নতুন প্রকাশিতঃ

বাড়ছে শীত, কমছে করোনা সচেতনতা।

 বাড়ছে শীত, কমছে করোনা সচেতনতা।

মোঃসোহেল রানা,ঠাকুরগাও প্রতিনিধিঃহিমালয়ের পাদদেশের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতি বছর শীতের আগমন একটু আগেই হয়। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি চিরচেনা এই নিয়মের। বাড়ছে শীত, আর একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কুয়াশা।

আর এই শীত এলেই অসহায় হয়ে পড়ে উত্তর জনপদের এ জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ। লড়াই করেই বাঁচতে হয় প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর নিয়মের সঙ্গে। তবে এবার শীত নিয়ে করোনাভাইরাসের সঙ্গেও লড়াই করাটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই জনপদের মানুষে জন্য।

 গত কয়েকদিন ধরে জেলায় দিনে গরম থাকলেও সন্ধ্যায় বইতে থাকে শীতের হিমেল শিরশিরে বাতাস। রাতভর পড়ছে কুয়াশা। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত দেখা মিলছে না সূর্যের।

শীত ও করোনা সংক্রমণের শঙ্কা দুটোই বাড়ছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভবনা। তবে সেই সঙ্গে বাড়ছে না করোনার সচেতনতা।

সরজমিনে দেখা যায় যে,শীত ও কুয়াশার কারণে কাজ করতে অসুবিধা হওয়ায় অনেকটা বিপাকে পড়েছেন এই জেলার নিম্ন আয়ের তথা খেটে খাওয়া মানুষ। 

কেউ কেউ আবার খড়-কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে করছেন শীত নিবারণের চেষ্টা।শীতের কাপড় পরে হাঁটাচলা করছেন প্রায় সবাই। তবে প্রতি দশ জনের সাত জনের মুখেই নেই মাস্ক। রাস্তার মোড়ে মোড়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা পানির কলগুলোও ব্যবহার করছে না কেউ।

শহরের  বাসিন্দা সুমন হক বলেন, কিছুদিন থেকে বিকেল হলেই শীতের অনুভূতিটা বাড়ছে। তাই শীতের ভারি কাপড় ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে করোনার সংক্রমণের সম্ভবনা বাড়ার আতংকে এখন জনসমাগমে যেতে একটু ভয়ই করছে। আমি সচেতন হলেও অনেকেই অসচেতন। যতটা সম্ভব বাসায় থাকার চেষ্টা করছি।

শহরের চৌরাস্তায় মাস্কবিহীন পথচারীরা অনেকেই করোনা আতংক উড়িয়ে দিয়ে বলেন, করোনা এখন আর আগের মতো নেই। তাই মাস্কের প্রয়োজন মনে করছি না। তবে পকেটে মাস্ক আছে। প্রয়োজনে হলে ব্যবহার করব।

 একজন পথিককে জিজ্ঞেশ করা হলে তিনি জানান,প্রতিবছর শীতের সময় অনেকেই অসুস্থ থাকে। তারওপর এখন করোনাভাইরাস। এনিয়ে অনেক চিন্তিত আছি, না যানি কী  তবে প্রশাসনের পাশাপাশি যদি আমরা সবাই সচেতন হই তাহলে হয়ত আমরা অনেকটাই নিরাপদ থাকব।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মাস্ক বাধ্যতামূলক হতে হবে। যেহেতু শীত পড়েছে সেক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্য নিয়ে সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। আমরা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালসহ উপজেলার সব হাসপাতালে শীতের জন্য অতিরিক্ত করে আরও ৫০টি বেড বৃদ্ধিসহ স্টাফদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২৫ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে। সেগুলো সঠিক বণ্টনের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবারের মতো এবারও অসহায়দের শীত নিবারণের জন্য শীতবস্ত্র তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির সভায় শীত ও করোনাভাইরাস দুটি বিষয়ের ওপর আলোচনা করা হয়েছে। শীতে যাতে করোনার বিস্তার না হয় সেজন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। জেলার করোনা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে এজন্য আমরা প্রতিটি সময় জনগণকে সচেতন করছি। একইসঙ্গে সকলে যাতে মাস্ক পরে সেই বিষয়টিতে আমরা বেশি জোর দিয়েছি। এরই মধ্যে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন এবং যারা এই মাস্ক পরছে না তাদের জরিমানাও করছেন।

No comments

-->