নতুন প্রকাশিতঃ

উদ্দ্যোক্তা হিসেবে সফল সৈয়দপুরের লুনা

 উদ্দ্যোক্তা হিসেবে সফল সৈয়দপুরের লুনা



সৈয়দপুর,নীলফামারী প্রতিনিধি: দ্বীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। নেই পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ। হাতে এখন অজস্র সময়। এসময়টা কাজে লাগিয়ে অনেক শিক্ষার্থীই উদ্দ্যোক্তা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন৷ শিক্ষাজীবনেই স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তেমনি একজন লুৎফুন নাহার লুনা। যার করোনাকালীন সময়ের আগ পর্যন্ত কিছু করার ভাবনা ছিলোনা। অন্য সবার মতো তিনিও পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিলেন। এর বাইরে অনলাইনে অযথাই অবসর সময় কাটাতেন। এই করোনাকালীন অফুরন্ত সময় কাজে লাগানোর প্রয়াস হিসেবে তিনি হস্তশিল্পের কাজ শিখে আলোর মুখ দেখেছেন।


নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার শিক্ষার্থী লুৎফুন নাহার লুনা। বাড়ি সৈয়দপুরের গোলাহাটে। পড়াশোনা করছেন দিনাজপুর সরকারি কলেজে। করোনার কারনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ঘরবন্দী সময় কাটছে। দ্বীর্ঘদিন শুয়েবসে থাকতে থাকতে তিনি তিক্ত হয়ে উঠেছিলেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরনে লকডাউনের শুরুর দিকে বাড়িতে মায়ের কাছ থেকে কারুকাজ শিখেন। একদিন শখের বশে নিজের জন্য একটি জামায় হাতের কাজ করেন। প্রথমবারের মতো নিজের হাতের কাজ করা জামা পরিধান করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেন। সঙ্গেসঙ্গেই ফেসবুক ফ্রেন্ডের দুই-একজন কৌতুহলী হয়ে লুনার কাছে বিভিন্ন ডিজাইনের জামা বানিয়ে নেওয়ার বায়না ধরেন। মূলত তাদের আবদার পূরণের মাধ্যমেই সৈয়দপুরের খুদে এই নারী উদ্দ্যোক্তার পথচলা শুরু।


শূন্য পুজি দিয়ে শুরু করা লুনার ব্যবসায় লাভের মুখ দেখতে খুব বেশি সময় লাগেনি। চলতি বছরের আগষ্টে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই একটার পর একটা অর্ডার পেতে থাকেন। প্রথমদিকে তার এই কাজে পরিবারের সদস্যদের খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও পরবর্তীতে লুনার এগিয়ে যাওয়ার পথে পরিবারই ছিলো সবচেয়ে বড় প্রেরণা। লুনা তার ব্যবসায়িক কাজের প্রচার-প্রচারণার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করেন। ফেসবুকে 'শখ' নামে একটি পেজ খুলে অনলাইনে অর্ডার গ্রহণ করেন। মাত্র দুই মাসের মধ্যে তিনি ৩০ টিরও বেশি অর্ডার ডেলিভারি দিতে সক্ষম হন। তিনি সাধারণত থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও শিশুদের জামায় কারুকাজ করে থাকেন। 


বাংলাদেশের উদ্দ্যোমী নারীদের সবচেয়ে বড় অনলাইন প্লাটফর্ম উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স (উই) থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে উদ্দ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা লুনা তার ব্যবসার শুরু থেকেই ক্রেতাদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করে আসছেন। একারণে ক্রেতাদের চাহিদা সাপেক্ষে বর্তমানে তিনি সেলাই করার জন্য দুইজন কারিগর নিযুক্ত করেছেন। সেই সাথে আশেপাশের নারীদেরও নিজ উদ্দ্যোগে হাতের কাজ শিখিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে শুধু তিনি নিজে নন, বরং পিছিয়ে পড়া প্রতিবেশী নারীরাও আয়ের পথ খুজে পাচ্ছে। 


অল্প কিছুদিনের পথচলায় সাফল্য পাওয়া শিক্ষার্থী লুৎফুন নাহার লুনা দ্বীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চান। জীবন চলার পথে একজন সফল উদ্দ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চান। আর এজন্য তিনি মনস্থির করে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ধীরেধীরে নিজের স্বপ্নের পথে হাটছেন। অদূর ভবিষ্যতে তিনি নিজস্ব কারখানা ও শো-রুম প্রতিষ্ঠা করতে চান। সেই সাথে নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ঘরকুনো নারীদের স্বাবলম্বী করতে চান।


উদ্দ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার ব্যাপারে লুৎফুন নাহার লুনা জানান, 'এই করোনাকালে ঘরবন্দী সময়টা শুয়ে-বসে কাটাতে চাইনি। প্রথম থেকেই কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কি করবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। একদিন শখের বশে নিজের জন্য একটি জামায় কারুকাজ করি। পরে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় এই কাজটাকেই বেছে নেই এবং ধীরেধীরে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পাই।'

সৈয়দপুরের উদীয়মান এই নারী উদ্দ্যোক্তা আরো জানান, 'প্রথমদিকে ব্যবসা নিয়ে আমার সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা ছিলোনা। কিন্তু এখন পড়াশোনার সাথে সাথে আমার ব্যবসাটাকেও বড় করার চেষ্টা আছে। আমি এখন আমার ভাইবোনদের ছোট ছোট আবদারগুলো পূরণ করতে পারি। সত্যি বলতে শিক্ষাজীবনেই উপার্জন করাটা আমার কাছে অনেক বড় একটা প্রাপ্তি।'

No comments

-->