে নেবেন। এরপর দু’দিন সময় চেয়ে নেন নুরনবী ও তার পরিবার আজ পাঁচদিন হয়ে গেলেও প্রেমিক নুরনবী ও তারা পরিবার বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে রামনগড় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য রুহুল আমিন (কেনু)বলেন, আমি দুই পরিবারে সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে উভয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসার করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে নীলফামারী থানার অফিসার ইনচাজ মোঃ আব্দুর রউফ জানান, আমাদের কাছে এখন পযন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ঘটনাটি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments

-->