নতুন প্রকাশিতঃ

নড়াইলের লোহাগড়ার শহীদ সিপাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আকুতি।

 নড়াইলের লোহাগড়ার শহীদ সিপাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আকুতি।

মো: আজিজুর বিশ্বাস,জেলা প্রতিনিধি,নড়াইলঃ নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মরিচপাশা গ্রামের শহীদ সিপাহী বীরমুক্তিযোদ্ধা শেখ সাহিদুর রহমানের পরিবারের আকুতি। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাহিদুর রহমান ১৯৫৪ সালে লোহাগড়া উপজেলার মরিচপাশা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

 তিনি ১৯৭১ সালে জানুয়ারী মাসে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টার চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ৬ মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য সিপাহী পদে যোগদান করেন।৩ মাস সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বেজে ওঠে বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের দামামা। সেই সময় চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে প্রায় ৪০০ শত যুবক সামরিক প্রশিক্ষণরত ছিল।

 তৎকালীন পাক সামরিক বাহিনীর হাই কমান্ড ভেবে দেখেন, এই বাঙ্গালী সামরিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৪০০ শত যুবককে ছেড়ে দিলে তাদের অনেক সামরিক ক্ষতি হতে পারে। সেকারণে পাক সামরিক কমান্ডারের নির্দেশে ২৫ মার্চ গভীর রাতে সামরিক প্রশিক্ষনরত বাংলার দামাল ছেলেদেরকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেখান থেকে পালিয়ে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেন্ট অফিসার মুঞ্জুরুল আলম (অবঃ) সেদিনের সেই বিভৎস ঘটনার বর্ণনা দিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। 

তিনি বলেন, আমার ব্যাচমেট শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সিপাহী শেখ সাহিদুর রহমানসহ অনেককেই সেদিন পাক হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছিল। পাক হানাদার বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে শহীদদের মৃত দেহ রেজিমেন্টাল সেন্টারের পাহাড়ের পাদদেশে পুতে রাখে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সেনাবাহিনী চট্টগ্রাম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে সেদিনের সেই সকল শহীদদের নাম অঙ্কিত করে সেখানে একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন (নামকরণ করা হয় শহীদদের গণকবর)। 

সেই স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ সিপাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাহিদুরের নামটিও আছে এবং তাকে সেনা গেজেটে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করা হয়। সেনা গেজেট নং-৪৫৭, সেনা নং-৩৯৪১৬৪৬ শহীদ সিপাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাহিদুর রহমান।

সাহিদুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে কথা হলে তার ভাই মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের পরিবারে ৩ জন মুক্তিযোদ্ধা। একজন শহীদ সিপাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাহিদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেন্ট অফিসার আকরাম হোসেন (যুদ্ধাহত), বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন (যুদ্ধাহত)। এই তিনজন জাতির শ্রেষ্ট সন্তানকে স্মরণের জন্য আমাদের পরিবার থেকে নিজস্ব অর্থায়নে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছি। কারণ জাতি তাদেরকে যেন আজীবন স্মরণ করে। আমাদেরকে কোন সরকারি/বে-সরকারি সংগঠন স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণের জন্য কোন অনুদান দেননি। 

শহীদ সিপাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাহিদুর রহমানের পরিবার সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন ও স্মৃতিস্তম্ভটির জন্য আর্থিক সহায়তা এবং এই শহীদ সিপাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাহিদুর রহমানের নামে একটি সড়কের নাম করণের আবেদন জানান।

No comments

-->