শিরোনামঃ

শীত মৌসুমে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যাস্ত নাটোরে লালপুরের নারীরা!

 শীত মৌসুমে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যাস্ত নাটোরে লালপুরের নারীরা!

মোঃ কামাল মাহমুদ, বাগাতিপাড়া,(নাটোর)প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে শীত মৌসুমের উপাদেয় খাবার কুমড়ো বড়ি তৈরীতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন নারীরা।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম দুড়দুড়িয়া,মনিহারপুর,পাইকপাড়া,বসন্তপুর,বিলমাড়ীয়া,মাধবপুর,মোহরকয়া,মোমিনপুর,সালামপুর,আড়বার,কচুয়া সহ  পার্শবর্তী গ্রামগঞ্জে কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়েছে।মাসকলাই ও চালকুমড়ো দিয়ে কুমড়োর বড়ি তৈরিতে প্রতি বছরের ন‍্যায় করোনা ভাইরাসের ম‍ধ‍্যেও,এ বছরেও গ্রাঞ্চলের নারীদের ব্যস্ততা দেখা মিলছে শীতের সকালে।শীতের হিম শিতল বাতাসে ও প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে সুস্বাদু কুমড়োর বড়ি তৈরীতে ব‍্যস্ত গ্রামের নারীরা।মাসকলাই ভিজিয়ে রাখার পর সেটি দিয়ে ডালের আটা ও পাকা চাল কুমড়ো মিশিয়ে এ সুস্বাদু বড়ি তৈরি করা হয়।গ্রামীণ এলাকার ৯০ ভাগ মহিলা পালাক্রমে একে অপরকে সহযোগিতা করে কুমড়ো বড়ি দেওয়ার/তৈরির  কাজটি করে থাকেন।

অত্র এলাকার নারীরা এই বড়ি তৈরি করতে কয়েক মাস পূর্ব থেকেই চাহিদা মতো চাল কুমড়ো পাকানোর ব্যবস্থা করে থাকেন।এরপর মাসকলাই দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু খাবারের অংশবিশেষ কুমড়ো বড়ি।কুমড়ো বড়ি তৈরিতে মূলত চালকুমড়া এবং মাষকলাইয়ের ডাল প্রয়োজন হয়।মাষকলাইয়ের ডাল ছাড়াও অন্য ডালেও তৈরি হয় এ বড়ি।রোদে মচমচে করে শুকালেই এর ভালো স্বাদ পাওয়া যায়।

বড়ি তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের মনিহারপুর গ্রামের আমেনা বেগম(৩০)জানান,বড়ি তৈরির আগের দিন ডাল ভিজিয়ে রাখতে হয়।এরপর চালকুমড়া ছিলে ভেতরের নরম অংশ ফেলে দিয়ে বাকি অংশ গুলো  মিহিকুচি করে রাখতে হবে। তারপর কুমড়ো খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়া হলে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে বেঁধে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

পরে ডালের পানি ছেঁকে শিলপাটায় বেটে নিতে হবে। এবার ডালের সঙ্গে কুমড়া মেশাতে হবে। খুব ভালো করে হাত দিয়ে মিশাতে হবে যতক্ষণ না ডাল-কুমড়োর মিশ্রণ হালকা হয়।তারপর কড়া রোদে চাটি বা কাপড় বিছিয়ে বড়ির আকার দিয়ে একটু ফাঁকা ফাঁকা করে বসিয়ে শুকাতে হবে। বড়ি তিন থেকে চার দিন এভাবে রোদে শুকানোর পর খাওয়ার উপযোগি হয়,পরে সেটি অনেকদিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়।এ ছাড়াও পাইকপাড়া গ্রামের সালেহা খাতুন জানান,শীতের সময় মূলত বড়ি তৈরি করা হয়।নিজেরা খাওয়াসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও পাঠানো হয়।

বিলমাড়ীয়া এলাকার এক বৃদ্ধ মহিলা জানান,কুমড়োর বড়ি তৈরিতে অনেক পরিশ্রম হয়। রাত জেগে শীলপাটায় কেজি কেজি ডাল বাটা সহজ কাজ নয়। তবুও সুস্বাদু মুখ রোচক খাবার খাওয়ার তাগিদে অনেক কষ্ট করে আমাদের কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে হয়।

শীত মৌসুমে এ বড়ি তৈরি করে নিজেদের প্রয়োজন মিটায়ে বাজারে বিক্রি করলে  কিছু বাড়তি আয়ও করা যায়  বলে জানান কুমড়ো বড়ি তৈরি   করা নারীরা।

No comments

-->