শিরোনামঃ

‘মোর কপালোত শীতের কাপড়ই জোটে না’

 ‘মোর কপালোত শীতের কাপড়ই জোটে না’

বিশেষ প্রতিনিধিঃ 'বছর বছর ঠান্ডা বাড়ে। ভাঙা ঘরের চাটি (বেড়া) দিয়া রাইতোত হু হু করি বাতাস ঢোকে। মোর কপালোত শীতের কাপড়ই জোটে না। গতবার মেম্বার একখান কম্বল ডাকে দিছিল। পুরান কম্বলখান ছিঁড়ে গেইছে। এবার আশায় আছো কাহো যদি একনা কম্বল দেয়। তাহলে এবার ঠান্ডাখান কোনোরকমে কাটেবার পাইম।’ কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের খগাখড়িবাড়ী গ্রামের ফয়জন বেগম (৬০)। 

একমাস আগে থেকেই নীলফামারীর সর্বশেষ উপজেলা ডিমলায় শীতের দাপট পড়েছে। ওই উপজেলা হিমলায়ের কাছাকাছি হওয়ায় সন্ধ্যা নামতে না নামতেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় চারপাশ। বিপাকে পড়ে হাঁটুরে লোকজন। শীতের কারণে শিশু থেকে বয়স্করা পড়েছে চরম বেকায়দায়।

ডিমলা আবহাওয়া অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, এটি মৃদু শৈত্য প্রবাহ বিরাজ করছে। আগামী এক সপ্তাহ এমন পরিস্থিতি থাকবে। এক শিক্ষার্থী জানান, ঘন কুয়াশায় সকাল বেলা রাস্তাপথ দেখা যায় না। কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় শহরের চারপাশ। সন্ধ্যা নামতে মানুষজন বাসাবাড়িতে ফিরে যায়।

ডিমলা সদর ইউনিয়নের তিতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আনছার আলী (৬৫) বলেন, ‘এবার যে শীত পইছে বাবা, হামার মরন ছাড়া উপায় নাই।’ কম্বল কিনেন নাই কেন– জানতে চাইলে বলেন, ‘প্যাটোত ভাতে জুটে না আর কম্বল কিনির কয়ছেন। কাহো যদি একখান কম্বল দেয় তাহলে পুশ (পৌষ) মাসের শীত খান কাটেবার পাইম।’ 

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, শিশুসহ বয়স্ক রোগীদের ভিড়। বিশেষ করে নবজাতক নিয়ে কঠিন বেকায়দায় পড়েছে মায়েরা। একদিকে, করোনা মহামারি অন্যদিকে, ঠান্ডাজনিত রোগ।হাসপাতালের শিশুরোগ বিষেজ্ঞ ডা. এনামুল হক জানান, শিশু ও নবজাতক ওয়ার্ডে অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। ওইসব রোগ থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসার পাশাপাশি নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও গরম পানি, গরম খাবার ও গরম কাপড় ব্যবহার করাতে বলা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে সেবা নিতে হবে। অবস্থার অবনতি হলে জেনারেল হাসপাতালে শিশু বিষেশজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমওসিএইচ) ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, করোনা মহামারির দ্ধিতীয় ওয়েবে হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে (ইনডোর) রোগীর সংখ্যা অনেকটাই কম। খুব জরুরি ছাড়া মানুষ হাসপাতালে আসছে না। তবে বহিঃবিভাগে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এজন্য বহিঃবিভাগে (আউট ডোর) শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকসহ যাবতীয় ওষুধপত্র প্রস্তত রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইনডোরের বিছানাগুলো খালি পড়ে আছে। তবে আউটডোরে রোগী গিজ গিজ করছে। কেউবা লাইনে দাঁড়িয়ে ওষুধ নিচ্ছে। 

সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবীর জানান, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে শীতজনিত রোগে নবজাতক, শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবা প্রদান করে যাচ্ছি।

No comments

-->