নতুন প্রকাশিতঃ

বগুড়ায় ধর্ষন মামালার আসামির পক্ষ নেয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যাহার

 বগুড়ায় ধর্ষন মামালার আসামির পক্ষ নেয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যাহার

উৎপল কুমার, বগুড়াঃ বগুড়ার ধুনটে এক কিশোরী ধর্ষণের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আসামীর পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসানুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গত তিন মাসের অধিক সময়েও আসামী না ধরে মামলার বাদীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।  জানাগেছে, ধুনট উপজেলার গোপাল নগরে মাসুদ রানা  নামের এক যুবক   ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলু গত ১৬ জুলাই ওই কিশোরী তার নানার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যাওয়ার সময় অপহরণ করেন । গত ১২ আগস্ট ৫ জনের নামে ধুনট থানায় অপহরণ মামলা হলেও পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করতে পারেনি। ঘটনার এক মাস ৯ দিন পর কিশোরীর বাবা সিরাজগঞ্জ শহরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মেয়েকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর ওই কিশোরী জানায়, তাকে ঘুমের ট্যাবলেট সেবন করানোর পর অভিযুক্তরা প্রায় এক মাস ধরে ধর্ষণ করেছে।  ওই কিশোরীর মা বলেন, মেয়েকে ফেরত পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমান চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কথায় আপোষ না করায় আমাদেরতে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি বারবার জানানোর পরেও তিনি আমলে নেননি। এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা বাধ্য হয়েই   বগুড়া শহরে নিয়ে গিয়ে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর   আপোষ করতে রাজি হই আমরা। মেয়ের বিয়ের সময় দেড় লাখ টাকা দিতে চায় আসামীপক্ষ।

এদিকে মামলার তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করতে গেলে শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানকে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন মামলার বাদী। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বগুড়ার পুলিশ সুপারের আদেশে মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) রাতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আহসানুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

বুধবার (২ ডিসেম্বর) ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তিন মাসেও আসামি ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বাদীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

No comments

-->