নতুন প্রকাশিতঃ

বাঘায় মিথ্যা ধর্ষন এবং চাঁদাবাজি মামলা হতে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন!

 বাঘায় মিথ্যা ধর্ষন এবং চাঁদাবাজি মামলা হতে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন! 

বাঘা প্রতিনিধি, রাজশাহীঃ

রাজশাহীর বাঘা থানায় নামের মিল থাকায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। থানার দালাল ও চিহ্নিত প্রতারকের সাথে পূর্ব শত্রুতার জেরে শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় মো: রাব্বি (২৭) নামের এক যুবককে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


শুক্রবার সকাল ১০ টায় বাঘা উপজেলার চক নারায়নপুর গ্রামে ভুক্তভোগী মো: রাব্বি হোসেন, তার বাবা আসাদুল হোসেন (ভ্যাগল) ও চাচাতো ভাই রনি আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।


লিখিত বক্তব্যে রাব্বির ভাই রনি বলেন, আমার ভাই গত ২৫ আগষ্ট তার পাসপোর্ট হারানোর জি.ডি করতে বাঘা থানায় যায়। বাঘা থানার ভিতরে ঢোকার আগ মূহুর্তে এস.আই মোঃ আশরাফ আলী রাব্বিকে জানায় তার সাথে কিছু কথা আছে। পরে সে রাব্বিকে নিয়ে থানার ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে এস.আই মোবাইল ফোনে স্থানীয় প্রতারক মোঃ মাসুদ রানা ওরফে তিলু ল্যাংড়া ( মাসুদ রানা ওরফে তিলু ল্যাংড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী রেলষ্টেশনে ট্রেনে বোমা হামলা ও  গুলি বর্ষন মামলার রায় প্রদানকারী বিচারক রুস্তম আলীর সাথে  প্রতারণা করার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামী ও বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মামলার আসামী ) সাথে কথা বলেন। ফোনে কথা শেষ করে উনি সঙ্গে সঙ্গে আমার ভাইয়ের কোমরের বেল্ট চেপে ধরে এবং আটকে রেখে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেয়।


এস.আই মোঃ আশরাফ আলী ও প্রতারক মোঃ মাসুদ রানার যোগসাজসে আমার ভাইকে বেআইনী ভাবে থানায় আটকে রেখে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দিয়ে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে। রাব্বি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তারা স্থানীয় প্রতারক তিলু ল্যাংড়ার  মাধ্যমে নগদ ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা আশরাফ আলীকে দিতে বাধ্য হয়। আর তাদের দাবিকৃত ৩ লক্ষ টাকা সম্পূর্ণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় চাপ দিতে থাকে। আমার বাবা নিরূপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে আশরাফ আলী তড়িঘরি করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রতারক মাসুদ রানাকে বাদী করে ঐদিন সকাল ১১টার সময় চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।


আমার ভাই দীর্ঘ ৪৯ দিন পরে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে আসে এবং তার কিছু দিন পরে আইজিপি সেলে অভিযোগ করে যাহার স্বারক নাং-৫১৯/২০ (ই-মেইলে)। যার সত্যতা জানার জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর মুহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা বিশেষ শাখা, রাজশাহীতে উপস্থিত হবার নোটিস পায়।


অভিযোগ করার বিষয়টি এস.আই ও মাসুদ রানা জানতে পারলে তারা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর রাত ১১.১৩ মিনিটে ০১৭১২২৮৫২৪০ নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে এবং আমার ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল  সহ সেই গাড়ির পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়। পরে গত ২৪ নভেম্বর সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে বাঘা থানায় একটি ধর্ষন মামলা হয়। আর সেই মামলার মূল আসামী মোঃ রাসেদুল মান্নান রাব্বি, পিতাঃ আজদার আলী, সাং- চক ছাতারী, বাঘা, রাজশাহীর নামের সাথে মোঃ রাব্বি হোসেন মিল থাকায় প্রতারক মাসুদ রানা এবং এস আই আশরাফ আলীর যোগসাজসে বাদীর বক্তব্য উপেক্ষা করে সেই মামলায় আমার ভায়ের নাম ঠিকানা জালিয়াতি করে বসানো হয়।

মামলায় ২ মাস আগের ঘটনা উল্লেখ করা হয় ;  কিন্তু আমার ভাই ২ মাস আগে  তিলু ল্যাংড়া-ই করা অপর মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দী ছিল, ২৪ নভেম্বর সকালে বাদির অজান্তে সত্যিকারের ধর্ষক মোঃ রাসেদুল মান্নান রাব্বি, পিতাঃআজদার (অবঃআর্মি)কে, আড়াল করে আমার ভাইয়ের নাম জালিয়াতি করে  মামলা হয়।


তারা আরও বলেন, আমার ভায়ের সহ-ধর্মিণীর গর্ভে ৭ মাসের সন্তান এবং সে শারীরিক ভাবে অসুস্থ অথচ আজ আমার ভাই থানা পুলিশকে মাদক সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত মানুষদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় একের পর এক মিথ্যা মামলা ঘাড়ে নিয়ে হয়রানির শিকার। আমার ভাই তার অসুস্থ্য স্ত্রীর পাশে নেই। আমি আমার পরিবার এবং আমরা আমার ভায়ের নবাগত সন্তান নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে চাই। আমার ভাইয়ের নামে মিথ্যা মামলা হতে দ্রুত অব্যাহতি চাই এবং আইনের অপ-ব্যবহার করে অর্থ আদায় এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি জানায়।


জানতে চাইলে মাসুদ রানা তিলু বলেন, আমি শুধুমাত্র তার বিরুদ্ধে দেয়া একটি মামলার বাদী, তাছাড়া কোন কিছুতেই আমার সম্পৃক্তা নাই। 


এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি মো: নজরুল ইসলাম বলেন, মামলায় রাব্বি নামে একজনের নাম আছে, তবে সে প্রকৃত আসামী কি না তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে এবং প্রকৃত আসামিকেই আইনের আওতায় আনা হবে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মুখোপাত্র ইফতে খায়ের আলম বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন, তিনি নির্দোষ হলে অব্যহতি পাবেন। কেউ যদি তাকে ফাঁসিয়ে থাকেন, সেটির প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

No comments

-->