নতুন প্রকাশিতঃ

পদ্মা সেতু জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক

 পদ্মা সেতু জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক

অনলাইন ডেক্সঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের মিনার। আত্মশক্তি এবং জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক। এ সেতু জাতীর অহংকার। বিশ্বব্যাংকের অনকাঙ্ক্ষিত কথাবার্তার কারণে সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহস করে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। আজ এর সুফল অর্থনীতি ও পুরো জাতি পেতে শুরু করেছে। পদ্মা সেতুর পূর্ণ অবয়ব পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

আতিউর রহমান বলেন, এই সেতু চালু হলে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে দক্ষিণ বাংলার অর্থনীতি যুক্ত হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বেড়ে জাতীয় আয়ে যোগ হবে। কারণ পদ্মা সেতুর সঙ্গে ওই অঞ্চলের অনেক অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে। এই সেতুর কারণে আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বেড়ে যাবে। এশীয় হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এই সেতুর যোগাযোগ।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ বাংলার রাস্তাঘাট, টোলপ্লাজাসহ সবকিছুতে বড় ধরনের উন্নত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এসব উন্নয়ন বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর সুফল পুরোপুরি পেতে হলে দক্ষিণ বাংলায় নেয়া মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। বিশেষ করে মোংলা বন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য প্রকল্পে গতি আনতে হবে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ বাংলার উদ্যোক্তাদের ভেতরে এক ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে কনফিডেন্স তৈরি হচ্ছে। এই সেতুকে ঘিরে শিপ বিল্ডিং, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতের বড় ধরনের বিকাশ ঘটবে। ওই অঞ্চলে গড়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র। ঢাকা থেকে সরাসরি সেখানে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যাবেন। এজন্য স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো দক্ষিণাঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর ভার্স্কয, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা যেতে পারে।

আতিউর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চল থেকে জলবায়ু উদ্বাস্তু অনেকে ঢাকায় চলে আসছেন। কিন্তু করোনায় ফিরে গেছেন বেশির ভাগ। পদ্মা সেতু চালুর পর ফিরে যাওয়া লোকজনের ৫০ শতাংশ আর ঢাকামুখী হবেন না। এতে ঢাকাসহ বড় বড় শহরে মাইগ্রেশনের চাপ কমবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের কৃষি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এজন্য তিনি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য একটি পৃথক প্রণোদনা প্যাকেজ বা চলমান প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সেখানে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ চিকিৎসা, শিক্ষাসহ অন্যান্য সুবিধা নিতে সরাসরি ঢাকায় আসতে পারবেন। এই যোগাযোগের ফলে পুরো দক্ষিণ বাংলার চেহারাই পাল্টে যাবে।

No comments

-->