শিরোনামঃ

আজ মহান বিজয় দিবস

 আজ মহান বিজয় দিবস


আমিনুল হক,

জাতির পিতা  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর উক্তি " আমাদের কেউ দাবায় রাখতে পারবা না " সত্য প্রমাণিত করে বাঙালি জাতি ২৪ বছরের আন্দোলন,সংগ্রাম  এবং দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লক্ষ শহীদ, অগনিত মা-বোনের সম্ভ্রম আর এক সাগর রক্তের বিনিমেয় বিজয় ছিনিয়ে আনে। নিঃসন্দেহে এ বিজয় আমাদের শ্রেষ্ঠতম অর্জন।


আজ ১৬ ডিসেম্বর আমাদের ৪৯তম বিজয় দিবস।১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল সেটির উদয় ঘটে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১সালে বিকাল ৪ ঘটিকার পর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যে স্থানে দাড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ৭ই মার্চ  স্বাধীনতার ডাক দেন ঠিক সে স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ৯১,৬৩৪ জন সদস্যের পক্ষে জেনারেল নিয়াজি নত মুখে, চারদিকে জয়বাংলা ধ্বনির মধ্যে যৌথবাহিনীর নিকট আত্নসমর্পন করতে বাধ্য হয়।


১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই দিনটিকে বাংলাদেশের বিজয় দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হয় এবং সরকারীভাবে এ দিনটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। পৃথিবীতে মাত্র দুটি দেশ বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র  স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে বিজয় অর্জন করেছে। পৃথিবীর সব স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা দিবস থাকলেও বিজয় দিবস থাকে না। বাংলাদেশ সেই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী দেশ। 


১৬ ডিসেম্বর ভোরবেলা ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের উৎযাপন শুরু হয়।  জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সামরিক কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা যোগ দেন। কুচকাওয়াজের অংশ হিসেবে সালাম গ্রহণ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।


বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে থাকেন।

তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার বিজয় দিবস উদ‌যাপনে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে। থাকছে না অন্যান্য বারের মতো আড়ম্বর আয়োজন। এছাড়া বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না।


যেসব কীর্তিমান মানুষের আত্মত্যাগে এই বিজয় সম্ভব হয়েছিল, বিজয়ের দিনে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এ বিজয়কে অনিবার্য করে তুলেছিলেন, তাঁদের প্রতি জানাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন। 


লেখকঃ

মোঃ আমিনুল হক

বিএসসি (এজি), এমএসসি( সীড টেকনোলজি)

উপ-সম্পাদক

দেশবাংলা খবর ২৪

No comments

-->